Sunday, January 21, 2018

সরস্বতীপুজো : বাঙালির ভ্যালেন্টাইন

বাঙালি হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো ৷ তারপরই যার স্থান হল সরস্বতী পুজো ৷ দুর্গোৎসবের যে সর্বজনীনতা রয়েছে সরস্বতীপুজোয় কিন্তু শিশুকিশোরের প্রধান্য লক্ষ্যণীয় ৷ সরস্বতীকে জ্ঞান, বিদ্যা ও কলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে মান্য করা হয় ৷ শিশুকিশোরদের সঙ্গে এই দেবীর একটা আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায় ৷ শিশুর বিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার পাঠ শুরুর আগেই দিদির কিংবা পাড়ার বড়োদের হাত ধরে বিদ্যালয়ে আসার মাধ্যমে ৷ এর মধ্য দিয়ে তার বিদ্যালয়ভীতি অনেকটাই কেটে যায় ৷
     তারপর বিদ্যালয়ে পাঠগ্রহণকালীন সময়ে প্রতি বৎসরই সে সরস্বতীপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ৷ সরস্বতীপুজোয় অংশগ্রহণে মধ্য দিয়ে তার ভেতরে দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয় ৷ সৃষ্টি হয় সামাজিকতাবোধও ৷ সবাই মিলে চাঁদা সংগ্রহ, ঠাকুর বায়না করা, পুজোর বাজেট, বাজার করা, প্যান্ডেল তৈরি, পুজোর সরঞ্জাম জোগাড় করা, পুজো নির্বাহ করা, প্রসাদের ব্যবস্থা করা সবকিছুই শিক্ষার্থীরা নিজে দায়িত্ব নিয়ে করে থাকে ৷ দেবী সরস্বতীর প্রতি প্রত্যেক শিক্ষার্থীরও একটা আনুগত্যবোধ লক্ষ করা যায় ৷ দেবীর কৃপার উপর তাদের পড়াশুনার ফলাফলের একটা প্রভাব রয়েছে বলে তারা মনে করে ৷ তাই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নির্জলা উপবাস থেকে তারা পুজোয় উপস্থিত থেকে পুজোর শেষে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করে থাকে ৷ তাই বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা বিদ্যায়তনগুলো ছাড়া ঘরে ঘরে, পাড়ায় পাড়ায়ও হয়ে থাকে ৷
     আর্যরা সরস্বতীকে বিদ্যার দেবী ছাড়া শস্যের দেবীরূপেও আরাধনা করতেন ৷ ভাগবতে আলোচিত সাতটি নদীর মধ্যে সরস্বতীকে একটি নদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৷ বৈদিকযুগে আর্যগণ সরস্বতী নদীর তীরে বসতি স্থাপন করে ওই নদীজলে পুষ্ট ভূমিতে চাষবাস করে শস্য উৎপাদন করতেন ৷ ফলে তিনি বৈদিক সূক্তে অম্বিতমে, নদীতমে, দেবীতমে অর্থাৎ জননীশ্রেষ্ঠ, নদীশ্রেষ্ঠ ও দেবীশ্রেষ্ঠরূপে বন্দিত হয়েছেন ৷ কিন্তু সরস্বতীর এইসব দৈবীকল্পনা ছাড়িয়ে কবে যে তিনি বাঙালির একান্ত ঘরোয়া বীণাধারিণী কলানিপুণা  ও বিদ্যাসাম্রাজ্যের তরুণী অধিশ্বরী হয়ে উঠলেন তার তথ্য বেদে নেই ৷ আমাদের লোকপুরাণ ও লোকবিশ্বাসই এই দেবীকে বাঙালির উঠোনে আসন পেতে দিয়েছে ৷ বাঙালির লৌকিক দেবদেবীরূপে যাঁরা সুপূজিত সেই হরপার্বতীর কন্যারূপেই অত্যন্ত ঘরোয়া সাজপোষাকেই শ্রীময়ী এই দেবী ৷
      বসন্ত সমাগমের প্রাকলগ্নে বাঙালি কিশোরীর শরীরে আসন্ন যৌবনসমাগমের বার্তাটিও বয়ে আনে এই সরস্বতীপুজো ৷ কিশোরীটি এদিনই প্রথম শাড়ি পরার ছাড়পত্র পায় ৷ নারী হয়ে ওঠার অভিষেক ঘটে এই দিনটিকে ৷ 'বনে যে ফুটল কুসুম' এই বার্তাটি পৌঁছে যায় পাড়ার নবীন কিশোরসখাটির কাছে ৷ তার এতোদিনের বালকবেলার খেলার সাথীটিকে সে নতুন চোখে দেখে এই দিনটিতে ৷ হাওয়ায় ওড়া কিশোরীটির চুলের মতো তার মনের ভেতর কী একটা অনুভূতি এদিন উড়াল দেয় ৷ হালফিল সরস্বতীপুজোর দিনটিকে বাঙালির 'ভ্যালেন্টাইন ডে'ও বলা হচ্ছে ৷ নবীন কিশোর কিশোরীর বুকের ভেতর প্রথম প্রেমের কুঁড়িটি নাকি এদিনই ফুটতে শুরু করে ৷ এদিন থেকেই নারীজীবনের কোন গতিপথ তৈরি হয় তা আজকের দিনের কবি জয় গোস্বামীর পংক্তি দিয়েই উচ্চারণ করি - 

