তোমার চুলে জমাট হওয়া
গাঢ় অন্ধকার
সেই আঁধারে মুখ ডুবিয়ে
খুলি হৃদয়দ্বার
Tuesday, May 30, 2017
Saturday, May 27, 2017
অন্ধবাথান
যে জনপদে কোলাহল নেই সে মৃতবৎ ৷
প্রাণের সঞ্জীবনী সঙ্গীতের রণন থাকে না চরাচরে
এখানে দেখি প্রতি সন্ধ্যার উলুময়তার পর
হঠাৎ নেমে আসে নির্লিপ্ত নিঝুম ঝিঁঝিঁর ডাক
আঁধারের আস্তানায় গুঞ্জন থামিয়ে দস্তানা খুলে
হাত বাড়ায় নৈশব্দের দানোজানোয়ার
পড়শির মোকাম জুড়ে ঘুমের সম্মোহন
সব যেন রূপকথার জাদুপুরীর নিস্তব্ধতা
কোথায় হাত বাড়াবো আমি, কোন অন্ধবাথানে?
কালু কামার
কালু কামার ৷ কে কালু কামার? গায়ের রঙ কালো বলে কী কালু কামার? নাকি কালো পাথরের সাথে ছেনিসঙ্গমে জাগিয়েছে প্রাণ তার জন্যে? যে দেবতারা জীবকে সৃষ্টি করে বলে অহংকৃত মিথমগজ জনারণ্যে দাপিয়ে বেড়ায়, সেই দেবতার জন্মদাতা কালু কামার?
এতোবড়ো ধৃষ্টতার জন্যেই ঊনকোটি দেবতারা স্বীকৃতি দেওয়ার সাহস পেলি না তোদের জনককে ৷
পরিচয়হীন কালু কামার ৷ মজাদার বাক্যবন্ধের জন্যে বিখ্যাত যে রমাকান্ত কামার ৷ তেমন কেউও হতে পারল না কালু কামার ৷
যুগে যুগে পাহাড় কন্দরে জন্ম ও লালনে দেবতা গড়ে তোলে তিলে তিলে ঘাম ও রক্তে ৷
নিভৃত লুঙ্গায় মশালের আলোয় আর মশার কামড়ের যন্ত্রণা ভুলে যে দেবকুলকে গড়ে তোলে কালু কামার,
ত্রিভুবনবাসের আভিজাত্যে তারা কালু কামারকে চেনে না ৷ পিতা নেই তাদের ৷ তাদের গোষ্ঠীপতি স্বয়ম্ভুনাথ ৷ ঊনকোটিপতি ৷
কালু কামার আজো সাব অল্টার্ণ একলব্যপ্রতিম ৷
Friday, May 26, 2017
তালুবন্দী
একাধিক ভাষা জানা থাকলে ভাষাশিক্ষার্থীর সামনে পাঠদান খুবই সহজ হয় ৷ ভাষা জানার অভিজ্ঞতাকে আমি ক্লাসে ব্যবহার করে বেশ সুফল পেয়েছি ৷ বাংলা ও তার প্রতিবেশী দু তিনটে ভাষায় আমি মোটামুটি বলা, পড়া আর লেখার কাজ চালিয়ে যেতে পারি ৷ আর বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাংলা আমি যথাযথ বাচনভঙ্গিতে অনায়াসে বলে যেতে সক্ষম ৷ বাংলা ব্যাকরণ পাঠদানের সময় বেশ কার্যকরী ভূমিকাও গ্রহণ করেছে ৷ বিশেষত ভাষাতত্ত্ব পাঠদানের সময় বাংলা বিভিন্ন উপভাষাসমূহের আলোচনার সময় সেগুলোর উচ্চারণ সহযোগে উদাহরণ উপস্থাপন করলে শিক্ষার্থীরা সহজে বিষয়টা বুঝে নিতে পারে ৷
