Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Monday, November 24, 2025

শীতের পত্র

শীতের পত্র

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

শীত পা রেখেছে আমার এই না শহরে এখন 
দ্রুতরাত নামে । দোকানের সাটারের ধাতব পতন 
ঘরে ফেরার সংকেত । উত্তরের হাওয়া তীব্র শীতের 
ঝটকায় উড়ে চলে যায় । তপন রায়ের বন্ধ দোকানের 
সামনে পাতাহারা কাঁঠালগাছটিতে নিয়ন আলো পড়ে 
কঙ্কাল মনে হয় । নিচে শুকনো পাতারা বিছানা গড়ে ।

মনে হচ্ছে শহরে ছড়ানো ভালোবাসার যত পিগিব্যাংক 
রাতের আঁধারে কেউ এই শহর থেকে নিচ্ছে লুঠ করে ।
ওদের কালো পোশাক আর মুখোশ সিসিক্যামে ব্ল্যাংক–
সফল অভিযান শেষে কালো পোশাক ফিরে যায় ঘরে ।
তখনই কোন প্রিয়জন বর্ষাবাসে গেলে মনে হয়– 
এই শীত, এই হিমরাত আমাদের মন খারাপের সময় ।

শীত এলেই কি আমাদের প্রত্যেকের মন খারাপ হয় ?
অথবা কেবল মন খারাপের দোহার এই শীতের সময় !
স্বজনের কাছে যে সুজন এসেছিলেন বসন্তে বা বৈশাখে, 
মন খারাপের রয়্যাপারে ঘিরে রাখতে চাই তাঁকে ।
থাকুন তিনি উষ্ণ আবেগে থাকুন হৃদয় জুড়ে,
কর্মের দুনিয়ায় যেখানেই থাকুন কাছে কিংবা দূরে ।

Sunday, January 26, 2025

দধীচি

দধীচি

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

জগত জুড়ে উদার সুরে প্রচার করলেও যুদ্ধ থামেনা ।
 রক্তাক্ত মহাকাব্য লেখা যেন মানুষের ধর্ম ।

বোধিবৃক্ষ তলে বসে শাক্যমুনি কার কথা বলেন ?
কাদের কান্না শুনে তিনি প্রাসাদে ছেড়েছেন ?

শাসকের ললাটের লেখা । যতক্ষণ তখতে থাকেন ততক্ষণ 
শিবিরে শিবিরে তার পতাকা ওড়ে । সিংহাসন ভেঙে গেলে ভিমরুলেরা  ঝাঁক বেঁধে নিশানা করে প্রণম্য বীরকেও ।

 তবুও যুদ্ধবিহীন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে বহু সাধারণ নাগরিক 
দুধভাত না হোক, তবুও প্রতিবেশীসহ শান্তি চায় সবাই। 

হাজারো হৃদয়ের গভীর আওয়াজ, কুম্ভমুখী জনঢল 
সন্ত্রাস ও হিংসাকে পায়ে দলে খুঁজে ফেরে পূর্বজদের হাড় ।
যুগে যুগে দধীচিরা এ রেখে গেছেন পাহাড় প্রমান ।

Saturday, January 18, 2025

কার্বন

কার্বন

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

একাকী পতাকা উড়ছে আকাশে
 পাতাহারানো বাতাসের দীন শরীর
 তারপরেও শহরে গলিতে গলিতে দাঁড়ায় 
কিন্ডারগার্টেনের গাড়িগুলো জানলায় জাল লাগিয়ে 

জীবনের সামনে কিছু নেই অন্ধকার ছাড়া 
তবু সে ঠেলে দেয় নিয়মিত সামনের দিকে 
আর ক্রমশ  রঙ বদলে যায় জনতার মাঠ 
ধীরে ধীরে জঙ্গলাকীর্ণ সে মাঠে শেয়াল ঢুকে যায় 

যেসব স্বপ্ন দেখতাম, যে আকাশ মাথার উপরে ছিল 
এখন সব কালোরাতে হারিয়ে যায়
 ফেলে দেওয়া কার্বনপেপার দেখি সর্বত্র ।

