Sunday, July 16, 2017

শ্রাবণ

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

ক্লান্ত আর বৃষ্টিস্নাত রাতে পরিশ্রমী মানুষ
আনন্দ আর মরমিয়া সুরে মনসামঙ্গল গেয়ে চলেছে

মনে হল আজই শ্রাবণ জন্ম নিয়েছে সোঁদা মাটির আঁচলে

তাইতো এই স্বরলিপিতে বেহুলার কান্নাভেজা আর্তনাদ ৷

বিষাদগানের মুখড়ায় আজ পয়লা শ্রাবণ

পরিপাটি বিন্যাসের পর যদি প্রশ্নবোধক হয়ে যায়
স্বপ্নকানাৎ ছিঁড়ে যদি উঁকি দেয় জলকুন্ডলীর কিরণ
গুছিয়ে রাখা সব দস্তাবেজ উড়ে  বানকুরালী হাওয়ায়
সন্ধ্যামালতীর নিঝুম নির্যাসে কিছু বিষাদ মেখে যাবে

সাজানো বাগান নিয়ে বড়াই দীর্ঘকাল ধরে রাখা দায়
কে কখন মুড়িয়ে যাবে প্রহরীবিহীন সিংদরোজা ঠেলে
জোছনা রাতের নিঃসঙ্গ মেঘ সরে যাবে ভদ্রাসন ছেড়ে
চাঁদকে আড়াল করে থমকে দাঁড়াবে অন্ধকারের আশায়

অস্ত্রসম্ভারে যদি সুসজ্জিত হয়ে ওঠে সমস্ত সরল কুসুম
প্রিয়নিলয়ে ঘরোয়া রণবাদ্য শুধু সময়ের অপক্ষায় থাকে
অস্ত্রের মুখে ভালোবাসার ব্যরিকেড হতে পারে মহৌষধি
আদিগন্ত প্রসারিত বাহু উদারবন্ধ আকাশ ছুঁয়ে যাবেই

Saturday, July 15, 2017

এ শহর পাখিদের মুক্তাঞ্চল ৷ এ শহর ফুলেদের নাচঘর ৷ এখানের আকাশ উদোম কিশোর ৷ রাতের তারাদের অ্যাকোরিয়াম ৷ মাঠের ফসল লুটোপুটি খায় আত্মদানের আনন্দে ৷ মন্দিরময় এ শহর যেন সহজ মানুষের হরিবাসর ৷একমাত্র মসজিদটাকেও বুক দিয়ে আগলে রাখে , চিরাগ জ্বালায় এ শহরেরই সব ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ ৷ প্রান্তিকনদী ফেনির ওপার থেকে দখিন সমীরণ বয়ে আনে ওপারের আজানধ্বনি ৷এপার থেকে সংকীর্তনসসুর উত্তুরে হাওয়ায় পাখা মেলে উড়াল দেয় ওপারে ৷ সীমান্তবর্তী হয়েও অসীমান্তিক এ শহর স্বচ্ছতার শহর ৷ মুক্তমনের শহর ৷ বুকের ভেতর স্বপ্ন লালন করে আছে এশহর ৷ কোনদিন উদার আহ্বান জানাবে, 'আজি দখিন দুয়ার খোলা' ৷ 'এসো আমার ঘরে এসো, আমার ঘরে' ৷ এক বিশ্বপ্রেমিক আত্মার বাসভূমি আমার শহর সাব্রুম ৷

Wednesday, July 12, 2017

জ্বর

মাথুরকাঙাল ভাষায় খুলে দেওয়া সব কাঁটাবিষ
ঝরনাপ্রবণ  উচ্ছ্বাসে ঝাঁপ দেবার আদিসূত্র
ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হলে কবিতাও বুঝি থমকে যায়

