Showing posts with label স্মৃতিকথা. Show all posts
Showing posts with label স্মৃতিকথা. Show all posts

Tuesday, August 15, 2023

সমীর ধর

 আমি বান্ধব সমীর ধরকে চিনি সাতের দশক থেকে । কলেজে একসাথে পড়তে পড়তে জাদুকরের সহকারী হিসেবে, নাটকের সহ অভিনেতা হিসেবে  তাঁর সান্নিধ্যে এসেছি । সুর এই মানুষটার রক্তস্রোতে বহমান । প্রথমদিকে তিনি তবলার চর্চা করতেন । বিলোনিয়া বিদ্যাপীঠের পাশে তাঁদের বাসায় সে সময় জমাট আড্ডা বসত সাহিত্য-সংস্কৃতির আর সঙ্গে । প্রতিদিন ঘরের জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করে এই আড্ডা । পরিবারের কেউই বিরক্ত হতেন না মোটেই । তিয়াত্তর-চুয়াত্তরের দিকে বিলোনিয়া এক নম্বর টিলায় এক সাহিত্যমেলা হয় হরিনারায়ণ সেনগুপ্ত, ভূপাল সিনহা,কৃষ্ণকুসুম পাল, সুবোধ কংসবনিকের উদ্যোগে । স্থাপত্যকর্ম প্রদর্শনী করেছিল শিবপ্রসাদ চৌধুরী । সেইসময়ে একদিন সকালবেলা কোনো একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল সামনের ক্লাবঘরে । এইসময় সমীর রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে কিছু গুঞ্জন শুনে ঢুকে পড়লেন ক্লাবঘরে । সবাই হারমোনিয়াম তবলা নিয়ে টুকটাক গান বাজনা করছেন । সমীর ধর এসে পড়ায় সবাই তাঁকে তবলা বাজানোর জন্যে অনুরোধ করল । সমীর ধর তবলায় হাত লাগালেন কিছুক্ষণ । তারপর হারমোনিয়াম নিয়ে অসাধারণ এক নগমা শুনিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন সবাইকে । এখানেই শেষ নয় । পাশে কে একজনের একটা হাওয়াইয়ান গিটার ছিল । ততক্ষণে সমীর সেটা হাতে তুলে নিয়েছেন । দেখি এটা একটু । কোনোদিন তারযন্ত্র বাজাইনি । বলে গিটারের মালিক শিল্পীর কাছ থেকে স্টিল বারটা ধরা ও তারগুলোর স্কেল বুজে নিয়ে আস্তে আস্তে টুং টাং করতে লাগলেন । সেকি! ধীরে ধীরে একটা পরিচিত রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুর যেন রূপ পাচ্ছে । কিছুক্ষণের মধ্যে 'আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে' গানটি বাজিয়ে শুনিয়ে দিলেন । এই হলেন সমীর ধর । সাহিত্যসংস্কৃতির অঙ্গনের এমন বহুমুখী প্রতিভার সান্নিধ্য পেয়ে আমি গর্বিত ।

Thursday, June 15, 2023

সাব্রুমে যাত্রার এনাউন্সমেন্ট

একসময়ে সাব্রুমে যাত্রাগানের খ উঁচু ব রমরমা ছিল । কোলকাতা থেকে যাত্রা পার্টি আসত । মেলার মাঠে বড়ো প্যান্ডেল করে যাত্প্ররানুষ্থঠানের আয়োজন করা হত । প্রথমদিকে টিনের চুঙ্গা ফুঁকে এনাউন্সমেন্ট হত । মাইকে যাত্রার এনাউন্সমেন্টের যুগে আমার জানামতে দক্ষ দুজন অমর সরকার ও সুবীর দত্ত । গাড়িতে চড়ে সারা মহকুমা জুড়ে যাত্রার এনাউন্সমেন্ট চলত । আর সবশেষে মনুবাজারে এসে কড়া ঝালের দেশি মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খাওয়া এটা কমন ব্যাপার ছিল । সুবীরদা বেঁচে নেই । মাইক্কে চিল্লিয়ে এনাউন্সমেন্ট করাটাও বেশ দমের ব্যাপার ছিল । টানা এনাউন্সমেন্ট করার ফলে সুবীরদা একবার অর্শরোগগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন । আমি দলে থেকে মাঝে মাঝে এনাউন্স করে তাঁদের বিশ্রামের সুযোগ দিতাম । তবে সাদা কাগজে এনাউন্সমেন্টের বয়ানটা লেখার বরাবর দায়িত্ব ছিল আমার ।