Wednesday, December 25, 2024

আপনি

আপনি

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

আপনি কি রঙের জামা পরেন তা কেউ দেখে না ।
তাই কেউ বলেন আপনি সাদা জামা, 
আপনি নীল জামা অথবা‌লাল জামা ।
আপনার রঙ নিয়ে হয় চুলচেরা গবেষণা 

 বিপননশিল্পেও নেই । আপনি জমি কেনাবেচায় কাটমানি খান না । গোপনে জায়গামতো ত্রাণ বিলি করেন না ।
আপনি চলেন আপনখেয়ালে ।

আপনি মশাই বনেদি ক্লাবের মেম্বার হতে পারলেন না । আপনি অযোগ্য । আপনি সখের বোটের সেই বাবুমশাই ।

আপনার মোবাইল নম্বর সবাই জানে । ঠেকলেই ফোন করে আপনার কুশল জানবে । ইনিয়ে বিনিয়ে কাজ গুছিয়ে নেবে ।

কাজ ফুরোলেই পাজি আপনাকে কুৎসার মালায় সাজাবে ।
আপনি বড্ডো হ্যাংলা মশাই, কিসস্যু বোঝেন না ।

আপনার কবিতা, পড়াশুনো সব পন্ডশ্রম ।
এগুলো আপনার চারপাশে যারা আছে তাদের ঈর্ষামত্ত করে । 
ওরা পরের জা'গা পরের জমিনে বসত করে
আপনাকে বাস্তুহারা করার পায়তাড়া কষে ।

চারদিক থেকে ঢিল, উড়োচিঠি, গণবিরোধ এলেও
আপনি শীতলপাটিতে চিৎ হয়ে শুয়ে বসন্তের জোছনা দেখেন ।
আপনি বড্ডো বেহায়া তো ! আপনাকে
 কে বলেছে সমাজে থাকতে !

আপনার বুকে এত আবেগ এত কান্না
 আর এত উদাসীনতা কেন হে !
আপনি তো আমাদের হিসেবে একেবারে অনুপযুক্ত, মশাই ।

Friday, February 16, 2024

শেকল বাঁধা হাতি

শেকল বাঁধা হাতি

 অশোকানন্দ রায়বর্ধন

টিংকু একদিন সকাল থেকে জুড়ে দিল বায়না–
বাবা তো একদিনও কোথাও বেড়াতে নিয়ে যায় না ।
শুনেছি স্কুল মাঠে পড়েছে নাকি সার্কাসের তাঁবু, 
পশু পাখির মেলা সেথা দেখতে যাব বাবু ।
 সকাল থেকে ঘ্যানর ঘ্যানর কানটা ঝালাপালা,
কি আর করা দেখতে হবে সার্কাসের খেলা ।

বিকেল বেলা বাপ বেটাতে চলল মাঠের পানে– 
সার্কাসের তাঁবু পাতা মাঠের মাঝখানে খেলা তখনও শুরু হয়নি সময় অনেক বাকি,
 বাবা বলেন, কি আর হল কর চলো খাঁচা দেখি ।
মাঠের কোণে খাঁচায় বাঁধা হরেক পশুপাখি 
কিচির মিচির, চিল্লাচিল্লি, করছে ডাকাডাকি ।

দেখতে দেখতে বাপ বেটাতে হাতির সামনে এল,
খাঁচায় বন্দি ছিল না হাতি শেকল বাঁধা ছিল ।
 এত সরু শেকল ছিল বিশাল হাতির পায়ে, 
চাইলে হাতি ছিঁড়ে ফেলবে এক পলকা ঘায়ে ।
 অবাক ব্যাপার ! হাতি মোটেই শিকল টানছে না তো– 
পালাতে পারলেও চেষ্টা মোটেই করছে নাকো ।

এটা দেখে তাজ্জব ছেলে, বাবাকে প্রশ্ন করে 
 সরু শেকল তবু হাতি কেন চুপটি করে ?
 ইচ্ছে করলেই শেকল ছিঁড়ে হতে পারে মুক্ত 
বনে চলে যেতে পারে সেটাই তো উপযুক্ত ।

বাবা তখন ভেবে চিন্তে এদিক-ওদিক চায়,
একটু দূরে মাহুতটারে আছে দেখতে পায় ।
ডেকে তারে বলেন বাবা, ওহে মাহুত ভাই সরু শেকলে হাতি বাঁধা চিন্তার কি কিছু নাই ?
শিকল ছেড়ে পালায় যদি কি করবে ভাই ?

