Showing posts with label তথ্য. Show all posts
Showing posts with label তথ্য. Show all posts

Wednesday, October 22, 2025

অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের কালীপূজা

অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের কালীপূজা 

   ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অগ্নিযুগ শব্দটি এসেছে সেই সময়ের বিপ্লবী যুবকদের আত্মোৎসর্গ ও অনলস দেশপ্রেমের জন্য । এটি মূলত ১৯০৫ থেকে ১৯৩০ পর্যন্ত সময়কে নির্দেশ করে । যখন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পর বাংলার যুবসমাজ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয় । এই বিপ্লবীদের মানসিক জগতের গভীরে যে শক্তি কাজ করেছিল তার অন্যতম উৎস ছিল মা কালিকা । সংহার, শক্তি ও মুক্তির চিরন্তন প্রতীক । তিনি রুদ্ররূপে ধ্বংস করেন অন্যায় । আবার মাতৃত্বের রক্ষা করেন সৃষ্টিকে । বিপ্লবীরা এই রূপেই দেখেছিলেন তাঁদের আদর্শ দেবীকে । যিনি অন্যায়ের বিনাশে অনুমোদন দেন, দাসত্বের বন্ধন ছিন্ন করার সাহস যোগান । তাঁরা বিশ্বাস করতেন যেমন কালী অসুর বধ করেন তেমনি পরাধীনতার অশুভ শক্তিকেও বিনাশ করতে প্রেরণা দেন ।

শোনা যায়, অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর, এমনকি ছোটো ছোটো যুব বিপ্লবীগোষ্ঠী কালীপূজার রাতেই গোপনে অস্ত্র স্পর্শ করে প্রতিজ্ঞা করতেন । মেদিনীপুর শহরের কর্নেলগোলা কালীমন্দিরেই দীক্ষা নিয়েছিলেন বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু। ধুপের ধোঁয়া, প্রদীপের আলো, ঢাকের শব্দে মিশে যেত শপথের ধ্বনি । সেই পবিত্র অন্ধকারে জেগে উঠত আগুন । যা পরে জ্বালিয়ে দিত সাম্রাজ্যের শেকল ।

আজও যখন অন্যায় দেখি, নিপীড়ন দেখি, দুর্নীতি দেখি, তখন মনে হয় আমাদের দরকার সেই আগুন, সেই সাহস যা একদিন অগ্নিযুগের যুবকদের জাগিয়েছিল মা কালিকার আহ্বানে।

 হে চেতনার যোদ্ধাগণ, চলুন আমরা আজও সেই মন্ত্র জাগি–

এলো আঁধার দিন ফুরালো, দীপালিকায় জ্বালাও আলো, 
জ্বালাও আলো, আপন আলো, জয় করো এই তামসীরে ।।

প্রাচীন ত্রিপুরার প্রাচীন কালীমন্দির

প্রাচীন ত্রিপুরার প্রাচীন কালীমন্দির 

ত্রিপুরার উদয়পুরে অবস্থিত মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির একটি প্রাচীন কালীমন্দির । ১৫০১ খ্রিস্টাব্দে মহারাজা ধন্য মানিক্য এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন । তবে ত্রিপুরারাজ্যে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠার আরো প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে । আমরা জানি যে, প্রাচীনকালে ত্রিপুরা রাজ্যের সীমা আরও বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল । সেই হিসেবে কুমিল্লা ও একসময় ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল । কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের চূড়ায় চন্ডীমন্দির বা চন্ডীমুড়া মন্দির নামে একটি প্রাচীন মন্দির রয়েছে । চন্ডীমুড়ায় দুটি মন্দির পাশাপাশি অবস্থিত । দক্ষিণ পাশের মন্দিরটি চন্ডী মন্দির ও উত্তর পাশের মন্দিরটি শিব মন্দির । চন্ডী মন্দিরটি দেবী কালিকার উদ্দেশ্যে নিবেদিত । এই চন্ডীমন্দির সম্বন্ধে একটি পুরাণ কাহিনি প্রচলিত রয়েছে । দেবী চন্ডী যখন শুম্ভ নিশুম্ভ নামক দুই অসুরের সাথে যুদ্ধ করছিলেন তখন বেশ কিছু অসুর জঙ্গলে ঘেরা এই জায়গায় পালিয়ে আসে । দেবী তখন এখানে অসুরদের বধ করেন । দেবীর দেহতাপের ফলে পাহাড়ের মাটির রং লাল হয় । ফলে এই পাহাড়ের নাম লালমাই পাহাড় হয় ।

