Tuesday, November 21, 2017

আরক্তসুন্দর মুখশ্রী - সন্মাত্রানন্দ

আ # ত্রিপুরার ত্রিপুরেশ্বরী
র # চর্যাপদে কৃষিজীবনের চিহ্ন
ক্ # জীবনানন্দের ছায়াশরীরিণী নায়িকা
ও কবিতার অনুভবী পাঠক
ত # গদ্যের গলগথা
সু # ক্রুদ্ধ মনীষীদের আরক্তসুন্দর মুখশ্রী
ন্ #বিবেক-মানসে আবির্ভূত শ্রীরামকৃষ্ণ-প্রণামমন্ত্র
দ # একটি গল্পে ভারতের জাতীয় ইতিহাস
র্ # সারদা দেবী ঃ এই বেদনাক্লিষ্ট পৃথিবীতে
দুঃখজয়ের এক আশ্চর্য অভিজ্ঞান
মু # স্বামী বিবেকানন্দ, একটি নাট্যানুষ্ঠান ও
এক অলোকসামান্যা অভিনেত্রী
খ # Angels Unawares-র ভাবালোকে
স্বামী বিবেকানন্দের জীবনদর্শন
শ্ # বিবেকানন্দের ভাষ্যকার
স্বামী রঙ্গনাথানন্দ
রী # হ্যাঁ, আপনাকে বলছি.......
** প্রণম্য অগ্নির দ্বাদশ শিখার বিস্তার

Sunday, November 19, 2017

বানান বিষয়ক

'তोইছা' না 'তोইসা' ( মানে ছোটো নদী) এর উত্তর খুঁজতে গেলে অনেক পেছনে ভাষাসাহিত্যের ইতিহাস খুঁজতে হবে ৷ আমরা জানি সংস্কৃত থেকে আমাদের অনেকগুলো শব্দ এসেছে ৷ আবার এদেশের বিভিন্ন প্রাচীন জনগোষ্ঠীর অনেক শব্দ সংস্কৃতে প্রবেশ করেছে ৷ যেমন 'মীন' শব্দটি মূলত দ্রাবিড় শব্দ ৷ এরকম মঙ্গোলীয় অনেক শব্দ সংস্কৃতে প্রবেশ করেছে বা বলা যেতে পারে অনেক সংস্কৃত শব্দ মঙ্গোলীয় ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে ৷ কে কার কাছে ঋণী, ইতিহাসের সুদূর অতীত উদ্ঘাটন আজ প্রায় দুঃসাধ্য ৷ 'সা' না 'ছা' কোনটা আগে তা জানতে একটি সংস্কৃত শব্দের কাছে যাচ্ছি ৷ 'বৎস' শব্দের বাংলা অর্থ সন্তান ৷ 'বৎস' শব্দ থেকেই এসেছে ' বাছা' ৷ তার থেকে আদ্যবর্ণ লোপ পেয়ে 'বাছা'৷  তার অর্থও সন্তান ৷ আবার চলতি বাংলা বা আঞ্চলিক বাংলায় 'ছা' ৷ একই অর্থ সন্তান ৷ ককবরকে দেখুন বৎস> বोসা >সা ( বो ছা)  > ছা ৷ একই অর্থ দাঁড়ায় ৷ পক্ষান্তরে ছোটোও বোঝায় ৷ তাই মনে হয় দুটো বানানই ঠিক ৷

বানান বিষয়ক

'তोইছা' না 'তोইসা' ( মানে ছোটো নদী) এর উত্তর খুঁজতে গেলে অনেক পেছনে ভাষাসাহিত্যের ইতিহাস খুঁজতে হবে ৷ আমরা জানি সংস্কৃত থেকে আমাদের অনেকগুলো শব্দ এসেছে ৷ আবার এদেশের বিভিন্ন প্রাচীন জনগোষ্ঠীর অনেক শব্দ সংস্কৃতে প্রবেশ করেছে ৷ যেমন 'মীন' শব্দটি মূলত দ্রাবিড় শব্দ ৷ এরকম মঙ্গোলীয় অনেক শব্দ সংস্কৃতে প্রবেশ করেছে বা বলা যেতে পারে অনেক সংস্কৃত শব্দ মঙ্গোলীয় ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে ৷ কে কার কাছে ঋণী, ইতিহাসের সুদূর অতীত উদ্ঘাটন আজ প্রায় দুঃসাধ্য ৷ 'সা' না 'ছা' কোনটা আগে তা জানতে একটি সংস্কৃত শব্দের কাছে যাচ্ছি ৷ 'বৎস' শব্দের বাংলা অর্থ সন্তান ৷ 'বৎস' শব্দ থেকেই এসেছে ' বাছা' ৷ তার থেকে আদ্যবর্ণ লোপ পেয়ে 'ছা'৷  তার অর্থও সন্তান ৷ ককবরকে দেখুন বৎস> বोসা >সা ( বो ছা)  > ছা ৷ একই অর্থ দাঁড়ায় ৷ পক্ষান্তরে ছোটোও বোঝায় ৷ তাই মনে হয় দুটো বানানই ঠিক ৷