 মাহুত বলে, না, না কর্তা, ভয়ের কিছু নাই 
ছোটবেলায় বাঁধতাম তাকে সরু শেকল দিয়ে, 
যতই টানুক চেষ্টা তার যেত যে বিফল হয়ে ।
গায়ে তখন জোর ছিল কম ছিঁড়ত না শেকল,
সেই বিশ্বাস এখনো তার রয়েছে অবিচল । 

দীর্ঘদিনের অসফলতা মনের মধ্যে বাস 
শক্তিশালী এখন যদিও মনের শক্তি নাশ 
বোবা প্রাণী জানে না তো সফলতার মানে,
 মনের জোরেই হাজার চেষ্টা সফলতা আনে ।

Friday, January 19, 2024

কবির বর্ম

কবি সত্যকথা বলেন । এটাই তার মনন ।
তাই কবির উপর অনেকে বিরক্ত হয় ।
কেউ কেউ কবিকে ভাবে ভীষণ বোকা  ।
কারো কারো কবির জন্যে মায়া হয় খুব ।

কবি এসব কথা জানেন না তেমনটা নয়
তবুও কবি সত্যের কাছে অবনত থাকেন ।
কবিতাই কবির বর্ম, সাহসের শক্তিময় ঢাল
কবিতার শব্দে শব্দে সত্যকে তুলে ধরেন

আঁধারের প্রাণীরা সব কবির উপর খেপে যায়
তারা কবিকে নির্বাসনের ফতোয়া ধরায়
 কবি তখন দূর মফস্বলে নিয়মিত নিত্যযাত্রী ।

পরিজনহীন ভূখন্ডে কবি নতুন দুনিয়া গড়েন ।
কবি খুঁজতে থাকেন, সে ভূখন্ড সত্য কোথায় আছে ?

Thursday, January 18, 2024

কবিতা

কবিতা

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

কত কথা আসে কত কথা চলে যায়
মনে হয় কিছু কিছু শব্দ ধরি করতলে
কিংবা মণিকোঠায় পুরে আটকে রাখি
 যাতে না পালায় । কিন্তু শব্দ চঞ্চল ।
কথারা আটকে থাকে না কোনো বাঁধনে ।

শব্দ কিংবা শব্দ জুড়ে কথার শরীর
যাই বলো না কেন সে যদি কবিতা হয়
তার শরীর থেকে কবিতার কস্তুরী ফোটে
তাহলে তাকেই বেঁধে রাখব বুকের ভেতর

Monday, January 1, 2024

কবিতাবতী

কবিতাবতী গর্ভবতী কবিতা পড়তে গিয়ে 
ছন্দবতী কবিতা লেখে স্বপ্ন বুকে নিয়ে
কলম খাতা নিয়ে
কবিতাবতীর স্বপ্ন ভাঙে কবি হতে গিয়ে
অক্ষরবতী অশ্রু লেখে বিষাদ নিয়ে
ঝরনা কলম দিয়ে

Thursday, December 7, 2023

শবশকট

শবশকট

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

শববাহী গাড়িটা মায়াঘাটের শেষ দরোজায়
নির্ধারিত গমন শেষে আচমকা থেমে যায় ।
সারা পথ তার সাথে যায় লৌকিক আচার,
মাইকে বাঁধা বিচ্ছেদী সুরে কীর্তনগান,
নগ্নপদ মানুষের মৃদু শ্বাস, টবে রাখা তুলসি গাছ ।

এই গাড়িতে বসার আসন নেই । এ এক শয়নযান ।
অনন্তের যাত্রী কেবল এ যানের সওয়ার হয় ।
যে শব হয়ে চলে যায় সে জানে না তার
 সাথে কে যায়, কে না যায়, কে, না যায় !

