Thursday, March 29, 2018

হো রি


হৃদয়ের রঙে ডোবে হোলির পিচকিরি
আবির কুমকুমে মুষ্ঠি পিরিতি পাততাড়ি

রাঙাবাঁশি প্রিয়নামে ডাকে গোপীজনে
নৌকাডুবি আজ সই যমুনার গহনে

কৃষ্ণের চাতুরি গুণে আবির পরাগ
রাধিকার সম্ভ্রম রাখে ঋতুরক্তরাগ

সেই তো পুরুষ ঢাকে পরমার লাজ
প্রকৃতির বুকে ছোঁড়ে ফাগ ফুলসাজ ৷

Thursday, March 15, 2018

ও চাঁ দ

কে যেন এসে বললো
আমাদের নারকেল গাছের পাতা ধরে
ঝুলছে ভরাট চাঁদ

আমার লোভ হলো
আমি দেখতে গেলাম তোমার উন্মুক্ত ঐশ্বর্য

দেখলাম তুমি আবির ছড়িয়ে দিচ্ছ বসতঘরে

আমি তোমাকে ফাগে রাঙাতে গিয়ে দেখি
কে যেন আগেই তোমার গাল ছুঁয়ে
রাঙিয়ে গেছে তোমাকে

আমার ভীষণ হিংসে হলো

আমার আগে কে রাঙালো তোমাকে, ও চাঁদ

Friday, March 9, 2018

ঘ র

কোন কোন ঘরের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে
যেমন থাকে দক্ষিণের জানলা
আর উত্তরের শিউলি ফুল

সে ঘরে আমার শ্বাসকষ্ট হয় না
সে ঘর ভাঙার প্রস্তাব দিই না আমি

অথচ ঘর ভেঙে যায়
নিত্যের নিয়মে
    
   

Tuesday, February 27, 2018

এসো শান্তি, এসো কল্যাণ

আমি এই সৌন্দর্যের প্রতীক্ষায় থাকি ৷
আমি এই প্রতিবেশীর প্রতীক্ষায় থাকি
আমি সহমর্মীতার প্রতীক্ষায় থাকি
আমি এই অমলিন প্রিয়বোধের প্রতীক্ষায় থাকি ৷
আমি প্রতীক্ষায় থাকি সুজন স্বজনের
এই মধুর প্রতিযোগিতার জন্যে আমি রাত জেগে পাহারা দিতে প্রস্তুত আছি ৷

দেখো নাগরিক রাজনীতিবিদ আর বুদ্ধিব্রতীরা
কী কান্ডটাই না হচ্ছে দক্ষিণের জনপদে
তোমরা একপথের পথিক না হলে
গালাগালিতে ভরে দাও
প্রতিপক্ষের গায়ে থুথু ছিটাবার জন্যে পিচকিরি সাজাও
আর নিজেকে মতাদর্শের শ্রেষ্ঠ সমজদার বলে সমাজমাধ্যমে ঘোষণা দাও ৷

দেখো হে মহানাগরিক, করুণার ভাড়াঘরের অধিবাসী
দখিনা হাওয়া বইছে প্রান্তিক জনপদে
যে হাওয়ায় বিষ নেই ৷ যে হাওয়া স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ ৷

তোমাদের ক্রমাগত প্ররোচনায় যখন মানুষ প্রচন্ড বিষাদগ্রস্ত
তখন মৌসুমি হাওয়ায় উড়ছে শান্তির পতাকা
এখানে আশির দাঙ্গার রক্তাক্ত ক্ষত নেই ৷
এই জনপদ বুদ্ধের শরণাগত
কোকিলও মেতে উঠেছে এই জঙ্গলমহলে বাসন্তী মৌতাতে ৷

এই মহল্লার এবারের বসন্তোৎসব হবে প্রীতির উৎসব ৷ হাতে হাত ধরে ৷
দীন আমন্ত্রণ রইল সাক্ষী হবার জন্যে ৷
(ছবিঋণ  : প্রসেনজিৎ বৈদ্য)

Sunday, February 25, 2018

বি স র্জ ন

ও পথ দিয়ে কদিন যাব না আর
একা দাঁড়িয়ে থাকবেন রবীন্দ্রনাথ
আমাদের মাথার ওপর ছায়া বিছিয়ে দিলেও
ঝড় জলের হাত৷থেকে মুক্তি নেই
তাঁর