সপ্তম শতাব্দীর খড়্গবংশীয় মহারাজ দেবখড়্গ তাঁর রানি প্রভাবতীর ইচ্ছাতে এই মন্দির ও একটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন । তিনি নিজে বৌদ্ধ ও তার রানি হিন্দু ছিলেন । তিনি নিজে বৌদ্ধ হয়েও মা চন্ডীর উপাসনা করতেন । বৌদ্ধরাজ দেবখড়্গের স্ত্রী প্রভাবতী দেবী অমর কীর্তি স্থাপনে বদ্ধপরিকর হয়ে এখানে দুটি মন্দির স্থাপন করেন । একটি চন্ডীমন্দির ও অপরটি শিব মন্দির চন্ডীমন্দিরে অষ্টভুজা সর্বানী মহাসরস্বতী । অপরটিতে শিবমূর্তি স্থাপন করেন । এরপর সময়ের সাথে মন্দির দুটি হারিয়ে যায় । ত্রিপুরার যুবরাজ চম্পক রায় দেওয়ানের ভগ্নী দ্বিতীয়া দেবী এই মন্দিরের পুনর্নির্মাণ করেন । তিনি পাহাড়ের দক্ষিণ পূর্বে একটি দিঘি খনন করেন । যার নাম দুতিয়ার দিঘি ।

জয় মা । সবাইকে দীপাবলির শুভেচ্ছা ।

গাড়ুই ব্রত

 গাড়ুই ব্রত

           গাড়ুই ব্রত লৌকিক ব্রত । এর প্রতি পরতে পরতে লোকজীবনের ছাপ রয়েছে ।ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম ধানের অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়া যায় নব্য প্রস্তর যুগে ( ৭০০০-৬০০০ খ্রি.পূ. ) ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে । এরপর সিন্ধু সভ্যতায় (৩০০০-২৫০০ খ্রি. পূ.) ধান চাষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন । এটি একটি গ্রীষ্মকালীন ফসল হিসেবে চাষ করা হত । প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্র সমূহের উপর সর্বশেষ গবেষণায় জানা গেছে যে, সিন্ধুসভ্যতায় ধারণার চেয়েও আগে থেকেই ধান চাষ হত । গবেষণা আরও জানাচ্ছে যে, সিন্ধুসভ্যতার মানুষেরা মিশ্রকৃষির ক্ষেত্রেও অগ্রগণ্য ছিল । তারা গ্রীষ্মকালে ধান, মিলিট ও শিম্ব জাতীয় শস্য উৎপাদন করত এবং শীতকালে গম, বার্লি ও ডাল জাতীয় শস্য উৎপাদন করত ।

প্রাচীন ভারতীয় ধর্মগ্রন্থসমূহে ধানকে 'ব্রীহি' বলা হত । ঋগ্বেদ ও যজুর্বেদসহ বিভিন্ন বৈদিক গ্রন্থে এটিকে একটি প্রধান খাদ্যশস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । বৈদিক যুগে ধানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য বিবেচনা করা হত এবং ব্যাপকভাবে চাষ করা হত । বৈদিক ধর্মীয় ভাবাপন্ন হওয়ার আগে কৌম মানুষেরা লৌকিক দেবদেবীর পূজার্চনা করত । সেখানে বৈদিক ব্রাহ্মণের প্রবেশ ঘটেনি । পরবর্তীসময়ে এইসব ব্রাত্য দেবদেবীরা দেবদেবীতে রূপান্তরিত হয়ে গেছেন । বাংলার লোকধর্মীয় পূজাপদ্ধতিতে নৈবেদ্য বা পূজার উপকরণ হিসাবে গৃহস্থের উৎপাদিত ফসলের অংশ বা প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত সহজলভ্য উপকরণগুলোকেই নিবেদন করতে দেখা যায় । এরকম পূজায় বা আচার অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত অনেক বিষয়ের মধ্যেই আমাদের অতিক্রম করে আসা প্রাচীন সভ্যতার কিছু কিছু বিষয় অজান্তেই থেকে যায় । এরকম শিলনোড়ার ব্যবহার প্রস্তরযুগের নিদর্শন, পূজার সামগ্রী কোশাকুশি তাম্রযুগের স্মৃতিবাহক । গাড়ুই ব্রতে জুমের চালের ব্যবহার বাঙালির কৌমজীবনের অধ্যায়ের ক্ষীণ নিদর্শন । বাঙালি যতই জাতের বড়াই করুক । আদিতে তারা কৌম ও সংকর জাতি । বিবর্তনের সেই অধ্যায়টা অজানা বলে আমরা ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই করে মরি । পূজার উপকরণ আমাদের অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেয় যাতে আমরা বুঝি ।