শবশকটের রং কেউ বুঝে শুনে কালো করেছে
কারণ জীবনেরই থাকে আলোর কারুমশাল,
তারপরেই নেমে আসে কালো রঙের আঁধার ।

জীবন যাকে ছুটি দিয়েছে সেই কালো আঁধারের
কে যায়, কে না যায়, কি এসে যায় তার ।

তাকে ফেরাবার মতো কোনো বেহুলার জন্ম হয় না ।


Monday, November 6, 2023

মোষ

মোষ 

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

মোষেরা ভীষণ ক্ষ্যাপা হয় । শিং দিয়ে সংহার করে । 
সেই বেয়াড়া মোষকে বাগ এনে পিঠে সওয়ার হওয়ার 
গল্পটা সাদামাটা নয় । বাহিনী নিয়ে রীতিমতো 
লড়াই করতে হয় । দুনিয়ার তাবত ভদ্রতাকে 
অলংকার পরিয়ে  নিয়ে
মোষকে ঘিরে ধরার কৌশল ব্যবহার করতে হয় ।

একগুঁয়ে স্বভাবের মোষ প্রায়শই তেড়ে ফুঁড়ে ওঠে, 
বিশাল দেহে তার ক্রোধই সম্বল । একমাত্র রক্ষাকবচ ।
তার মাথায় ঘিলু বলতে কিছু নেই, ধারালো শিং ছাড়া ।
এই মোষের পিঠে চড়ার স্বপ্ন যে দেখেছে একবার 
সে তার সমস্ত মেধা ও চাতুরি খরচ করতে থাকে,
খ্যাপা মোষকে বাগে আনার জন্য তাকে শোনায়
 ঘুমপাড়ানি গান আর রাজপাটের শোলোক ।

মোষকে বশ করে যে জন তার পিঠে উঠে বসে
 সে আর নামতেই চায় না এই নাদুস শরীর থেকে ।
 যতক্ষণ না তাকে টেনে হিঁচড়ে নামানো হয়
 ততক্ষণ সে যম রাজার প্রতিরূপ একজন ।

সৌরবিগ্রহ

সৌরবিগ্রহ

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

যে সূত্রে জেগে উঠেছিলাম এক আঁধারকালো জঠরভুবনে
 তিনিই আমার মায়ের শরীর । আজীবন এক বিজয়ের অহং
 তিনি লালন করেছেন তাঁর রহস্যময় গর্ভদেয়াল  ঘিরে। 
আমার মনে নেই সেইসব । আমাকে মুক্তমঞ্চে
 একা ফেলে রেখে তিনি চলে গেছেন বলে 
এক বিষন্ন অভিমান আমি হৃদয়ে পুষে বেঁচে আছি ।

মাকে আমি খুঁজে ফিরছি অনন্তসময়ের কোলাহলপথে । 
প্রতিদিনের পথচলা আমাকে দূরের এক
 ছায়াবিগ্রহের কাছে এগিয়ে নিয়ে যায় ক্রমাগত । 
যত এগিয়ে যাই আমি আকুল হয়ে দেখি সেই 
অস্পষ্ট চারুশরীর । দেখি আমার মাকে সেই সৌরবিগ্রহে । 
এক বিস্ময়প্রতিমা ! সমস্ত অন্ধকারের কেন্দ্র তিনি । 
আর তাঁর আলোগোলাঘরের আলোকদানা ছড়িয়ে দেন 
সারা পৃথিবীর শরীরে । আমি দেখি আমার 
হারিয়ে যাওয়া মা সেই আলোর কেন্দ্রে এসে দাঁড়ান । 

আমার তৃষ্ণার্ত নরজীবন গলে গলে মিশে যায় 
সেই প্রতিমারপদ্মময় চরণডোবানো জলাধারে ।

কোজাগরী

কোজাগরী

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

 হারানো পরম মুহূর্তগুলো সযত্নে তুলে
 রাখে কোজাগরী রাত ।
 সাঁঝবাতি নিভে গেলেই তার শরীর বেয়ে
 উপচে পড়ে আলো আর আলো । 
সে আলোর আছে মাদক আকর্ষণ ।  
আলোর ভাঁজে ভাঁজে সে তার নগ্ন
 শরীর মেলে ধরে । নগ্নতার মাঝে 
কোনো মিথ্যাচার থাকে না । 
কোনো ছলাকলাও নয় । আলোময়তা 
শরীরকে সুন্দর করে নাকি শরীর
 সুন্দর করে আলোকে ?  লাখ টাকার প্রশ্ন 
বাঁচিয়ে রাখে কোনো অতীতকথা ।
মৃতসঞ্জীবনী  অনুভব মৃদু মন্দিরার শব্দে
 এপাশ ওপাশ হেলে ঢলে পড়ে ।