প্রেমের জন্যে জ্বর হলে দেখি কবিতার বাড়বাড়ন্ত

Wednesday, June 28, 2017

রথযাত্রার উৎস

রথোত্সব বা রথযাত্রার সঙ্গে বহুবিধ লোকসাংষ্কৃতিক বিষয় জড়িয়ে রয়েছে । রথযাত্রা সূর্যপূজারও ইঙ্গিত করে ।সূর্যের সপ্তাশ্ববাহিত রথে পরিক্রমণের কথা মনে করায় । আদিম মানুষ সূর্যকে দেবজ্ঞানে ভক্তি ও পূজা করত । আদিম মানুষ লক্ষ করেছিল সূর্যালোক শস্য উত্পাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজনীয় ।জলবর্ষী মেঘের স্রষ্টা এবং ঋতুচক্রের নিয়ন্তা হল সূর্য । শষ্যোত্পাদনের জন্যে আলো ও জল অপরিহার্য ।  সে হিসেবে রথযাত্রা উর্বরতাকৃষ্টির সঙ্গেও জড়িত । বর্ষার সমাগমে এই উত্সব কৃষিউত্সবেরও রূপভেদ । ঋতুচক্রের পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সূর্যের ভূমিকা প্রধান বলে আদিম মানুষ সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ঋতুউত্সবের আয়োজন করত ।আদিম মানুষের ধারনা ছিল সূর্যকে রথে চড়িয়ে অয়ঃচক্রে পরিভ্রমণ করালে সারা বছর সূর্যের গতিপ্রকৃতি ঠিক থাকবে এবং ফলস্বরূপ কৃষিজ উত্পাদনের সহায়ক ঋতুচক্রের আবর্তনের নিয়মেও কোন হেরফের হবে না ।

Tuesday, June 27, 2017

হে প্রিয়

আমাকে জাগানোর জন্যে তোমার নিদ্রা নেই
হে চিরপ্রণম্য আলোর দেবতা, তোমাতে নত হয়ে
আমি উঠে দাঁড়াই দিনলিপি হাতে নিয়ে
আমার শৃঙ্খলা ও শৌর্যের পাততাড়ি খোলা হয় এবেলা
যতোক্ষণ ডুবে থাকবো কর্মের পরিধির ভেতর
তোমারই অদৃশ্য বীজন আমার ক্লান্তি মুছে যাবে
আমি ভুলে গেলেও তুমি মার্জনার জন্যে
তৈরি থেকো সর্বক্ষণ,হে প্রিয় ক্ষমাসুন্দর

Monday, June 26, 2017

এসো মানুষ, এসো মানবতা


'
'বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি ' হলেও
রক্তবর্ষণে শান্তি অধরা রয়ে যায় চিরতরে
যে রক্তধারা ভিজিয়ে দেয় মৃত্তিকা, যে লোহু করে সর্বহারা
তারই উল্লাস বুঝি সভ্যতার বড়াই, বড়ো গর্ব
কী হিংস্র, কী বীভৎস উল্লাস ঘুম কেড়ে নেয় জনপদের
আবার যেন ফিরে আসে গুহাজীবনের আঁধার
গোষ্ঠীর লড়াই যেন জমির দখলসত্বের জন্যে
তাহলে কারা এতোকাল অজস্র ভালোবাসার বার্তা
পাথুরে পাহাড়ে, ভুর্জপত্রে,কাগজে কিংবা দেওয়ালে
লিখে গেছেন অবিরাম, অবিরত
কী তার প্রতিফলন সভ্যতার কাছে, মানুষের কাছে
কেন আজ হননে মেতে উঠেছে সভ্যতা
কোথায় চাতুরি করেছি আমরা অগ্রজের সাথে, পূর্বপ্রণম্যদের সাথে?
আসুন, আজ আবার এই বাসভূমির রক্তাক্ত কৃত্তির আসনে বসে, প্রিয়জনের লোহিত শরীর সামনে রেখে
মেলে ধরি সমস্ত ধর্ম ও পুরাণ গ্রন্থ
আবার পাঠ করি চেতনার গাঢ় অনুভবে সেইসব আর্ষবার্তা
খুঁজে দেখি নিবিড় চোখে প্রতিটি অক্ষর
মানুষের কল্যাণের কামনায় লেখা যে সব বর্ণমালা
মহার্ঘ সংগ্রহের মতো ছড়িয়ে দিই
আকাশে, বাতাসে, শহরেও জনপদে
হে প্রিয় মানুষেরা, হে সুন্দর অমৃতের সন্তানগণ
শুরু করি আবার ভালোবাসার পাঠ স্বীয় বর্ণমালায়
ভালোবাসার জন্যে, মানবতার প্রচারে হোক আর এক সম্মিলিত অভিযান ৷