Monday, March 30, 2026

কিংবদন্তী ও স্থাননামে পিলাক প্রসঙ্গ

কিংবদন্তী ও স্থাননামে পিলাক প্রসঙ্গ 

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ি সন্নিহিত প্রত্নভূমি পিলাক । এই পিলাকের বুকে অসংখ্য গণপতি, বিষ্ণু, সূর্য, শিব ও শক্তি মূর্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে । মনে হয় যেন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিংবা বিরুদ্ধচারী কারো হাতে এগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে । দীর্ঘদিন এগুলো লোকচক্ষুর গোচরে আসেনি । ত্রিপুরার রাজন্যইতিহাসের আধার রাজমালা ও এ বিষয়ে নিশ্চুপ । পরবর্তী সময়ে সমরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা, প্রিয়ব্রত ভট্টাচার্য, দীপক ভট্টাচার্য, ড. রঞ্জিত দে, আশীষ কুমার বৈদ্য প্রমুখ লেখকদের লিখিত গ্রন্থসমূহে ও অন্যান্য কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন রচনায় এর উপর কিছুটা আলোকপাত হয় । বিস্তৃত গবেষণামূলক কাজ এখনো শুরু হয়নি । আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বর্তমানে এই এলাকায় কিছু খোঁড়াখুড়ি করে বেশ কিছু পরিমাণে প্রাচীন মূর্তি ও টেরাকোটার কাজ ইত্যাদি উদ্ধার করেছেন । বহু আগে থেকেই এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পিলাকের বহু মূর্তিই ইতোমধ্যে উধাও হয়ে গেছে । এখনো অনেক মূর্তি বেওয়ারিশভাবে সারা এলাকার এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে । অথচ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে এই মূর্তিসমূহের মূল্য কি অসীম !

একথা অনস্বীকার্য যে, পিলাককে কেন্দ্র করে এখানে প্রাচীন সমৃদ্ধ জনপদ ছিল যার প্রাচীনতা এখানকার প্রাপ্ত মূর্তিসমূহেই প্রমাণিত হয় । বৌদ্ধ নিদর্শনসহ হিন্দু ধর্মধারার বিভিন্ন রূপ বিবর্তনের প্রভাব এই ভাস্কর্যসমূহে রয়েছে । সৌর,গণপত্য, বৈষ্ণব শৈব ও শাক্তধারার সঙ্গে বৌদ্ধসংস্কৃতির সমন্বয়ে সৃষ্ট এক মিশ্রসংস্কৃতির নিদর্শন এই পিলাক  সংস্কৃতি । মূলত প্রত্নভূমি পিলাকের ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণ ও এই মিশ্রসংস্কৃতিকে পুষ্ট করতে সহায়তা করেছে । একদিকে বিশাল বঙ্গ সমতট, অন্যদিকে আরাকান, বার্মার সঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে যোগাযোগ এখানকার সংস্কৃতিতে ছাপ ফেলেছে ।

পিলাকের ইতিহাস এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয় এ প্রবন্ধের উপজীব্য নয় । এ দুটোই বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে সঠিক তথ্য উদঘাটনে সহায়তা করে । এছাড়াও লোকসংস্কৃতিকেন্দ্রিক কিছু কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে অনেক ঐতিহাসিক উপাদান লুকিয়ে থাকে । সেকারণে লোকসাংস্কৃতিক বিষয়াবলিও অনেক সময় লুপ্ত ইতিহাসকে উদঘাটনে সহায়তা করে । কোন স্থানের প্রাচীন ইতিহাসগত তথ্য আহরণের ক্ষেত্রে সেখানে বসবাসকারী প্রাচীন কোনো অধিবাসীদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কিংবদন্তী, পুরাকথা লোককাহিনি, স্থানের নামবিবর্তন, ইত্যাদিকেও অনুষঙ্গ করে অগ্রসর হতে হয় ।