ও পথ দিয়ে কদিন যাব না আর
সারি সারি চালাঘরের নিভৃত দীর্ঘশ্বাস
বইয়ের পাতা, শূন্য পেটি, ছেঁড়া চট
বিরহী তাক,খদ্দেরের আশায় দাঁড়ানো
ফ্ল্যাক্সের জৌলুশ গুটিয়ে ঝুলে থাকা
মনকে বাউল করে দিয়ে যে চলে যায় মেঠো আল ধরে ৷

ও পথ দিয়ে কদিন যাব না আর হাজারো অচেনা তরুণীর পায়ের ধুলো
বয়ফ্রেন্ডের কাঁধে হাত রেখে তোলা সেলফি
ভয়হীন ঘোষণার সুযোগ সোস্যাল সাইটে
নির্বাক শব্দ নিয়ে খুঁজবে কবিতার খাতা

ও পথ দিয়ে কদিন যাব না আর
আই জি এমের দেয়াল থেকে যেন
হাজার কোলাহলকবিতা তীব্র প্রতিধ্বনিতে
ফিরে আসবে উমাকান্তের ফাঁকা মাঠে
শুধু মোড়ের ট্রাফিক পুলিশ কদিনের চঞ্চলতা ভুলে
স্থবির হয়ে প্রাণায়ামের সুযোগ পাবে

ও পথ দিয়ে কদিন যাব না আর

স ন দ

উল্টোদেশ থেকে প্রস্তাব এনেছি আমি
সমস্ত রোবকারীতে উলটপুরাণের মোহর
প্রভুর সনদটাকে আঁকড়ে ধরেও করুণাহীন
দলিলে লেখা আমার বরাদ্দ লুব্ধ দালালজীবন
ভর্তুকিজড়িত হালফিলের তিক্ত
খোরপোষ

আমার রিটার্ণ টিকিট কাটা নেই ঊর্ধপদ হেঁটমুন্ডে প্রত্যাবর্তনের

Wednesday, February 21, 2018

সেনানায়ক



তোমার হাতে ধরা মশালের আলোয় / এতোকাল তো পথ চলে এসেছি ৷ / এগিয়ে যেতে যেতে সাবলীল হয়ে গেছে /   মিছিলের পায়ের নিয়ন্ত্রিত দাগ ৷ / মশাল হয়ে যায় সূর্যোদয়ের আবির ৷ /  বুকের ঘুমানো স্বপ্ন ভোরের আলোয় জেগে ওঠে ৷ /

চিরচেনা মশালের আলোতে পথ চলতে গিয়ে /  মাঝে মাঝে নেমে আসে আকস্মিক বিপর্যয় ৷/ দমকা হাওয়া ছুটে আসে প্রান্তর বরাবর /  যেখানে দলে দলে  স্বপ্নীল মানুষ ভোরের আশায় / রাতের সমুদ্র পাড়ি দেয় সংঘবদ্ধ প্রেরণায় ৷/

বাতাসের কাঁপনে যখন দুলে ওঠে মশালের শিখা / তোমার বাবরি চুলের প্রত্যয়ী আন্দোলনের মতো / লড়াকু মিছিলেও তখন দুর্বার সাহস ঢেউ খেলে যায় ৷ / গর্জে ওঠে হাজারো জনতা তোমার গানে / আর নিমেষে ছুঁড়ে ফেলে দেয় ভয়ের অশনি ৷/  জ্বলে ওঠে চোখের ফসফরাস বারুদের মতো ৷/

আজ পশ্চিমের প্রান্তরে যে ঝড়ো সংকেত / যে তীব্র ঝড়ে ওলোট পালোট মহামিছিলের গতি / ছিঁড়ে ফেলছে মালা ও বিশ্বাস ৷সেখানে তোমার /  আগুনের বীণ যেন বেজে ওঠে আরো একবার / সংলাপে যেন সংহতির কথা হয় উচ্চারিত ৷

হাজারো ভীরু বুকের কাছাকাছি থেকে  আর / পায়ে পা মিলিয়ে মাটিকে যদি আঁকড়ে ধরি / তোমার গান আর তসবির যদি সাথে থাকে / জয় আমাদের মুঠোয় আসবে একদিন /  সে স্বপ্ন নিশ্চিত হে কবি ও সৈনিকশিরোমণি ৷