আজ আরও ছোট হোক চুল
খাটো হোক অঙ্গের বসন
আরো যত্নে মাজা হোক ত্বক
আরো তীব্র বাঁকা হোক ভুরু
এইবার পথে বেরোলেই
কী জিনিস বেরিয়েছে, গুরু !

এইতো লক্ষ্মীশ্রী মুছে গেছে
আজ থেকে জেল্লা মার-মার
আজ থেকে স্বাধীনতা জারি
কাল ছিলে বধুমাতা, আজ
নারীমাংস, নারীমাংস, নারী...

পথে পথে সহস্র পুরুষ
মনে মনে নোংরা করবে তোকে
তাই নিয়ে অবুঝের মতো
গর্ব হবে তোর, হতভাগী

আমি কবি, দুর্বল মানুষ
কী ভাবে বাঁচাব তোকে, ভাবি...
( একটি দুর্বোধ্য কবিতা - জয় গোস্বামী )

Saturday, January 20, 2018

শেষবেলা


বিকেলের ডাকে যে চিঠি আসবে
তাতে ভ্রূণসন্ধ্যার সিঁদুর মাখিয়ে
সারাটা পরিক্রমার নিখুঁত দিনলিপি
গাঁথার পর খামবন্দী করে তারিখের
মোহরচিহ্নে প্রত্যয়িত করার কথা

সাতকাহনে সাজার পর অন্ধসন্ধ্যায়
বলে দেবে,তুমি ঘরে ফিরে যাও
তোমার বেলা বহুক্ষণ আগেই শেষ ৷

Thursday, January 18, 2018

বয়ন

গভীর রাতলিপি নিবিড় পাঠের পর
দরোজায় ঘন্টি বেজে যায় বিরতিবিহীন
রাতচরা সরীসৃপের অবোধ্য সংকেতের মাঝে
একটা সুতোবাঁধা  নির্দেশ গোপনে ছড়িয়ে যায়
ঘুমকাতর জনপদ ও জঞ্জালের অচেতন অবয়বে