বর্তমান প্রবন্ধে এধরনের সামান্য কিছু লোকসাংস্কৃতিক বিষয়কে আধার করে পিলাকসংস্কৃতির উপর কিঞ্চিৎ আলোকপাতের চেষ্টা করা হচ্ছে । এ অঞ্চলে যে প্রাচীন জনগোষ্ঠী বসবাস করেন তাদের অধিকাংশই স্থানীয়ভাবে 'মগ' নামে পরিচিত । আমাদের প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে 'মগ' নামে একদল ভয়ংকর জলদস্যুর উল্লেখ আছে ।  যারা আরাকান প্রদেশ থেকে বাংলাদেশের সমুদ্র ও নদীতীরবর্তী জনপদ সমূহে অত্যাচার লুণ্ঠন ইত্যাদি কার্য চালিয়ে কুখ্যাত হয়ে আছে । কিন্তু এখানে যাদের 'মগ' বলে অভিহিত করা হয় তাঁরা কিন্তু এ ধরনের ঐতিহাসিক সত্যকেও নস্যাৎ করেন এবং তারা নিজেদেরকে 'মগ' নামে পরিচয় দিতেও অস্বীকার করেন । প্রসঙ্গত, এখানে একটি সত্যি কথা উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ ত্রিপুরা ও ত্রিপুরার অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী যে জনজাতিকে আমরা 'মগ' নামে চিহ্নিত করি তাঁদের মধ্যে ইতিহাসকথিত মগ জলদস্যদের মতো কোনো হিংস্রতার লক্ষণই দেখা যায় না । বরঞ্চ ভগবান তথাগত বুদ্ধের শান্তি, মৈত্রী ও করুণার মন্ত্র দীক্ষিত হয়ে তাঁরা অত্যন্ত সরল সাদাসিধে এবং নিরীহ জীবনযাত্রা অতিবাহিত করেন । এই জনজাতিগোষ্ঠী যেখানেই বাস করছেন সেখানেই বাঙালিসহ অন্য আরো কয়েকটি জনজাতি গোষ্ঠীর লোকও পাশাপাশি বাস করতে আজও দেখা যাচ্ছে ।  বিভিন্ন জনজাতিগোষ্ঠীর পাশাপাশি অবস্থানের এই ইতিহাস ত্রিপুরাতে ঐতিহ্যগতভাবেই প্রাচীন । সম্ভবত আরাকানি জলদস্যদের সঙ্গে দৈহিক সাযুজ্য লক্ষ্য করেই এই জনজাতীয় গোষ্ঠীকে সমতলঅংশের জনগোষ্ঠী 'মগ' বলে অভিহিত করে গুলিয়ে ফেলেছেন অথবা এই জনগোষ্ঠীর লোকেরাও আরাকান থেকে এসেছেন বলে মগ জলদস্যদের সঙ্গে এদের ভাষাগত সামঞ্জস্য থাকার কারণে ও তাদের 'মগ' বলে অভিহিত করা হয়ে থাকতে পারে ।

স্থানীয়ভাবে যাদের 'মগ' বলা হয় তাঁরা নিজেদের আরাকানি বলে পরিচয় দিতে বেশি গর্ববোধ করেন । এই আরাকানিদের বিভিন্ন গোত্র আছে । তাঁদের মধ্যে মূল আরাকানে যারা বাস করেন তাঁরা নিজেদেরকে রখইঙসা বা রখইঁসা বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন । এই রখইঙ থেকে রখইঁ > রখঙ > রাহাঙ > রোসাঙ ও রোহাঙ শব্দের উৎপত্তি । আরাকানের প্রাচীন রাজবংশের নাম রোসাঙ তো বাংলাসাহিত্যের ছাত্রমাত্রই জানেন । এছাড়া তাদের আরেকটি গোত্রের নাম খিয়ঙসা বা খ্যঙসা । খিয়ঙ বা খ্যঙ  শব্দের অর্থ হল নদী এবং সা শব্দের অর্থ সন্তান । অর্থাৎ এই গোত্রের লোকেরা হলেন নদীতীরবাসী । এরকম তাঁরা বিভিন্ন পর্বত নদী ইত্যাদির নাম নামে তাঁদের গোত্রের নাম রাখেন । এই গোত্র সমূহের মধ্যে প্লেঙসা, ক্যেয়ফিয়াসা, রেঙব্রিসা, প্লেঙয়িঁসা ইত্যাদি আরো অনেক গোত্রের নাম পাওয়া যায় । পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে এই জনগোষ্ঠীর লোকেরা বহু প্রাচীনকাল থেকে বসবাস করে আসছেন । পূর্বকথিত মগজলদস্যুদের সঙ্গে এদের এক করে না দেখলে তাদের রাজ্যের আগমন আরো প্রাচীন । একটি ঐতিহাসিক মত থেকে জানা যায় যে প্রাচীন চট্টগ্রাম ও ত্রিপুরার চন্দ্রবংশীয় রাজারা আরাকানের চেন্দ্রা রাজবংশের সঙ্গে সম্পর্কিত । ১৯৫৪ সালে কুমিল্লার চারপত্রমুড়াতে চন্দ্ররাজাদের তিনটি তাম্রশাসন পাওয়া যায় । তা থেকে চন্দ্রবংশীয় নৃপতিদের পরিচয়ও জানা যায় এ বংশের সাতজন নৃপতি দশম শতক থেকে  একাদশ শতক পর্যন্ত সমতটে রাজত্ব করে গেছেন । তাঁদেরই কোনো গোষ্ঠী ত্রিপুরারাজ্যের দক্ষিণপ্রান্তে তাদের রাজ্যপাট বিস্তার করেও থাকতে পারেন । সাব্রুম ও বিলোনিয়া মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বহু প্রাচীনকাল থেকেই এই জাতি গোষ্ঠীর বাস । অনেক প্রাচীন জনপদ তাঁদের হাতেই গড়ে উঠেছে আবার অনেক জনপদ থেকে তাঁরা সরে গিয়ে সেই জনপদকে শূন্য করে দিয়েছেন বা সেইস্থান নতুন জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে । 

