Showing posts with label অশোকানন্দ রায়বর্ধন কবিতা. Show all posts
Showing posts with label অশোকানন্দ রায়বর্ধন কবিতা. Show all posts

Sunday, November 12, 2017

আকাশ-এক


বাঘা যতীন স্টেশনের লাগোয়া সাদা রঙের হাইরাজারগুলো
উঁচুতে উঠছে ৷ বড়ো হয়ে উঠছে ওদের সফেদ শরীর ৷
শুধু মানুষগুলো যতো উপরে উঠছে ছোটো হয়ে যাচ্ছে
আর যেন ছায়া ছায়া কালো হয়ে যাচ্ছে ওদের শরীর ৷

ট্রেন ভরে মানুষ ছুটে যাচ্ছে শহরের দিকে
জীবন জীবিকার খোঁজে রাম ও রহিম একাকার
অথচ এতো এতো লোক কুঁকড়ে গিয়েছে মানুষের দাপটে ৷

ইট পাথরের শরীর সম্মিলিত ভাবে শুভ্র হয়ে
উদার আকাশের কাছাকাছি
লোকাল ট্রেনের চৌদ্দ ভুবনেও
অগণিত মানুষ জড়িয়ে নেবার নিত্যবিধান

ক্রমশ মানুষ ছোটো হয়ে যাচ্ছে ইমারতে উঠে যাওয়া,
ট্রেনের ভেতর দুমড়ে থাকা অন্নকামী মানুষ

হে মুর্শিদ, গ্রাম ও শহরের বিপন্ন মানুষদের আরো বড়ো হবার মন্তর দাও
নিদান দাও বিশ্বাস আর মানবিকতার এই জীবনার্ত মানুষজনকে ৷
এই অসহায় যাপননেবাড়িয়ে দাও বাড়িয়ে দাও আত্মার বিস্তার  আর প্রাণারাম ৷

আকাশ - 2

পরিপাটি বিন্যাসের পর যদি প্রশ্নবোধক হয়ে যায়
স্বপ্নকানাৎ ছিঁড়ে যদি উঁকি দেয় জলকুন্ডলীর কিরণ
গুছিয়ে রাখা সব দস্তাবেজ উড়ে  বানকুরালী হাওয়ায়
সন্ধ্যামালতীর নিঝুম নির্যাসে কিছু বিষাদ মেখে যাবে

সাজানো বাগান নিয়ে বড়াই দীর্ঘকাল ধরে রাখা দায়
কে কখন মুড়িয়ে যাবে প্রহরীবিহীন সিংদরোজা ঠেলে
জোছনা রাতের নিঃসঙ্গ মেঘ সরে যাবে ভদ্রাসন ছেড়ে
চাঁদকে আড়াল করে থমকে দাঁড়াবে অন্ধকারের আশায়

অস্ত্রসম্ভারে যদি সুসজ্জিত হয়ে ওঠে সমস্ত সরল কুসুম
প্রিয়নিলয়ে ঘরোয়া রণবাদ্য শুধু সময়ের অপক্ষায় থাকে
অস্ত্রের মুখে ভালোবাসার ব্যরিকেড হতে পারে মহৌষধি
আদিগন্ত প্রসারিত বাহু উদারবন্ধ আকাশ ছুঁয়ে যাবেই

Wednesday, July 12, 2017

জ্বর

মাথুরকাঙাল ভাষায় খুলে দেওয়া সব কাঁটাবিষ
ঝরনাপ্রবণ  উচ্ছ্বাসে ঝাঁপ দেবার আদিসূত্র
ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হলে কবিতাও বুঝি থমকে যায়

প্রেমের জন্যে জ্বর হলে দেখি কবিতার বাড়বাড়ন্ত

Monday, June 26, 2017

বর্ষণ

জল পড়ে পড়ে জল হৃদয় সাগর
মনে পড়ে পড়ে মনে প্রাচীন বাসর
একা একা গেয়ে যায় বৃষ্টির বিন্দু
ঝরে ঝরে গড়ে চলে বিষাদের সিন্ধু
প্রহরে প্রহরে শুনি কান্নাই শুধু
অতীত প্রণয়ে ভাসে ঘরভাঙা বধূ
সুখের স্মৃতির কাছে সংসার মেদুর
প্রেমকথায় কাছে আসে বিলুপ্ত সুদূর

Friday, June 23, 2017

বর্ষণ

জল পড়ে পড়ে জল হৃদয় সাগর
মনে পড়ে পড়ে মনে প্রাচীন বাসর
একা একা গেয়ে যায় বৃষ্টির বিন্দু
ঝরে ঝরে গড়ে চলে বিষাদের সিন্ধু
প্রহরে প্রহরে শুনি কান্নাই শুধু
অতীত প্রণয়ে ভাসে ঘরভাঙা বধূ
সুখের স্মৃতির কাছে সংসার মেদুর
প্রেমকথায় কাছে আসে বিলুপ্ত সুদূর

Monday, June 12, 2017

কোজাগরী

গৃহী বাউল হয়ে ভদ্রাসনের চৌকিদারী
সন্ততিরা চৌকাঠ ডিঙিয়ে ভুবনগঞ্জের মাঠে
ওরা আকাশ দেখে আর ইমারত গড়ে আকাশসমান ৷
হাতের মশাল নিবিয়ে রেখে বিলীয়মান ধোঁয়ায়
তাৎক্ষণিক চিত্রকথায় ভেসে যায় ভাঙা অতীত