ভোর না হওয়া পর্যন্ত কোজাগরীর 
দায় থাকে জেগে থাকার । 
ক্ষণিকের বিভ্রমে নষ্ট হয়ে যেতে পারে
 চাঁদের নগ্নতার পোষাক ।

সূর্যাস্তকাল

সূর্যাস্তকাল

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

সূর্যাস্ত নিপুণ হলে সুদর্শন হয় কোন সন্ধ্যাতারা
আকাশের অন্ধকার বিস্তারে তোমার মুখ ভাসে না ।
ভালোবাসব বলে পরিপাটি হৃদয় রেখেছি তাই
তুমি কি ঘোর কাপালিক নাকি অন্য কোনো তন্ত্রে
তোমার বিছানো আঁচলে যানজট গড়ে রেখেছে বলো ?

হঠাৎ কুয়াশাভোর এলে শরতকালের কথা মনে পড়ে
যে ভোরে আমার মা নক্সিকরা চটের ব্যাগ হাতে নিয়ে
বাপের বাড়ি নাইওর যাবেন বলে ঘাটে বসে থাকতেন
সম্পর্কিত দেওর মাঝির অপেক্ষায় ।  জারুল গাছের ছায়ায় শীতল হয়ে পানের খিলি বানাতেন ।

এখন তোমার আকাশে সেসব আলপনা ভাসে না আর
এখন চন্দ্রকথা আর চন্দ্রাবলি ছেড়ে চলে গেছে 
শোলোকের মামাবাড়ির চেনা সেইসব চিত্রকথা ।
ঘাট পেরুবার সেই মাতৃমঙ্গল শাঁখাভরা হাত নেই আর
তুমি আমি এখন অনেক অনেক বড়ো হয়ে গেছি

Friday, October 20, 2023

স্বীকার্য

স্বীকার্য

উত্তরের কথা যদি বলো তুমি আমি যাবো দক্ষিণে  
জল যদি সামান্য গড়ায় আমি বসতে পারি না 
জল যদি উঠোনে গড়ায় আমি দাঁড়াতে পারি না
জল যদি পথে গড়ায় পারি না আমি এগোতে
আর জল যদি ভূখন্ড ভাসায় আর 
হৃদয়ে যদি নতুন বাঁক আনে গড়ানো জল
তখন কোথায় যাবো, বলো ফুলসই? 

উত্তরের কথা বলো যদি তুমি আমি যাবো রাই দক্ষিণে ৷

Tuesday, August 29, 2023

সূর্যাস্তকাল

সূর্যাস্তকাল

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

সূর্যাস্ত নিপুণ হলে সুদর্শন হয় কোন সন্ধ্যাতারা
আকাশের অন্ধকার বিস্তারে তোমার মুখ ভাসে না ।
ভালোবাসব বলে পরিপাটি হৃদয় রেখেছি তাই
তুমি কি ঘোর কাপালিক নাকি অন্য কোনো তন্ত্রে
তোমার বিছানো আঁচলে যানজট গড়ে রেখেছে বলো ?

হঠাৎ কুয়াশাভোর এলে শরতকালের কথা মনে পড়ে
যে ভোরে আমার মা নক্সিকরা চটের ব্যাগ হাতে নিয়ে
বাপের বাড়ি নাইওর যাবেন বলে ঘাটে বসে থাকতেন
সম্পর্কিত দেওর মাঝির অপেক্ষায় ।  জারুল গাছের ছায়ায় শীতল হয়ে পানের খিলি বানাতেন ।

এখন তোমার আকাশে সেসব আলপনা ভাসে না আর
এখন চন্দ্রকথা আর চন্দ্রাবলি ছেড়ে চলে গেছে 
শোলোকের মামাবাড়ির চেনা সেইসব চিত্রকথা ।
ঘাট পেরুবার সেই মাতৃমঙ্গল শাঁখাভরা হাত নেই আর
তুমি আমি এখন অনেক অনেক বড়ো হয়ে গেছি