সাব্রুম মহকুমা ও তৎসন্নিহিত জোলাইবাড়ি, বাইখোরা ইত্যাদি অঞ্চলে আলোচ্য জনগোষ্ঠীর যে গোত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, জানা গেছে তারা প্লেঙসা গোত্রের । এছাড়া বিলোনিয়া অঞ্চলে যাঁরা আছেন তাঁরা খিয়ঙসা  বা খ্যঙসা গোত্রের এবং বীরচন্দ্র মনু ও তৎসম্নিহিত অঞ্চলে ক্যেয়ফিয়াসা গোত্রের লোকেরা বাস করেন বলে জানা গেছে । এক সময়ে পিলাক অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় মগদের বসবাস ছিল  প্লেঙসা গোত্রভুক্ত মগ রাজাদের রাজধানী ছিল বলেও তাদের মধ্যে কিংবদন্তি আছে । নদীর সঙ্গে বা পাহাড়ের সঙ্গে যেমন এই জনগোষ্ঠীর গোত্রসম্বন্ধ আছে তেমনি এই জনগোষ্ঠীর অধ্যুষিত জনপদের ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের দিকে লক্ষ্য করলেও এই বিষয়ের মধ্যে একটি সুক্ষ্ম সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় । সাব্রুম-বিলোনিয়ার মনুবনকুল, ছোটখিল, দৌলবাড়ি, বৈষ্ণবপুর, পিলাক, দেবদারু, জোলাইবাড়ি, বাইখোরা, লাউগাঙ, বীরচন্দ্র মনু এমনকি লংথরাইভ্যালির কুলাই, আমবাসা, বলরাম প্রভৃতি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাদের ব্যাপক বসবাস লক্ষ্য করা যায় । এইসব অঞ্চলের প্রাকৃতিক গঠন সর্বত্রই সুউচ্চ পাহাড়বেষ্টিত উপত্যকার ন্যায় । এই উপত্যকার মধ্য দিয়ে অবশ্যই একটি বা একাধিক জলধারা প্রবাহমান আছে । ত্রিপুরার প্রায় প্রতিটি মগ অধ্যুষিত পল্লীতে এই সাদৃশ্য চোখে পড়ে । সেই হিসেবে তাদের বাসস্থান বেছে নেওয়ার যে লৌকিক সংস্কার তার সঙ্গে তাদের গোত্রসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায় । এই তথ্যটি থেকে এমন একটি সিদ্ধান্তে আসা যায় যে পিলাক অঞ্চল সুপ্রাচীনকাল থেকেই বিস্তীর্ণ মগ অধ্যুষিত জনপথ ছিল । কারণ পিলাকও চারিদিকে সুউচ্চ পাহাড়বেষ্টিত বিশাল সমতল উপত্যকাভূমি । তাহলে তাদের কিংবদন্তির কিছুটা স্বাক্ষর এখানে পাওয়া যায় ।