Wednesday, February 15, 2017

আ ত্ম জী ব নী


অশোকানন্দ রায়বর্ধন 
11 জানুয়ারি অসমের ডিব্রুগড় শহরে জন্ম ৷ বাবা প্রয়াত মনোরঞ্জন বর্ধন এবং মা প্রয়াত ঊষারানি বর্ধন ৷ বাবা চট্টগ্রামের বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে  ইংরেজ শাসকদের চোখে ফাঁকি দিয়ে বার্মা হয়ে অসমের চা বাগানে আত্মগোপন করেন ৷পরে ডিব্রুগড় মেডিক্যাল কলেজে চাকরি নেন৷ বাবার চাকরির সুবাদে অসম থেকে ত্রিপুরার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত জীবনের দীর্ঘসময় কাটিয়ে বর্তমানে ত্রিপুরার প্রান্তিক মহকুমা শহর সাব্রুমে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন ৷ ভ্রাম্যমান জীবনের সুবাদে উত্তরপূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জীবন ও সংস্কৃতি গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন ৷
  পড়াশুনো শুরু ডিব্রুগড়ের অখন্ডমন্ডলেশ্বর বিদ্যালয়ে ৷ পরে  ত্রিপুরার পেচারথল, বক্সনগর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং কুলাই হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক  উত্তীর্ণ ৷ বিলোনিয়া মহাবিদ্যালয় থেকে স্নাতক, কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষাও সাহিত্যের স্নাতকোত্তর এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি এড শ্রী রায়বর্ধন দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে এবং বিদ্যালয় পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করে এবছর জানুয়ারি মাসে সরকারি দায়িত্ব থেকে অবসর নিয়েছেন ৷
কিশোরকাল থেকে কবিতার মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা শুরু ৷বিদ্যালয়ের সাহিত্যপত্রেরও সহ-সম্পাদক ছিলেন একসময় ৷ কবিতায় হাতেখড়ি এবং স্বচ্ছন্দ হলেও রাজ্যের আঞ্চলিক ইতিহাস, লোকজীবন ও সংস্কৃতির অনুসন্ধানী গবেষক ও লেখক ৷ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁ বহু গবেষণামূলক লেখা প্রকাশিত হয়েছে ৷ 2013 সালে তাঁকে 'স্রোত' সাহিত্যসম্মান দেওয়া হয় ৷
বাউলস্বভাবের অনাড়ম্বর ব্যক্তিগত জীবনযাপনের পাশাপাশি সর্বক্ষণ সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যে জীবনের অফুরন্ত রস ও আনন্দের সন্ধান করেন ৷ প্রচারের আলোকের বাইরে নিভৃত সাহিত্যসাধনায় নিজেকে নিমগ্ন রাখতে চান ৷ ত্রিপুরার জনজাতিদের বেশ কয়কটি ভাষা তিনি জানেন ৷এই গ্রন্থটিতে ত্রিপুরার মগ জনগোষ্ঠীর উপর দুটি বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধসহ বেশ কয়েকজন জনজাতিগোষ্ঠীর গবেষকের মূল্যবান গবেষণামূলক লেখার সমাবেশ ঘটিয়েছেন ৷


লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থ
• ত্রিপুরার লোকজীবন ও সংস্কৃতি / ভাষা,আগরতলা ৷
• বিনীত চুম্বন / স্রোত প্রকাশনা, কুমারঘাট ৷
•ত্রিপুরার লোকসংস্কৃতির উৎসসন্ধান ও বিষয়বিন্যাস / স্রোত প্রকাশনা, কুমারঘাট