Sunday, August 6, 2023

বা রি ধা রা

বারিধারা

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

সময় থাকতে এলে না ।
তাপদাহে কালো হয়ে বকেছি তোমায় কত 
ভেবেছি তুমি আমাদের ছেড়ে যাচ্ছ ।

ঘরের পাশে বাগানের গাছগাছালি 
শরীর খুলে মিলিত নৃত্যে মেতেছে ।
আর তুমি তার সাথে তাল মিলিয়ে 
সোচ্চার একটানা ঝুমুর
 অনেকক্ষণ বেজে যাওয়া এ কনসার্টে ক্লান্তি আসে না ।

সারা আকাশ ঢেকে রেখেছে তোমার মেঘ, 
বেলা হয়ে গেলেও স্পষ্ট নয় সবকিছু 
আধো আলোতে চোখ বন্ধ করে শুনেছি প্রকৃতির গান ।

মাঝে মাঝে তুমি আমাদের ফাঁকি দিয়ে
 কোথায় চলে যাও খুঁজে পাই না ।
তুমি এলেই চারধারে সম্মিলিত মল বাজে ।
 শরীর জুড়ে জেঁকে বসে শীতল আবেশ,
 মৃত জীবন আবার প্রাণ পায়, সজল হয় ।

Wednesday, July 26, 2023

অন্ধকারের কড়চা

অন্ধকারের কড়চা

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

একেকটা বীভৎস ভিডিও বারবার ভেসে ওঠে আমার মোবাইলের পর্দায় । বারবার মুছেও উজবুকদের উৎসাহ এড়াতে পারি না । ছবিগুলো থেকে ভেসে আসা আর্ত চিৎকারে আমার শিশুটার ঘুম ভেঙে যায় ।

আমাদের হিরণ্ময় বিদ্রোহের দুপুরগুলো মহাসন্ধ্যার দিকে ঢলে পড়েছে, হিংস্র উল্লাসের চিত্রগুলো আমরা প্রতিক্রিয়াহীন দেখে যাই সমাজমাধ্যমে ।

ধর্ষণও হত্যার ছবি শেয়ার করে কি বোঝাতে চাই জানিনা নিজেও । জানিনা, কারণ আমার অবচেতনকে আমি চিনি না । আসলে এই ছবি দেখে প্রতিবাদ নয়, বিদ্রোহ, বিক্ষোভ নয়, অবচেতনের একটা সারমেয়র লালায়  মহাপ্রস্থানের পথ পিচ্ছিল হয় ক্রমাগত ।

স্বঘোষিত সমাজকর্মীদের দ্বারা বারবার শেয়ার করা ঘৃণ্য দৃশ্যাবলী বস্তুত বিবেককে স্থবির করে তোলে । আর হিংসার আগুন আরো আরো বাড়ে । যেমন জুমের আগুন ছড়ায় পাহাড় থেকে পাহাড়ে । লেলিহান শিখায় পোড়ে মাতৃতান্ত্রিক ঐতিহ্য । মানবতা মরে যায়, লাশ গড়ায়, আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে প্রমাণ লোপাট হয়ে যায় ।

আমাদের কবিতাগুলো নির্বাক শব্দই গেছে যায় ভাঙা ইমারতে । আর হাততালিতে উড়ে যায় লক্ষ্যহীন পথে  একদল পোষা কবুতর । দ্রোহময় শব্দগুলো নিরবে অপেক্ষায় থাকে কখন শেষ সতর্ক সংকেত দিয়ে আছড়ে পড়বে অনিবার্য ঝড় । সে ঝড়ের অপেক্ষায় কাগজের ঘরের কবিতা হাওয়ায় উড়তে থাকে ।

অবেলার বনপথ

অবেলার বনপথ

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

ও পাড়ার চা বাগান ঘুরে এলেই তোমার পায়ের ঝুমুর নাচের তালে টিপটিপ করে ওঠে বুক । তোমাকে ডেকে ডেকে পাড়া মাথায় করে অভিসারে যাব, নাকি চুপিচুপি পাতা ও কুঁড়িদের আভাস ঠেলে পৌঁছে যাব ইশারাঝোপের লুকোচুরি ছায়ায় । 