পিলাক অঞ্চলের যেসব মুর্তি পাওয়া যায় সেগুলো নাকি 'প্লেঙসা' রাজা করিয়েছেন । এসম্বন্ধে একটি প্রাচীন উপকথা এই গোত্রের মানুষদের কাছে থেকে পাওয়া গেছে । 'প্লেঙ' রাজা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী । তিনি যে সময়ে রাজত্ব করতেন তখন পার্শ্ববর্তী সমতল এলাকায় বিভিন্ন বৌদ্ধধর্মকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল । বাংলাদেশের 'কোলা' রাজাও তাঁর পূর্ববর্তী রাজাদের অনুকরণে বিভিন্ন স্থানে বহু মূর্তি নির্মাণ করেন এবং বৌদ্ধবিহার স্থাপন করেন । প্লেঙরাজা তীর্থ ভ্রমণ থেকে ঘুরে এসে নিজের রাজ্যেও মূর্তিস্থাপন এবং বৌদ্ধবিহার নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন । তিনি জেনে এসেছেন যে কোলারাজ্যে এ বিষয়ে দক্ষ শিল্পী আছে । তিনি কোলা রাজ্যের কাছে মহার্ঘ শ্বেতহস্তী ভেট পাঠিয়ে তাঁর আর্জি পেশ করলেন । তখন কোলারাজ তার রাজ্যের দক্ষ একজন তরুণ ভাস্করকে প্লেঙরাজের রাজ্যে পাঠিয়ে দিলেন। ভাস্কর এসে রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁর নির্দেশমতো বিভিন্ন দেবদেবী ও বুদ্ধের বিশাল বিশাল মূর্তি নির্মাণ করতে আরম্ভ করলেন । খেয়ালি রাজা তো নির্দেশ দিয়েই খালাস । তিনি আর খোঁজ নেওয়ারও সময় পেলেন না তরুণ ভাস্কর মূর্তি তৈরি করছে কিনা । একবছর ধরে টানা পরিশ্রম করে ভাস্কর বিশাল মূর্তির ভান্ডার গড়ে তুললেন । সমস্ত মাঠ জুড়ে মুর্তি জড়ো হয়ে গেল । অথচ মূর্তিগুলো কোথাও স্থাপনের ব্যবস্থা হচ্ছে না ।

এদিকে ঘটল আরেক ঘটনা । প্লেঙ রাজার তরুণী কন্যা একদিন ভ্রমণে বের হয়ে মাঠের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ মূর্তি দেখে অভিভূত হয়ে গেলেন । তিনি দেখতে চাইলেন ভাস্করকে । তাঁর সঙ্গিনী সখীর সঙ্গে তিনি গেলেন যেখানে ভাস্কর ধ্যানমগ্ন হয়ে পাথরের বুকে খোদাই করে চলেছেন অপূর্ব সব মূর্তি । রাজকন্যা ভাস্করের শিল্প সুষমা দেখে অভিভূত হয়ে গেলেন । প্রাথমিক পরিচয়ের পর রাজকন্যা আবদার করে বসলেন ভাস্করের কাছে,  তাঁর মূর্তি যেন গড়ে দেন ভাস্কর । কাজের ফাঁকেই ভাস্কর চোখ তুলে চাইলেন । তাঁর হাতের ছেনি যেন কেঁপে উঠল !  ভাবছেন তিনি পারবেন কি এই অগ্নিপ্রতিমার প্রতিকৃতি গড়তে ! তিনি নিষ্পলক তাকিয়ে আছেন রাজকন্যার দিকে । রাজকন্যা বোধহয় লজ্জিতা হলেন । চোখ নামিয়ে নিলেন ভাস্করের চোখ থেকে । তাহলে আমার প্রতিকৃতি গড়বেন না, ভাস্কর ? রাজকন্যা প্রশ্ন করলেন । সম্বিত ফিরে পেয়ে ভাস্কর চোখ নামিয়ে নিলেন । জবাব দিলেন, পারব না কেন, পারব । তবে প্রতিদিন যে আপনাকে এখানে আসতে হবে । আমার কাজের সময় সামনে এসে দাঁড়াতে হবে আপনাকে ।  আপনাকে দেখে দেখে আমি পাথরে খোদাইর কাজ করব । অনেকদিনের পরিশ্রম । সে সময় কি আপনার হবে ? রাজকন্যা বললেন, কি হয়েছে তাতে ।  আমি তো প্রতিদিনই বৈকালিক ভ্রমণে বের হই । সেই সময়টা না হয় আপনার এখানেই কাটাব । রাজি হয়ে গেলেন শিল্পী ।