শিক্ষার্থী বাংলার যে অঞ্চলের অধিবাসী হোক না কেন তাকে মান বাংলায় শিক্ষা গ্রহণ করতে হয় ৷ ফলে বিশেষ অঞ্চলে বসবাসকারী শিক্ষার্থী বাঙালি হলেও তার বাংলা শব্দভান্ডার দুর্বল থাকে ৷ মান বাংলায় ব্যবহৃত কোন বিষয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অজানা হলে সেটা বোঝানোর জন্যে তার নির্দিষ্ট আঞ্চলিক বাংলার শব্দভান্ডারের শরণাপন্ন হতে হয় এবং সেখান যথাযথ প্রতিশব্দ নিয়ে সমস্যা নিরসন সম্ভব হয় অর্থাৎ শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট শব্দ চেনানো বা বিষয় বোঝানো সহজ হয় ৷
বাংলা ব্যাকরণে 'বর্ণের উচ্চারণ স্থান' নামে একটা অধ্যায় আছে ৷ সেখানে বাকযন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে জিহ্বার স্পর্শানুযায়ী বিশেষ বিশেষ বর্ণের বিশেষ বিশেষ নাম রয়েছে ৷ সেই অনুযায়ী কন্ঠ্যবর্ণের উদাহরণ হিসেবে ক,খ,গ,ঘ, ঙ কে সহজেই চেনানো বোঝানো যেত ৷ কিন্তু তালব্যবর্ণ, মূর্ধ্যবর্ণকে বোঝাতে বেশ বেগ পেতে হত ৷ দুটোর উচ্চারণ স্থানই আমাদের মুখগহ্বরের ওপরের দিকের শক্ত অংশ ৷ দন্ত্যমূলের পরে যে শক্ত অংশ সেখানে জিহ্বার স্পর্শ পেয়ে উচ্চারিত হয় চ,ছ, জ,ঝ,ঞ ৷ এগুলো তালব্যবর্ণ ৷ আর এই শক্ত অংশের পরে ওপরের দিকের শক্ত অংশে জিহ্বার স্পর্শে উচ্চারিত হয় ট,ঠ,ড,ঢ,ণ ৷ এগুলো মূর্ধ্য বর্ণ ৷কিন্তু পুরো শক্ত অংশ এলাকাকে মান বাংলায় বলা হয় তালু ৷ বিভাজন করলে সম্মুখ তালু ও পশ্চাৎ তালু ৷ কিন্ত সমস্যা হল এই যে, পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন আঞ্চলিক বাংলায় একে তালু বলে না ৷ আর তালু বলে এই অঞ্চলে অন্য তিনটি প্রত্যঙ্গ চিহ্নিত ৷ হাতের চেটো - তালু, পায়ের তলা- তালু আর মাথার ওপরের বহিঃত্বক ৷- তালু ৷ ফলে এ জায়গাটায় এসে শিক্ষারথীরা গুলিয়ে ফেলত ৷ তালব্য বর্ণটা যদিও বা কোনোরকমে বোঝানো যেত ৷ মূর্ধ্য বর্ণে এলে জটিলতা বেড়ে যেত ৷ এক্ষেত্রে আমি একটা মজার চুটকির আশ্রয় নিতাম ৷ গল্পটা এইরকম ৷ নতুন জামাই খেতে বসেছে ৷ শাশুড়ি শুরুতেই ভাতের সঙ্গে দিয়েছেন গরম আলুসেদ্ধ ৷ জামাই ভাতের সঙ্গে আলুসেদ্ধটা মেখে প্রথম গ্রাসটা মুখে তুলতেই গরম আলুসেদ্ধ গিয়ে আটকাল মুখগহ্বরের উপরের অংশে ৷ যন্ত্রণায় জামাই বাবাজি মুখ উপরে তুলে হাঁ করে ছনের ছাওয়া রান্নাঘরের বাঁশের কাঠামোর দিকে তাকিয়ে মুখে