আগামী রুটিন ঘুরে ফিরে আশা করে ভাবী বয়ন

গীতগোবিন্দম


বাইরের সংকেত জানানোর জন্যে দরোজায় রাখা কলিং বেল নিয়ম মেনেই কথা বলে যায় ৷ সারারাত ঘাসের ডগায় অপেক্ষা করে শিশির ভোরের সূর্যমুখের আশায় ৷ লাল আভায় নিজেকেও রাঙিয়ে নেওয়ার সুখস্নান ৷ নিকটকথা দিয়ে মুড়ে দেওয়া মনমতো জানালা পর্দাআঁটা সহবৎ শিখে নেয় ৷ অনবরত ডোরবেল বেজে গেলেও যদি দরোজার ওপার থেকে সাড়া না আসে তবে নিবেদনের জন্যে পদাবলি জেগে থাকবে কী সদরঘাটে?  রাধার নামে বাধারঘাটে যখন হুইসিল বাজিয়ে ছেড়ে যায় রাজধানীর ট্রেন আনন্দবিহারের উদ্দেশ্যে ৷ বিরহের মীড় যেখানে প্রবল গেঁথে যায় ধুলিজমিন ছুঁয়ে, ভেজা বালিতে কী লেখা যাবে পদপল্লবমের গোপন বাসনার কথা ৷ তাহলে তো আর একটা গীতগোবিন্দের জন্যে তুলট কাগজ কেঁদে যাবে ৷ তোমার তাতে কী সায় আছে রাই, সই?

Monday, January 15, 2018

স্পর্শকাতরতা

রাত তো অনেক হল ৷ এই নির্জন লতাবিতান, এই নিঃসঙ্গ মাধবীকুঞ্জ কেমন যেন পরিহাস করে চলেছে ৷ ঘিয়ের প্রদীপের সলতেটা উসকে দিয়েই কেটেছে সারারাত ৷ যতোক্ষণ তেল ছিল আলো দিয়ে গেছে  ভালোই ৷  তেল কম আসায় আলোটাও কমে আসছে ৷ ভয়ডরহীন  ছিল ৷কেটে গেছে প্রহরগুলো কালিয়ার প্রতীক্ষায় ৷ এখন এই গোপন বনকুঞ্জ অসহ্য হয়ে উঠছে ৷ কিছুই দেখা যাচ্ছে না নিকুঞ্জপথের ৷ শুধু রাতচরা পশুগুলোর ছুটোছুটিতে মসমস করে উঠছে পথের শুকনো ঘাসপাতাগুলো ৷ কুঞ্জের বাইরে চারদিকে অবিরাম ঝিঁ ঝিঁ ডাক ৷ দুষ্টুটার নুপূরের শব্দের মতো তার কান দুটো ভরিয়ে তুলছে ৷ একাকী ফুলসেজে গড়িয়ে যাচ্ছে সে ৷ নরম শয্যা তার প্রিয় শরীর হয়ে উঠছে ৷ যেন আস্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে তাকে ৷ বসন্তবাতাস মোহ ধরিয়ে দিচ্ছে ৷ মাতাল হয়ে গড়াগড়ি যাচ্ছে বিছানায় ৷ কান্তর শরীরের ওম লাগছে যেন তার শরীরে ৷ আশ্লেষঘন নিঃশ্বাস পড়ে তার ৷ 'হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে / পরাণ পিরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে ৷'
         উত্তাল ঝড় ওঠা শরীর একসময় শান্ত হয় ৷ রাগমোচনের উল্লাস তার চোখে মুখে, শরীরময় ৷ দয়িতের ছোঁয়া তাকে কী আকুলতাই না দিয়েছে ৷ কতোক্ষণ যে ঘোরের মাঝে ছিল খেয়াল নেই তার ৷ রাগমোচনের তৃপ্তিতে বুকে আঁচল জড়িয়ে বিস্রস্ত বেশবাস সামলানোর জন্যে উঠে বসতেই তার সম্বিত ফিরে এল ৷ কোথা কান্ত ! কোথা কান্ত ! কোথায় কালিয়া ? কার সঙ্গসুখে কাটাল এতোক্ষণ ? সে কী ভুল ? সে কী মিথ্যে ? সে কী স্বপ্নই কেবল ?  ডুকরে কেঁদে উঠল রাধারানি ৷তছনছ বিছানায় ৷ আজ নিশিতেও এলে না প্রিয় ৷ ছুঁয়েও দেখলে না আমাকে ৷ ফাঁকি দিলে আজও ৷ 'প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর' ৷ হে প্রিয় ! জানি না আজ কোন গোপবালার কুঞ্জে কাটল তোমার রাত ! তোমার অনঙ্গমোহন শরীর কার ছোঁয়া পেল ৷ মথিত হল সুখে ৷
   মদনমোহিনী রাই কেঁদে চলেছে একাকী ৷ গুমরে ওঠা চাপা গুঞ্জনধ্বনি বিষাদকুঞ্জের বাইরে নিভৃতে এগিয়ে চলেছে ৷ প্রত্যুষের পাখিরা বাসায় কিচিরমিচির করে ডেকে উঠল ৷ তেল শেষ হয়ে আসা প্রদীপের শিখাটা দপ করে নিভে গেল ৷