তারপর শুরু হল প্রতিদিন বিকেলে রাজকন্যার শিল্পীর কাছে আসা । শিল্পীও রাজকন্যার চরণদ্বয় থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বাঙ্গের অনুকরণে পাথরের বুকে ছাপ ফেলতে শুরু করেন । রাজকন্যার নিরাভরণ অঙ্গসৌষ্ঠব ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে আর শিল্পী করে চলেছেন খোদাইকর্ম । ইদানিং শিল্পী এই প্রতিকৃতির দিকেই যেন বেশি নজর দিচ্ছেন । দিনের সারাসময় আর কোনো কাজ করছেন না । যতটুকু কাজ এগোয় সেই নিরাভরণ নগ্ন প্রতিকৃতির দিকে অপলক তাকিয়ে কি যেন ভাবেন শিল্পী ! চঞ্চল হয়ে ওঠে তাঁর মনটা, কখন দিন গড়িয়ে বিকেল হবে । রাজকন্যার মনেও চলে তোলপাড়। শিল্পীর সামনে দাঁড়ানো যেন তাঁর একটা নেশায় পরিণত হয়েছে । বিভিন্ন বিভঙ্গে দাঁড়ানোর জন্য শিল্পী যখন তাঁর অঙ্গ স্পর্শ করেন তখন এক অনাস্বাদিত শিহরণ অনুভব করেন রাজকন্যা ।

সেদিনও এসে দাঁড়িয়েছেন রাজকন্যা শিল্পীর সামনে । অত্যন্ত সূক্ষ্ম তন্তুজালে প্রস্তুত তার পোশাকে দেহের সৌন্দর্য প্রকটিত । শিল্পী কাছে এসে দাঁড়ান । যেন বাঁধভাঙা জ্যোৎস্না নেমে এসেছে মাটিতে । শিল্পী ভাবছেন তিনি কি ফুটিয়ে তুলতে পারবেন এই সৌন্দর্য ? তবুও শিল্পী প্রতিদিনের মতো রাজকন্যাকে স্পর্শ করে শৈল্পিকভাবে স্থাপন করছেন তাঁর বাহুযুগল, গ্রীবাদেশ । রাজকন্যার শরীরে যেন কেমন কম্পন অনুভূত হচ্ছে । স্বেদবিন্দু ফুটে উঠেছে  কপালে । পয়োধর ছোটো পাখির শরীরের মতো তিরতির করছে । মুহূর্তের রাজকন্যা বলে উঠলেন, আহ্, শিল্পী !  আপনার কি অসুবিধে হচ্ছে আমার পোশাকে ? এই আমি সরিয়ে নিলুম পোষাক । রোজ রোজ একটু একটু করে উন্মোচন করার চাইতে আমার সম্পূর্ণ সৌন্দর্যকে আপনি যথেচ্ছ ব্যবহার করুন । সমুদ্রের ঢেউ তুলে সৌন্দর্য যেন আছে পড়ল শিল্পীর সামনে । শিল্পী আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না । এক জীবন্ত শিল্পসত্তায় পরিণত হল দুটো শরীর ।

এভাবে শিল্পকর্মের ফাঁকে ফাঁকে আদিম শিল্পকলায় মত্ত হল দুটি মন । তারা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলল । এদিকে অন্যান্য মূর্তির পাশাপাশি রাজকন্যার নগ্ন প্রতিকৃতিও তৈরি করে ফেললেন শিল্পী । শুধুমাত্র মুখের অংশটি প্রস্তুত করা বাকি । এরই মধ্যে একদিন রাজার মনে পড়ল মূর্তি তৈরির ফরমায়েশের কথা । ভাস্করের কথা । তিনি ছুটে গেলেন পারিষদসহ ভাস্করের কাছে । সারা মাঠময় ভাস্কর্যের নিদর্শনরাশি দেখে তিনি অভিভূত হয়ে গেলেন । কিন্তু এতসব দেবদেবীর প্রতিমার মাঝখানে শিল্পীর গৃহে এক নগ্ন নারী মূর্তি দেখে রাজা বিস্মিত হয়ে গেলেন । রাজা জানতে চাইলেন এর কারণ । শিল্পী বললেন, তিনি কাজের ফাঁকে ফাঁকে অবসর সময়ে এই কাজ করেছেন । রাজা নিতে চাইলেন এই প্রতিকৃতিটি । বললেন প্রতিকৃতির মুখ সম্পূর্ণ করার পর যেন এটি তাঁর প্রাসাদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিল্পী ইতস্তত করছেন । রাজা ভাবলেন শিল্পী হয়তো এর জন্য আলাদা পারিশ্রমিক চাইছেন । রাজা তাও দিতে চাইলেন ।  শিল্পী জানালেন, না মহারাজ, তা নয় । এতে আপনার অমঙ্গল হবে । এই প্রতিকৃতি আপনি নেবেন না । রাজা বললেন সে দেখা যাবে । তিনি প্রস্থান করলেন ।