Sunday, November 12, 2017

জীবন মাঝি


গানের ভুবন চষে গেছ নবীন বাউল গানের লোক,
গানেই হবে তোমায় প্রণাম গানেই হবে তোমার শোক ৷
তোমার হাতের মন্দিরাটা বোল তুলেছে মাটির গানে,
তোমার হাতের দোতারাতে সাঁই ফকিরের শব্দ আনে ৷
তোমার যে এক স্বপ্ন ছিল ছড়িয়ে যাবে বাংলা গানে,
হৃদমাঝারে রাখব ধরে ছেড়ে দেবার নেইকো মানে ৷
গানের ফিরি করতে করতে পেরিয়ে গেলে পথের সীমা,
গ্রামের দোয়েল ঠোঁটে তুলতে গ্রাম্য গানের মধুরিমা ৷
কাজ যে অনেক বাকি তোমার অসীমান্তিক গানের হাট,
সে কেন যায় এই অবেলায় গানেই যার দিবস কাটে ?
দিন না যেতেই সন্ধ্যে হল কোন বাউলের কারসাজি,
অসময়ে নোঙর তুলল ভাটিয়ালির জীবনমাঝি ৷
বিচ্ছেদগানে দোহার দিচ্ছে তোমার যতো স্বজনগণ,
গানেই হবে তোমার পূজা গানেই হবে তোমায় স্মরণ ৷

আকাশ-এক


বাঘা যতীন স্টেশনের লাগোয়া সাদা রঙের হাইরাজারগুলো
উঁচুতে উঠছে ৷ বড়ো হয়ে উঠছে ওদের সফেদ শরীর ৷
শুধু মানুষগুলো যতো উপরে উঠছে ছোটো হয়ে যাচ্ছে
আর যেন ছায়া ছায়া কালো হয়ে যাচ্ছে ওদের শরীর ৷

ট্রেন ভরে মানুষ ছুটে যাচ্ছে শহরের দিকে
জীবন জীবিকার খোঁজে রাম ও রহিম একাকার
অথচ এতো এতো লোক কুঁকড়ে গিয়েছে মানুষের দাপটে ৷

ইট পাথরের শরীর সম্মিলিত ভাবে শুভ্র হয়ে
উদার আকাশের কাছাকাছি
লোকাল ট্রেনের চৌদ্দ ভুবনেও
অগণিত মানুষ জড়িয়ে নেবার নিত্যবিধান

ক্রমশ মানুষ ছোটো হয়ে যাচ্ছে ইমারতে উঠে যাওয়া,
ট্রেনের ভেতর দুমড়ে থাকা অন্নকামী মানুষ

হে মুর্শিদ, গ্রাম ও শহরের বিপন্ন মানুষদের আরো বড়ো হবার মন্তর দাও
নিদান দাও বিশ্বাস আর মানবিকতার এই জীবনার্ত মানুষজনকে ৷
এই অসহায় যাপননেবাড়িয়ে দাও বাড়িয়ে দাও আত্মার বিস্তার  আর প্রাণারাম ৷

কলরব

উচ্চকিত কন্ঠ যদি ঠেকে গিয়ে পাহাড়ে

পাহাড় ফিরিয়ে দেয় প্রতিধ্বনি করে

দোসর জুটিয়ে স্বর দশদিক ঘিরে

আওয়াজ বিদ্রোহী হয় সম্মিলিত স্বরে

ওরা কেমন প্রাণ শব্দ সয় না

ধ্বনির উৎসে দেয় অতর্কিত হানা

স্তব্ধ করে টুঁটি টিপে পাশব উল্লাসে

সত্যবাচী স্বর তাই রক্তনদে ভাসে

তবুও সাহস করে জাগে কলরব

মিছিলে ধ্বনিত হয় আসন্ন বিপ্লব ৷

আকাশ - 2

পরিপাটি বিন্যাসের পর যদি প্রশ্নবোধক হয়ে যায়
স্বপ্নকানাৎ ছিঁড়ে যদি উঁকি দেয় জলকুন্ডলীর কিরণ
গুছিয়ে রাখা সব দস্তাবেজ উড়ে  বানকুরালী হাওয়ায়
সন্ধ্যামালতীর নিঝুম নির্যাসে কিছু বিষাদ মেখে যাবে

সাজানো বাগান নিয়ে বড়াই দীর্ঘকাল ধরে রাখা দায়
কে কখন মুড়িয়ে যাবে প্রহরীবিহীন সিংদরোজা ঠেলে
জোছনা রাতের নিঃসঙ্গ মেঘ সরে যাবে ভদ্রাসন ছেড়ে
চাঁদকে আড়াল করে থমকে দাঁড়াবে অন্ধকারের আশায়

অস্ত্রসম্ভারে যদি সুসজ্জিত হয়ে ওঠে সমস্ত সরল কুসুম
প্রিয়নিলয়ে ঘরোয়া রণবাদ্য শুধু সময়ের অপক্ষায় থাকে
অস্ত্রের মুখে ভালোবাসার ব্যরিকেড হতে পারে মহৌষধি
আদিগন্ত প্রসারিত বাহু উদারবন্ধ আকাশ ছুঁয়ে যাবেই