Sunday, January 14, 2018

ভিক্ষাবৃত্তি

মানুষ বিভিন্ন কর্মসম্পাদনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে ৷সেই নির্ধারিত কর্মই হল পেশা বা বৃত্তি ৷ যখন একটিমাত্র কর্মই কারো পেশা হয়ে দাঁড়ায় তখন ওই পেশার সঙ্গে তার কর্মের পরিচয় যুক্ত হয়ে যায় ৷ সমাজে এরকম বহুবিধ বৃত্তি রয়েছে ৷ আমাদের ভারতীয় সমাজে দেখা যায় কিছু কিছু বৃত্তি বংশপরম্পরাক্রমে চলে আসে এবং এইসব বৃত্তিতে তারা নিজস্ব ঘরানা ও দক্ষতার পরিচয় রাখে ৷ আবার কিছু পেশা ব্যক্তিবিশেষের ক্রমাগত উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ৷ পেশাগত পরিচয়ের মাধ্যমেই কেউ কেউ সমাজে পরিচিতি লাভ করেন ৷ পেশাগত দিক দিয়ে অনেকে আবার বিশেষ চারিত্র বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত হয়ে থাকেন ৷ যেমন ' বান্যা ' ভাঁড়ু দত্তকে কবিকঙ্কন ধূর্ত চরিত্র হিসেবে অঙ্কন করেছেন ৷ কাস্টমারকে ঠকানোর জন্যে সেই বলতে পারে 'সোনা রূপা নহে বাপা, এ বেঙ্গা পিত্তল/ঘষিয়া মাজিয়া বাপা কইরাছ উজ্জ্বল' ৷
         পেশার মধ্যে আবার স্তরবিভাজনও রয়েছে ৷ সংস্কৃত প্রবাদে রয়েছে - বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী তদর্ধং রাজসেবায়াং / তদর্ধং কৃষিকর্মেন ভিক্ষায়াং নৈব নৈব চ ৷ তেমনি বাংলা প্রবাদ রয়েছে - উত্তম পেশা সদাগরি /মধ্যম পেশা চাষা / মধ্যম পেশা মাইগ্গা খাওন/জীবনের নাই আশা ৷ প্রবাদোক্ত 'মাইগ্গা খাওন'টাই হল খুঁজে খাওয়া বা ভিক্ষাবৃত্তি ৷ যে ভিক্ষালব্ধ অন্নে জীবিকা নির্বাহ করে সে হল ভিক্ষুক ৷ সমাজের সবচাইতে নিরুপায় পেশা হল ভিক্ষাবৃত্তি ৷ সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত গৃহস্থের দোরে দোরে ঘুরে অন্ন আহরণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের মতো অসহায় পেশার নাম হল ভিক্ষা ৷ তাই ভিক্ষুককে সমাজও করুণার চোখে দেখে ৷ ভিক্ষুককে দান করার মধ্য দিয়ে অনেকে পরমার্থের সন্ধানও করেন ৷ আমাদের বাঙালি হিন্দু সমাজের ব্রাহ্মণ পরিবারে উপনয়ন অনুষ্ঠানকালে নবোপবীতধারীকে কয়েকঘর মুষ্ঠিভিক্ষা করার রীতি প্রচলিত আছে ৷ আবার ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী বোষ্টমরা ভিক্ষান্নে জীবনযাপনের মতো কৃচ্ছতা বেছে নেন ৷
          ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে আহৃত অন্নের মানের বিচার করা যায় না ৷ কথায় বলে, 'ভিক্ষার চাল কাঁড়া আর আকাঁড়া' ৷ যা ভাগ্যে জোটে তাই পরমান্ন ৷ ভিক্ষাবৃত্তিতে কিছু সমস্যাও রয়েছে ৷ পরিচিতির কারণে 'গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না' ৷ অনেকসময় কুকুরের কামড়ের ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গৃহস্থকে অনুরোধ করে বলতে হয় 'থাক ভিক্ষে, তোর কুত্তা সামাল' ৷ আমাদের আধ্যাত্মিক সঙ্গীতে ঈশ্বরানুরাগীর আবেদনেও 'আমি দীন ভিখারি, পারের কড়ি ফালাইছি হারাইয়া' বলে  বিষয়টি প্রতীকী রূপ নিয়ে গভীর  বার্তা করে এসেছে ৷ তবে অনেকসময় ভিক্ষাবৃত্তির মতো মর্মবাহী পেশার মাধ্যমে অনেকেই যে আখের গোছায় সে বিষয়ে ব্যাখ্যায় আর যাচ্ছি না ৷ ভুক্তভোগী মাত্রেরই কমবেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে ৷ তবে ভিক্ষাবৃত্তির ভদ্র ও আধুনিক সংস্করণ বলে আমার মনে হয় চাঁদাবাজি ৷
শেষ করব মধুকবির একটি বিখ্যাত উদ্ধৃতি দিয়ে ৷ ইংরেজীচর্চার মোহে বিদেশে গিয়ে বিফল মনোরথে পুনরায় বাংলাভাষার চর্চা শুরু করার লগ্নে তাঁর বিখ্যাত 'বঙ্গভাষা' কবিতায় লিখেছেন , 'পরদেশে ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি/কাটাইনু বহুকাল সুখ পরিহরি' ৷ আসলে ভিক্ষাবৃত্তি সুখের পেশা নয় ৷