এদিকে রাজঅন্তঃপুরে কানাঘুষা শুরু হয়ে গেছে । রাজকন্যা অন্তঃস্বত্ত্বা হয়েছেন । কুমারী অবস্থায় অন্তঃস্বত্ত্বা  ? সাংঘাতিক ব্যাপার ! রাজপরিবারের মান-সম্মান যায় । কথাটা মহারানীর কান হয়ে রাজার কানেও এসে পৌঁছেছে । রাজা তাঁর অনুচরদের নির্দেশ দিলেন এর উৎস সন্ধানের । কারণ রাজকন্যাকে জিজ্ঞেস করে কোন সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না ।

এরই মধ্যে শিল্পীর বিদায়ের সময় এল। দীর্ঘদিন তিনি প্রবাসে কাটিয়েছেন । ঘরে ফেরার জন্য মন কেঁদে উঠছে অথচ রাজকন্যার কথা ভাবলে তিনি নিজেকে সামলে রাখতে পারেন না । রাজকন্যাও এখন আর নিয়মিত আসতে পারেন না । লোকচক্ষুর আড়ালে মাঝেমধ্যে তাদের দেখাসাক্ষাৎ হয় । তাঁদের গোপন প্রণয়ের কথা এখনও কেউ না জানলেও রাজকন্যা যে মা হতে চলেছেন তা নিয়ে রাজ্য জুড়ে তোলপাড় চলছে । রাজকন্যা সে সংবাদ দিতেও ভুলেন না শিল্পীকে ।

রাজা একদিন শিল্পীর কাছে লোকজন পাঠালেন এই নগ্নিকা মূর্তিটি রাজসভায় উপস্থিত করার জন্য । রাজাদেশ । কি আর করা যাবে । বাধ্য হয়ে শিল্পী মূর্তিটি পাঠালেন রাজসভায় । তবে তিনি মূর্তির মুখটি ভালো করে ঢেকে দিলেন । রাজসভায় আনার পর মূর্তিটির গঠনশৈলী নিয়ে রাজসভার বিদগ্ধ মহলে উচ্চ প্রশংসার ঝড় বয়ে গেল । সকলের অনুরোধে রাজা স্বয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিকৃতির মুখের আবরণ উন্মোচন করলেন । মুহূর্তের সমস্ত রাজ্যসভা চিৎকার করে উঠল, এ যে আমাদের রাজকন্যা ! অসম্ভব ক্রোধে লজ্জায় ঘৃণায় রাজা মুখ ঢাকলেন । চিৎকার করে উঠলেন, সরিয়ে নাও এটাকে ।

রাজা ও রাজসভার বুঝতে বাকি রইল না রাজকন্যার অন্তঃস্বত্ত্বা হওয়ার অন্তরালের কাহিনি । রাজা বিচারসভায় বসলেন রাজ্যের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে । তাঁদের বিচারে ভিনদেশী শিল্পী দোষী সাব্যস্ত হলেন । তাঁদের সমাজের নিয়ম অন্য জনগোষ্ঠীর মানুষের দ্বারা তাদের নারীর ইজ্জত লুণ্ঠিত হলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড । শাস্তির ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে দ্বিমত দেখা দিল । এই তরুণ এখন যে তাঁদের অতিথি । তাঁরা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত । অতিথিকে আরাধ্য দেবতা জ্ঞান করেন । তা বলে অতিথির অন্যায় তো সহ্য করা যায় না । কেউ কেউ আপত্তি তুললেন । ফলে সিদ্ধান্ত হল, মৃত্যুদণ্ড নয় । শিল্পীর দুটো হাত কেটে দেওয়া হবে । যাতে তিনি জীবনে আর ওই শিল্পকর্ম করতে না পারেন । রাজকন্যা আড়াল থেকে সব শুনলেন । তিনি ছুটে গেলেন শিল্পীর কাছে বললেন, তুমি পালাও, শিল্পী ! শিল্পী অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন । বললেন, না আমি যাব না তোমাকে ফেলে । যা হবার হোক । তাছাড়া আমাদের অনাগত সন্তানের কথা মনে করেও আমি কোথাও যাব না । রাজকন্যা জানালেন, আমার জন্য তুমি এমন করে বিপদ ডেকে এনো না । তোমার শিল্পীজীবন শেষ করে দিও না । তুমি চলে যাও তুমি শিল্পচর্চা করো । জগত তোমার শিল্পের প্রশংসা করুক । তোমার শিল্পের মধ্যেই আমরা বেঁচে থাকব ।