সমস্ত দায়ভার স্বর্ণকুম্ভে তুলে নেওয়ার জন্যে
জীবন বাজি রাখেন সুন্দরী কমলা আজীবন
তার কোনো নথিবদ্ধ ইতিকথা লেখা হয় না

কে জাগে?  তোমরা জাগো কী আগামীর মহীরুহ যতো সব?
কে জাগে?  জাগে শুধু রক্তের ধারা, ভুলে বিত্ত ভুলে বৈভব

Thursday, June 8, 2017

শ্রম

আট ঘন্টার বস্তুবাদী লড়াইয়ের ময়দানে উর্বরতা নেই ৷

ফুল ও স্বপ্ন ফোটার চেয়ে তাওয়ায় ভেসে ওঠা রুটির পোড়া পিঠের ওপর চোখ যায় বরং

শব্দশ্রমিক অষ্টপ্রহর কলমে কাগজে আকাশ দেখে, আকাশগঙ্গা দেখে

রামধনু আঁকবার জন্যে পেয়ালা ছুঁড়ে মারে শূন্যে
গেরস্তগোলা থেকে সব শস্য পেড়ে এনে
আলপনা দেয় আশ্রমের উঠোনে

আশ্রমবালিকার ঝরনাকথনে বোধিধ্যান ভেঙে
কবিও কলমুখর ব্রহ্মপুত্র দৌড়বিদ

মানস সরোবরের অর্গল খুলে আছড়ে পড়ে স্বচ্ছ শব্দস্ফটিক

নুড়ি কুড়িয়ে নিয়ে শুধু স্মৃতির ঝাঁপি ভরে ওঠে হরেক রঙে

স্বেচ্ছাশ্রম নিপুন হয়ে উঠলে উঠোন ভরে যায় অলৌকিক রঙ্গোলিতে

কবিতা তখন তপোবন ও আশ্রমপ্রতিম ৷

Monday, June 5, 2017

হোলি গান

বেনামী কুটিরের গায়ে আলপনা এঁকে রেখে
বর্ষবিদায়ের পথে আবিরের চালচিত্র--

কতোটা ভালোবাসা রেখে গেলে শান্তি নামে ৷
সকাল সন্ধ্যার আঁটিবাঁধা খুচরো সংসারের তালিকায়,
তালুতে দাদনের স্বরলিপি সুরের জন্যে উসখুস ৷
নেতিয়ে পড়ে মেজাজি মালিকের জবাকুসুম চোখের সামনে,
যার গায়ের জামায় বিগত হোলির আদিম গন্ধ ৷

হোলি তবু আসে ৷ আসে প্রতি সন ৷
তার ঝোলায় থাকে প্রাচীন মেইজাইয়ের উপহার,
বিলোবার পরিবেশ পায় না ৷
অথবা খুঁজে পায় না কোনো পবিত্র সূতিকাঘর ৷

Tuesday, May 30, 2017

ভাব

তোমার চুলে জমাট হওয়া
গাঢ় অন্ধকার
সেই আঁধারে মুখ ডুবিয়ে
খুলি হৃদয়দ্বার

Saturday, May 27, 2017

অন্ধবাথান

যে জনপদে কোলাহল নেই সে মৃতবৎ ৷
প্রাণের সঞ্জীবনী সঙ্গীতের রণন থাকে না চরাচরে

এখানে দেখি প্রতি সন্ধ্যার উলুময়তার পর
হঠাৎ নেমে আসে নির্লিপ্ত নিঝুম ঝিঁঝিঁর ডাক
আঁধারের আস্তানায় গুঞ্জন থামিয়ে দস্তানা খুলে
হাত বাড়ায় নৈশব্দের দানোজানোয়ার

পড়শির মোকাম জুড়ে ঘুমের সম্মোহন
সব যেন রূপকথার জাদুপুরীর  নিস্তব্ধতা
কোথায় হাত বাড়াবো আমি, কোন অন্ধবাথানে?

কালু কামার

কালু কামার ৷ কে কালু কামার?  গায়ের রঙ কালো বলে কী কালু কামার?  নাকি কালো পাথরের সাথে ছেনিসঙ্গমে জাগিয়েছে প্রাণ তার জন্যে? যে দেবতারা জীবকে সৃষ্টি করে বলে অহংকৃত মিথমগজ জনারণ্যে দাপিয়ে বেড়ায়,  সেই দেবতার জন্মদাতা কালু কামার?

এতোবড়ো ধৃষ্টতার জন্যেই ঊনকোটি দেবতারা স্বীকৃতি দেওয়ার সাহস পেলি না তোদের জনককে ৷

পরিচয়হীন কালু কামার ৷ মজাদার বাক্যবন্ধের জন্যে বিখ্যাত যে রমাকান্ত কামার ৷ তেমন কেউও হতে পারল না কালু কামার ৷

যুগে যুগে  পাহাড় কন্দরে জন্ম ও লালনে দেবতা গড়ে তোলে  তিলে তিলে ঘাম ও রক্তে ৷
নিভৃত লুঙ্গায় মশালের আলোয় আর মশার কামড়ের যন্ত্রণা ভুলে যে দেবকুলকে গড়ে তোলে কালু কামার,

ত্রিভুবনবাসের আভিজাত্যে তারা কালু কামারকে চেনে না ৷ পিতা নেই তাদের ৷ তাদের গোষ্ঠীপতি স্বয়ম্ভুনাথ ