Friday, July 30, 2021

বর্ণমালার জোছনা

বর্ণমালার জোছনা
   অশোকানন্দ রায়বর্ধন

এক.
   মাঝরাতে গাঁয়ের গভীরে কীর্তনের আওয়াজ ভেসে উঠলে শিথিল শরীরে শিহরণ ওঠে । সমস্ত লৌকিক যন্ত্র জড়ো হয় এক উঠোনে । তাদের শরীর কথা কয় সুরেলা ভাষায় । সেখানেও তোমার মকরন্দ ঘ্রাণ । এক একটা ধ্বনি এক একটা ভাষার নিক্কন । সে ভাষা ক্লান্ত গ্রামরমণীর । ও বর্ণমালা !  সে ভাষা পরিশ্রমী প্লাবনকথা । তোমার নিত্যদিনের দারিদ্র্যপাঁচালি । সৃজনরক্তের আদ্যঘ্রাণ সে ভাষায় বেঁচে ওঠে । বৃষ্টিমাখা হলুদ নদী যুবতী হয় । তার উথলানো ভাষায় বেঁচে ওঠে নারী ও নৌকো । জোছনার ডিঙায় শরীর বিছিয়ে দিয়ে  নদীও মানুষী । তার তরল শরীরের নগ্নতায় চলমান জীবনের ফর্দ খুলে যায় । অন্তরের সঞ্চয়মধু কলরব করে ওঠে । আহা ! এক একটা বর্ণ । রৌদ্রের লালনগন্ধে বাতাসের গহনা তার গায় । ওরা মাতে ওঠে হজাগিরি দোদুলে । লোকায়ত নাচের মুদ্রায় চন্দ্রকোটর থেকে দৈবউঁকি দেয় কবিতাকরোটি । চলমান পানশালা মুখর ও মুখরা

পেট্রোল

তেল ফুরোলে লাইন হবে
সুযোগ পেলে ব্ল্যাক হবে
চিরস্থির কবে তেল হায় রে পেট্রোল পাম্পে
************************************
************************************
************************************
সেই ধন্য নরকুলে
লোকে যারে নেপো বলে
মনের মন্দিরে নিত্য দধির স্বপন

গোবিন্দ ধরের জন্মদিনে

আজ তোমার জন্মদিন ৷ পঞ্চাশে পা রেখেছ তুমি ৷ কবিতার বারান্দায় হেঁটে যেতে যেতে তুমি ফিরে ফিরে দেখেছ বাংলাসাহিত্যের লতাবিতান ৷ গোবিন্দ তুমি নিকুঞ্জপথের ধূলিরেখায়  একা কখনও হাঁটতে চাওনি ৷ সাথে নিয়েছ তুমি গোষ্ঠসখাদের ৷ একাকী উত্তরণে তুমি বিশ্বাসী নও ৷ সম্মিলিত শব্দের রাজযোগালিদের নিয়ে চারুনির্মান ৷ তুমি সুন্দর ৷ তাই তোমার নির্মানও সুন্দর হোক তাই তুমি চাও ৷ সকল নবীন সৃজনের প্রকাশস্পৃহাকে তুমি প্রকাশ করে আনন্দিত ৷ আবেগরুদ্ধ ৷ পিতার মতো তৃপ্ত ৷ তাই তুমি প্রকাশকও ৷ প্রতিটি একক ব্যক্তিত্বের মহতী বৈশিষ্টকে তুমি মর্যাদার সঙ্গে মূল্যায়ন করো ৷ অগ্রজজনকে শ্রদ্ধা জানাতে জানাতে তুমিই শ্রদ্ধার যোগ্য হয়ে উঠেছ অজান্তে ৷ তোমার সৃজনের সৌরভ কাঁটাতার ভেঙে ফেলে ৷ দেশকালের সীমানাকে অবলীলায় দুহাতে সরিয়ে দেয় ৷ ছড়িয়ে পড়ে আসমুদ্রসমতট ও গৌড়বঙ্গের জনপদে, অরণ্যে ৷ তোমার চলার পথের দুপাশ থেকে রাশি রাশি উৎসুক হাত এগিয়ে আসে তোমার দিকে করমর্দনের জন্যে ৷
 মানুষ ও মৃত্তিকাকে তুমি কেমন অপার মমতায় ভালোবেসে ফেলো ৷ দেওমনুপলিবিধৌত প্রকৃতির বুকেই তোমার ভালোবাসার নক্সিকাঁথা বিছানো আছে ৷ এখানেই তোমার কবিতাদয়িতা ৷ তোমার সাঁঝসকালের স্বপ্নসুন্দরী ৷ তোমার লেখনইন্ধন ৷ যজ্ঞসমিধ ৷ অর্ধশতাব্দীকাল তোমার নিরন্তর মুগ্ধপর্যটন ৷সামনে আরো, আরো পথ আছে পেরুবার ৷ হেঁটে যাবার ৷ সে পথেই এগিয়ে চলো তুমি ৷ সে পথেই খুঁজে নাও শুশ্রূষা ৷ আরো আরো বহু পল, বহু দন্ড, বহু কাল ৷ নিরবধি এগিয়ে যাও ৷ এগিয়ে চলো ৷

Wednesday, July 28, 2021

জ্বালানি বনাম জ্বলুনি

জ্বালানি বনাম জ্বলুনি

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

নোয়াখালির একটা প্রবাদ আছে  :
ক্ষুধা থাইকলে হুদা অ রচে
ভেঙ্গুলে কামড়াইলে বুইড়গা অ নাচে ৷
এর অর্থ, খিদের পেটে সব্জিহীন অন্নেও অরুচি হয় না ৷ আর ভিমরুলের কামড় খেলে বুড়োকেও নৃত্য করতে হয় ৷ আমারও সেই অবস্থা ৷গতকাল দুপুরবেলা আগরতলার বটতলা থেকে নাগেরজলা স্ট্যান্ডে আসছি হেঁটে ৷ জ্বালানির অভাবে সাব্রুমের দিকে গাড়ি কম আসছে আগরতলা থেকে ৷ পড়িমরি করে ছুটছি বাঁদিকের ফুটপাথ ধরে ৷ ওখানে ফলের দোকানের সারি ৷ তারই একটা দোকান মালিকের গামছার তাড়া খেয়ে উড়ে এসে আমার বাঁ হাতের কব্জির নীচের ফুলো অংশটাতে রাগ ঝাড়ল ৷ সঙ্গে সঙ্গে যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলাম যেন ৷ বুঝে ওঠার আগেই কালাচাঁদ উড্ডীন হলেন আর এক ফল দোকানের দিকে ৷ ততক্ষণে কালার বিষে আমার অঙ্গ জরজর ৷ দেখলাম কোবরেজ বদ্দির অভাব নেই এই ভিড়ে ঠাসা শহরে ৷শুধু ট্রাফিক ছিল না এই ফুটপাথ দখলকারীদের তুলে দিতে ৷ একজন বললেন মধু লাগান ৷ একজন বললেন,  একটা খেজুর লইয়া ডইল্লা দেন ৷ কালহা আমারে ঘাঁই দিছ্ল আমি খেজুর ডইল্লা দিছি অহনে ব্যথা নাই ৷ যে দোকানের সামনে এই ঘটনা সে ভাবলো, তার মাগ্ না একটা খেজুর গচ্চা যাবে ৷ সে মুহূর্তে হা রে রে রে করে উঠল, না না খেজুরে কুছতা অইত' না ৷ ওই পানের দোহানডাত্তে উট্টু চুন লইয়া লাগাইয়া দ্যান ৷ এই কথাগুলোর ফাঁকেই আরএকজন বদ্দি মোক্ষম ঔষধ খুঁজছে এদিক ওদিক তাকিয়ে ৷আরে রাহ' রাহ' উট্টু গুবর লাগাইয়া দিলে ব্যথা- ফুলা একদম কইম্মা যাইবো গ ৷ সে খুঁজছিল শহুরে বেওয়ারিশ ষাঁড়েদের গোবর ৷বলাবাহুল্য সে উপচিকীর্ষুও ব্যর্থ হয় ৷ অগত্যা আমি পান দোকানদারের থেকে একটু চুন নিয়ে লাগিয়ে কিছুটা স্বস্তি ৷ ক্ষতস্থানের রক্তের উপর চুনের পোঁচ লাগিয়ে ভাবছি, লালকে কেন ভয় রে ওভাই বলে গান গাইলেও সাদাও মোটেই ফেলনা নয় ৷ পশ্চিমবঙ্গীয় বন্ধুরা এটা ঠিক বুঝেছেন ৷  আসল কথায় আসছি ৷ দুদিন নিঃসঙ্গ ঘরে বসে অনুভব করছি প্রবাদের মাহাত্ম্য ৷ ঔষধপত্র, ইনজেকশান কিছুকেই তোয়াক্কা না করে এই বরষায় হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে ........, না থাক,  বুড়ো বয়সে আর কথা বাড়াচ্ছি না ৷ দয়া করে পাঠকবর্গ মন্তব্য করলে নাচ থামিয়ে একটু বিরতি নিতে পারব ৷

Sunday, July 25, 2021

মনসার গান

মনসার গান

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

শ্রাবণের কান্নরাতে কাঁপানো মোমউঠোন
যুবতী দুলে দুলে সাপিনীসুরে গেয়ে যায়
মনসার বিলাপি গান । আলোপিদিমে
উজ্জ্বল হয় তার নাকফুল
বেয়ে গড়ানো অশ্রুপ্রপাত । 
ধুয়ার সুরে গলে যায় পদ্মাপুরাণের 
তুলট পাতার শরীর ।

গ্রামশিল্প অবিরাম হৃদয়ের চিঠি ওড়ায়
প্রাচীন ডাকবাক্সের কুঠুরি থেকে ।
এ গানেও কালসন্ধ‍্যার তীব্র দাগ থেকে
মুক্তির জন‍্যে আসরের দোহারেরা 
একসুরে গায়, ওমা বিষহরি–
করতলে এঁকে দাও করোনাবিহীন সকাল‌ ।

চারটি কবিতা

উইকএন্ড কার্ফ‍্যু

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

টারবাইন জীবনেও মাঝে মাঝে বিরতি দিতে হয়
পাহাড়ে মেঘের রাজত্বে রোজকার বন্দীত্ব ছুঁড়ে ফেলে
উদার এবং উদাস হতে মন চায়

মেঘেরা কতো সরল সাদা আর দূরগামী জাহাজ
পাহাড়ের ছাদে ছাদে তাদের যৌথ ভ্রমণ

সপ্তাহে দুটো দিনই তো কেবল মুক্তির ট্রেন
বেহায়া উইকএন্ড কার্ফ‍্যু গিলে খায় সব উল্লাস

নিঃশব্দে রাতের পর রাত পেরোতে হয়
অপর কোনো বিরতির হাটবারের আশায় ।



বর্ষা

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

বর্ষার জল পড়ে জেগে ওঠে গাছপালা,
পাখিদের স্নান, সাপের শঙ্খলাগা,
পাতারা রান্নাবান্নায় মগ্ন সবুজ ক্লোরোফিলে ।

খেতের লাঙলের ফলায় জেগে ওঠে জানকীর মুখ
জান কবুল করে বৃষ্টিতে ভেজে চাষি
ভাতশিল্প রচনার কৌশলে মেলে ধরে মাটির ইজেল

কৃষাণবউয়ের ফেসবুকে অংকুরের আভা
ফসলের আশায় নেভায় রাতশয‍্যার কুপিবাতি ।



লকডাউন

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

সব মিরাক্কেল রসিকতার নয় । মঞ্চের হাসাহাসি
মাটিতে নামলেই জন্ম নেয় একাকীত্বের ।

মানুষ এখন ভীষণ সাহসী পুলিশের তোয়াক্কা করেনা ।
প্রশাসকও ক্রমাগত কড়া লকডাউন লাগিয়ে যায় ।
ডিউটিসফল পুলিশ । চৌমাথায় দাঁড়িয়ে
মোবাইলে পাবজি খেলে কিংবা অন‍্য থানায়
বদলি হয়ে যাওয়া তরুণী সতীর্থের সঙ্গে
ভিডিও চ‍্যাটিংএ গভীর মনযোগী ।

মানুষ মরে আর প্রশাসন হাসে
ভেবোনা, সামনে আরো কঠোর কার্ফ‍্যু আছে ।



জার্নি

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

ভালোবাসি বলেই অ‌পেক্ষায় থাকি
অন্ধকারেও দেখি ওই ডালিমমুখের বিশ্বাস

ভালোবাসা হারায়না ।
বাক‍্যহীন বেড়ে যায় প্রতিটি সুগন্ধী সন্ধ‍্যায়
মৃগনাভির সম্পদ নিয়ে এগোতে থাকে ।

বেলাশেষে যে করুণ আলো দিগন্তে ছড়ায়
তাকে নিয়ে গবেষণা করলে পাই বিদায়ের তর্জমা

অপরপথের পথিক কবিতা দুরপথে সরে যায়
তার কাছে পৌঁছুতে গেলে চাই মায়াশব্দের ছু-মন্তর

অবেলায়ও তোমার শুভনাম নিয়ে আমাদের যৌথজার্নি ।

Friday, July 23, 2021

পুরানো দিনের কথা

ফেনির ইলিশ ৷ ফেনি নদীর গলদা চিংড়ি ৷ 

বলবেন স্বপ্নের কথা ৷ ফেনি নদীতে একসময় ইলিশ এবং গলদা চিংড়ি অবাধে পাওয়া যেত ৷ ফেনি নদীর পাড়ে বসবাস করেন এমন আপনার প্রতিবেশী যে কোন বয়স্ক জনকে জিজ্ঞাসা করলেই সন্দেহমুক্ত হবেন ৷ অন্তত চুরাশি পঁচাশি সাল পর্যন্ত ফেনি নদীতে প্রচুর পরিমানে ইলিশ মাছ এবং গলদা চিংড়ি ( কাঁডা ইচা)  পাওয়া যেত ৷ আমাদের এপারের তরুণ যুবকদের মধ্যে বলেন্দ্র চক্রবর্তী,কানাইলাল নাথ, হীরালাল নাথ, মানিক বসাক, কালাচাঁদ দে, কানাইলাল মজুমদার, মিলন মজুমদার, মিলন মালি, বিভীষণ বড়ুয়া ছোটোখিলের মনোরঞ্জন ভৌমিক, ছানালাল ভৌমিক, জাপান দে,মানিক মালাকার, দুলাল মালাকার, দীপেন আচার্জী, দ্বীপের পাশের পাড়া মজুমদারদের সব তরুণরা,কান্তি ভৌমিক এছাডা় আরো অনেকে রয়েছেন যাঁদের ফেনি নদীতে কাঁডা ইচা এবং ইলিশ ধরার অভিজ্ঞতাও রয়েছে ৷ ছোটোখিলের কালিপদ ভৌমিক তো ফেনি নদীর চরে বালির উপর দৌড়ে দৌড়ে একসময় জাতীয় স্তরে শ্রেষ্ঠ দৌড়বিদের পুরস্কারও নিয়ে আসে ৷ নদীতে যখন ইলিশ মাছ উজায় তখন জলের মধ্যে একটা রেখা তৈরি হয় ৷ সেই রেখা ধরে তীব্র গতিতে এগিয়ে আসা ইলিশ লক্ষ্য করে বালির উপর দৌড়ানো যে কী কষ্ট তাই কালিপদর দৌড় প্র্যাকটিসের সহায়ক হয়েছিল ৷ আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এই কথাগুলো বলছি ৷ আমি জাল দিয়ে মাছ ধরতে পারতামনা ৷ ইলিশ মাছ ধরা হত ছটকি, আধাছটকি জাল দিয়ে ৷ আমি ছিলাম ডুলা ধরন্যা ৷ জাল আলগানো আর ছুঁড়ে মারা আমার অসাধ্য ছিল ৷ তাদের জালে বড়ো বড়ো ঠ্যাংওয়ালা কাঁডা ইচা উঠে আসত ৷ বাজারেও তখন প্রচুর ইলিশ ও গলদাচিংড়ি পাওয়া যেত ৷ আটের দশকে আমার শ্বশুরবাড়িতে অনেকদিনই এখান থেকে ইলিশ মাছ আর গলদাচিংড়ি পাঠিয়েছি ৷ বাইরে থেকে যাঁরা এসে সাব্রুমে চাকরি করে গেছেন তাঁরা আজো স্মৃতিচারণ করেন ৷ একসময় প্রায় প্রতিদিন বাড়িতে ইলিশ মাছ রান্না ও খাওয়ার ফলে থালাবাসনেও ইলিশের গন্ধ লেগে থাকত কদিন ধরে ৷এমনটা যদি সাব্রুমে হয়ে থাকে তাহলে ফেনি নদীর অপর পাড়েও এই প্রাচুর্য ছিল অবশ্যই ৷ মাছ ধরার সুবাদে দুপারের যুবকরা তখন পাড়ে আড্ডাও জমাত ৷ আমাদের ছেলেরা বাংলাদেশের পেপার বাইন্ডেড রমনা বিড়ি এবং স্টার সিগারেট খুব পছন্দ করত ৷ তেমনি ওপারের যুবকদের পছন্দ ছিল পাতা বাঁধানো বিড়ি ৷ সেসব আজ ইতিহাস ৷ একসময় ফেনি নদীর উজানে আমলিঘাটের মেরুকুম পর্যন্ত জোয়ার আসত ৷ জোয়ারকে স্থানীয় লোকজন বলতেন 'সর' ৷ জোয়ারের জলে ভেসে আসত এইসব মাছের সাথে চিড়িং, বাইলা, বাটা, পাবদা, কালিবাউস, আইড় ইত্যাদি মাছ ৷ বর্ষাকালে প্রচুর বোয়াল মাছও পাওয়া যেত ৷ লৌহশলাকানির্মিত কোঁচ, ট্যাঁডা দিয়ে বোয়াল ধরা হত ৷ ছোটোখিলের জগদীশ ভৌমিক, যতীশ ভৌমিক  ও ক্ষিতীশ ভৌমিক এরা তিনভাই এবং সুরেশ দাশ, ননী মজুমদার ট্যাঁডা চালনায় পারদর্শী ছিলেন ৷ মনুঘাটের কাছে কল্যাণনগরের শেষ প্রান্তে সাব্রুম মহকুমার আর একটি নদী মিলিত হয়েছে তার নাম মনু ৷ এই নামে ত্রিপুরায় আরো কয়েকটি নদী ও স্থান আছে ৷ সে অন্য কথা ৷ ফেনি বেয়ে মনু নদীতেও উঠে আসত ইলিশ ও গলদা চিংড়ি ৷ স্মৃতিকে নাড়া দিয়ে গেল খুব ৷