অনিচ্ছাসত্ত্বেও চোখের জলে বিদায় নিলেন শিল্পী । অজানা অচেনা পথে বেরুলেন । লএদিকে রাজার লোক নির্দিষ্ট জায়গায় শিল্পীকে না পেয়ে খুঁজতে বেরুলো চারিদিকে । সমস্ত সীমান্তপথ বন্ধ করে দেয়া হল । পথ ভুলে যাওয়ায় শিল্পীকে ধরে ফেলল রাজার লোকেরা । তারা হাজির করল তাকে বিচারসভায় । সংবাদ পেয়ে রাজকন্যা ছুটে এলেন রাজসভায় । কাতর প্রার্থনা জানালেন শিল্পীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য । কিন্তু কেউ তাঁর কথা শুনলেন না । দুটো হাত কেটে শিল্পীকে বের করে দেওয়া হল রাজ্য থেকে ।

এদিকে শিল্পী কোলারাজ্যে ফিরে গেলে শিল্পীর এই দশা দেখে কোলারাজ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন । তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন প্লেঙরাজার বিরুদ্ধে । ভয় পেয়ে প্লেঙরাজা তাঁর সমস্ত প্রজাদের নিয়ে প্লেঙনদীর উজানে গভীর অরণ্যে আশ্রয় নিলেন । কোলারাজার সৈন্যবাহিনী এই রাজ্যে এসে কাউকে দেখতে না পেয়ে সবকিছু ভাঙচুর লণ্ডভণ্ড করতে লাগল । ভেঙে ফেলা হল শিল্পীর গড়া মূর্তিসমূহও । সারা রাজ্যজুড়ে তারা তাণ্ডব চালিয়ে যেতে লাগল ।

এদিকে প্লেঙ রাজাও বসেছিলেন না । তাঁরা পালিয়ে গিয়ে নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে রেখেছিলেন । কোলারাজার লোকজন যখন তাঁদের রাজ্যজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন তখন প্লেঙ রাজা হঠাৎ করে নদীর বাঁধ কেটে দিলেন । জলের তোড়ে সমস্ত জনপদ ভেসে গেল । ভেসে গেল কোলারাজের সৈন্যসামন্ত । পাহাড় থেকে পলি এসে ঢেকে ফেলল সমস্ত জনপদ । আর কথিত আছে প্লেঙ রাজার সঙ্গে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া তাঁর কন্যাটিও একদিন সুযোগ বুঝে সেই বাঁধভাঙা জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মবিসর্জন করেন ।

এই অশ্রুসজল প্রণয়কাহিনি এখনো কোন কোন বয়োবৃদ্ধ মগরমণী এক বিশেষধরনের করুণ সুর করে গেয়ে থাকেন । আজকের তরুণতরুণীরা অনেকেই এই কাহিনি জানেন না । ধীরে ধীরে হয়তো লুপ্ত হয়ে যাবে তাদের লোকসংস্কৃতির ভান্ডার । কারণ মগ জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে সংরক্ষণের কোনোরকমের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত নেই ।

যদিও এটি একটি লোককাহিনি তবুও এ কাহিনি থেকে একটি ঐতিহাসিক সূত্র খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে । প্রথমত, এ অঞ্চলের যে 'পিলাক' নাম তার একটি সূত্র এখান থেকে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে । এখানে যে গোত্রের রাজারা বসবাস করতেন তারা 'প্লেঙসা' নামে পরিচিত । এই প্লেঙসা শব্দটির বিবর্তিত রূপ প্লেঙ>প্লেক>পেলেক>পেলাক>পিলাক নামে পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে । নদীটির নামও হয়তো 'প্লেঙ' ছিল যা বর্তমানে পিলাকছড়া নামে পরিচিত । এই নদী হয়তো একসময় প্রবল স্রোতস্বিনী ছিল । কালক্রমে ভূবিবর্তনের ফলে হয়তো তা প্রসারতা ও গতি হারিয়েছে ।