হাওয়া টানছে ৷ বুদ্ধিমতী শাশুড়ি বুঝতে পেরে মজা করে জামাইকে জিজ্ঞেস করছেন, উপরের দিকে কী চাইতাছো বাবা ৷ জামাইও সম্বিৎ ফিরে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধিদীপ্ত জবাব দেয়, না মা, দ্যাখতাছি ইডি কোন ঝাড়ের বাঁশ ৷ শাশুড়িও মুহূর্তের মধ্যে জবাব দিলেন, ইডি টাকরাপোড়া ঝাড়ের বাঁশ ৷ আমি বলতাম শিক্ষারথীদের, বুজছো নি ৷ এই টাকরাই হইলো মূর্ধা ৷ জিহ্বা এইখানে ছুঁইয়া যে বর্ণগুলি উচ্চারিত হয় সেগুলি মূর্ধ্য বর্ণ ৷ক্লাসশুদ্ধ হাসিতে ফেটে পড়ে জবাব দিত চিনছি স্যার ৷ সারাজীবনেও ভুলতাম না ৷
Monday, May 22, 2017
এপ্রিল ফুল
মেইলবক্স খুলে দেখতে চাইছি কে আজ বোকা বানাল এদিনে
তেমন কোনো হাস্যকর প্রয়াসের কোনো ছাপ নেই
কেবল পাতার পর পাতা জুড়ে কানার মাতম
অশ্রুসিক্ত ইমোজি সব উঠে আসছে ওস্তাদজির সানাই হয়ে
আর টাইমলাইনের পাতা জুড়ে ঘন ঘন ট্যাগ
ভয়ংকর উল্লাসে ফেটে পড়া সব হিংসাময় সব বসন্তকথা
আমার চারপাশের বাতাস ভারি হয়ে আছে
পঞ্চাশ হাজার মুখের করুণ বৃত্ত প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দুলছে
এ ভূখন্ড সীমিত হওয়ায় কেউই অপরিচিত নয়,
সবারই হাল হকিকৎ জানা ৷ উনিশ বিশ সবাই সমান বিত্তবান ৷
আমার জনপদে এখন মন্বন্তরের নীরবতা নেমেছে
আশাহত কুপিবাতি হাওয়ায় কাঁপছে, কখন বুঝি নিভে যায় ৷
এই অন্ধকারেই দেখি একদল মর্ষমান শরীর ডঙ্কা বাজিয়ে মশালনাচে নেমেছে ৷ কী তীব্র তাদের হল্লাবোল!
ক্রমশ পাথর হয়ে খসে পড়ে যাচ্ছে অজস্র কান্নামুখ
আর উল্লসিত হিংস্র অবয়বগুলো শ্বাপদ হয়ে বেরিয়ে পড়ছে ৷
প্রতিবেশী বলে আর কেউ নেই মানুষের শরীর নিয়ে
লক্ষ্মণরেখার দুইপাশে অসহিষ্ণু খাদক এবং অসহায় খাদ্য
আজ বসন্তপুষ্পের দিনে এভাবেই সাজানো আমার প্রোফাইল ৷
রাই
ডাকব বলে এসেছিলাম ডাকতে পারি নি
মুখের ভাষা বুকেই রইল মনোহারিনী
হৃদয়ে কী আগল ছিল দরজায় ছিল খিল
যমুনার জল সেই শোকেই কী ধরেছে রঙ নীল
ও কিশোরী জানালে না তো কখন যাব আবার
কখন আবার সময় হবে তোমায় কাছে পাবার
হা-হুতাশ বুকের বাতাস লুকিয়ে রাখি তাই
তোমার বুকেই ঘর বানাব ঘর পালানো রাই
ভাষা
দূরের সাম্পান থেকে তোমার উঁকিঝুঁকি আমি তার নাগাল পাই না, কিংবা হদিশ
নৌকোর বুকে লাগা নদীর ছলাত্ছল ঢেউয়ের ইশারায় কী একই ভাষ্যপাঠ