যেভাবে এগোই না কেন পায়ের চাপে শুকনো পাতারা কোলাহল করে ওঠে ।‌দৌড়ুলে শব্দ আরো বাড়ে । বেড়ালের মত টিপটিপ পায়ে এগোব সেও সাধ্যি নেই । মাথার উপর সতীনের মতো কোকিল ডেকে ওঠে আচমকা । তাকে বারণ করবে কার সাধ্যি ? বসন্ত এলে সেও খোঁজে নিজের সঙ্গী ।

এই টিলা বাড়িছাড়া আমার কোন চেনা পথ নেই । অথচ তোমার কাছে যাব বলেই আমি বেলা থাকতেই সব কাজ গুটিয়ে নিয়ে পশ্চিম আকাশের রাঙা মেঘ দেখেছি । সেই লাল রঙ আস্তে আস্তে গাঢ় কালোতে মিশতেই বনপথ ধরেছি এমন হতাশ হতে হবে জানলে আমি এই অর্থহীন বিকেলের জন্য কিছুতেই অপেক্ষা করে থাকতাম না ।

Sunday, January 29, 2023

সান্ধ্যবার্তা

+~+ সান্ধ্যবার্তা +~+

অশোকানন্দ রায়বর্ধন
-----------------------------------------
আর কঘন্টা অতিক্রমণের পর আমার বানপ্রস্থের নোটিশ কার্যকর হয়ে যাবে ৷ এতোকাল বাণীর অঙ্গনে কুড়িয়ে ফিরেছি নুড়ি ও নূর ৷ এ সন্ধ্যা আমার জন্যে বয়ে আনবে মাঘমিছিলের হিমপ্রবাহ ৷ তারপর থেকে আমি শুধু বাতিল ক্যালেন্ডার ৷ প্রভুপাদের করুণায় প্রদেয় মাধুকরী আমার বরাদ্দ রসদ হয়ে যাবে ৷ এও এক জাদুময় রসিকতা, যার চটুল উল্লাসের স্ট্যাম্পছাপ নিয়ে গড়াতে গড়াতে পেরিয়ে আগত প্রতিটি পল ও দিবানিশি ৷ কোনো পুষ্পস্তবক নেই, কোনো সনদও বরাদ্দ নেই আমার জন্যে ৷শুধু এই যান্ত্রিক পিঠের উপর কতো পদচিহ্ন চুম্বন করে ওপরে চলে গেছে তার অগণিত বেদনায় আমার প্রহর পেরোবে নিভৃতে হে ৷
সালতামামি লিখে লিখে আমি হাওয়ায় উড়িয়ে সমস্ত কাগজকুচি ৷যদি সুযোগ হয়, কুড়িয়ে নিয়ে জাদুঘরে রেখে দিও সংরক্ষিত কোটরে ৷ এই শেষ অভিপ্রায় পূর্বপর্বের সতীর্থ শ্রদ্ধাস্পদের কাছে ৷ অশোক ও আনন্দকে আলিঙ্গনের আগে অতিক্রান্ত সন্ধ্যার শুভ উপহার ৷

Friday, October 28, 2022

কালো মেয়ে

কালো মেয়ে
---------------------------------
অশোকানন্দ রায়বর্ধন
**********************
আলোরাতের কালো মেয়ে লো  হৈমন্তী ঘ্রাণ তোর গায়ে 
কুয়াশার দীঘল রুমালে তুই  রেখেছিস জড়ায়ে

 লিপিদাগ শীতের আমন্ত্রণের  বিরল টেরাকোটা
লিখেছিস অমোঘ আখরে কালোবরণ ফোঁটা

যতোই জানি তোর ঠিকানা এই যে আঁধারমায়াগলি 
ততোবারই ভুলে যাই আমার কষ্ট গেরস্থালি

  এত কাল অবলীলায় মেখে নিলি তুই অঙ্গে
 তোর আলো বিলিয়ে দিলি তোর রূপটানেরই সঙ্গে ৷