Friday, January 12, 2018

সংক্রান্তি

তোমার হাত কী মোহনীয় হয়ে উঠবে এই সংক্রান্তির সন্ধ্যায়
নিকোনো উঠোন আলপনায় রাঙানো হয়ে গেলে ক্লান্ত হাত
পড়শির পরশ চাইবে নিভৃতে অন্তত প্রশংসামুখর দুচোখ
যেমন মাহেন্দ্রসূর্য কুসুমশোভন হাসিতে স্বচ্ছ উঠোনে বুলোবে চোখ

পিটুলিগোলার রঙ ভেসে উঠতেই
তোমাকেও মনে হয় সেজে উঠেছ
মাঘসকালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে
বুড়ির ঘরের সামনে যেন আগুন উত্তাপের একমাত্র পরিষেবাপুষ্ট
রক্তিম আঁচের আভায় একমাত্র তুমি যেন সুন্দরী হয়ে ওঠো কুয়াশাভোরে

পৌষের শেষ সকাল এভাবেই প্রাতঃভ্রমণ সারে তোমাকে নিয়ে ৷

Tuesday, January 9, 2018

বাঁশি

ছুটে যাবার জো নেই জোরকদমে
প্রহরগুলো প্রহরীর হাতুড়ি হাতে
বুকের ভেতর ঘন্টা বেজে ওঠে

বাঁশি তো থামে না ৷ সাত সকাল থেকে
সাত ঘাটে হাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ ৷
ঘর দোর কেঁপে ওঠে ৷ অচিন খাঁচার ঘেরাটোপে এত ব্যাকুলতা আছে ৷ জানি না যে ৷

বাঁশি তোকে বারণ করেছি কতো ৷  কাঁদাবি না আর ৷
সংকেতের অঝোর ধারা ৷ কলঙ্কে পোড়ে আমার দুই আখর ৷

এ নাম লুকোবো কোথায় ৷ মরমিয়া বাঁশি আমার !
গোকুল জেনে গেছে আমার পরকিয়া মাঠ ৷
ব্যঞ্জনে ভুল বর্ণ ৷ ভুল উনুন জ্বালি ৷
পোড়া কলস ডাকে কেবল ডাকে কালিন্দীর ঘাট ৷