'পিলাক' নামটি যে মগ শব্দ সে বিষয়ে আর সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না । তাছাড়া এই অঞ্চলের আরো কিছু স্থাননামেও এই লক্ষণ ধরা পড়ে । যেমন বর্তমান জোলাইবাড়িকে মগ জনগোষ্ঠীর লোকেরা বলে থাকেন জোলা-জি । 'জি' শব্দের দ্বারা বাজার বোঝায় । সাক-রুঁ অর্থাৎ বর্তমান সাব্রুম । চাকমা জাতির লোকদের তাঁরা সাক বলে থাকেন । অর্থাৎ এখানে চাকমাদের বাসভূমি । সেইরূপ মগরুঁ । অন্যদের ভাষায় মগ জনবসতি । বর্তমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও একসময় তাদের অবস্থান ছিল কিছু কিছু নামে তার হদিস পাওয়া যায় । যেমন ফুলগাজি (ফুলগা-জি ) । মগ সম্প্রদায়ের লোকেরা বাঙালিদের 'কোলা' বলে অভিহিত করেন । বাংলাদেশের নোয়াখালি অঞ্চলে একটি স্থান আছে যার নাম কোলাপাড়া । দক্ষিণ ত্রিপুরায়ও পিলাকসংলগ্ন একটি স্থান কলসি । আসলে কোলা-সি অর্থাৎ বঙ্গসন্তান বা বঙ্গজনপদ । এই জনগোষ্ঠীর লোকেরা বাঙ্গালিদের যে 'কোলা' নামে অভিহিত করে থাকেন সেই সূত্র ধরে একটি ঐতিহাসিক উপাদানের উপর ক্ষীণ আলোকপাত করে প্রবন্ধের শেষ করব ।

প্রাচীনবঙ্গের ইতিহাসে বঙ্গ ও সমতটের পাশাপাশি হরিকেল নামে বাংলাদেশের পূর্বপ্রান্তিক অঞ্চলে একটি প্রাচীন রাজ্যের নাম পাই । এই রাজ্যের পরিধি সম্বন্ধে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে বহুমত আছে । তবে এই রাজ্য প্রথমে ক্ষুদ্র থাকলেও পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম থেকে শ্রীহট্ট পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ঘটেছিল । কেউ কেউ বঙ্গ ও হরিকেলকে এক করেও দেখেছেন । চৈনিক পরিব্রাজক ই-চিং এর বর্ণনায় প্রথম হরিকেলের উপস্থিতি পাওয়া যায় । হরিকেল নামটি হরিকেলি, হরিকেলা বা হরিকোলা ইত্যাদি নামে ইতিহাসে উল্লেখিত হয়ে আসছে । শেষোক্ত 'হরিকোলা' শব্দটি থেকে 'কোলা' শব্দটির উদ্ভব হওয়া অসম্ভব নয় । প্রাগোক্ত লোককাহিনিটিতে যে কোলা বা বঙ্গ জনপদের রাজার কথা বলা হয়েছে তা হরিকেল রাজ্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় । হরিকেল রাজ্যের অধিবাসীরাই তাদের ভাষায় 'কোলা' । কাহিনিটি থেকে জানা যায়, তাদের রাজ্যও একসময় কোলারাজের অধীন অর্থাৎ হরিকেল রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় । এই পিলাক অঞ্চলে হরিকেল মুদ্রা পাওয়া গেছে । এই মুদ্রাতে 'পিরক', 'বেরক' ইত্যাদি শব্দ লেখা আছে । মনে করা হচ্ছে এই নামগুলি পিলাক শব্দেরই রূপান্তর । 

যাই হোক, পুরাকাহিনি তো ইতিহাস নয় । তবে তার মধ্যে নিহিত ইতিহাসের উপাদানের ক্ষীণ সূত্র লুকিয়ে থাকতেও পারে । কালস্রোতে তার মধ্যে অনেক বিবর্তন পরিবর্তন ঘটে যাওয়া অসম্ভব নয়। যথাযথ গবেষণা ও তথ্যানুসন্ধান এবং বিশ্লেষণের দ্বারা পিলাকের বহু অনালোকিত তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব । আর এজন্যই এই প্রাচীন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নিবিড় সাংস্কৃতিক যোগাযোগ গড়ে তোলা প্রয়োজন ।

( পিলাক উৎসব-২০০২, ২৯–৩১ শে জানুয়ারি,স্মরণিকায় প্রকাশিত ও পরবর্তীসময়ে কিঞ্চিৎ পরিবর্ধিত । )

No comments:

Post a Comment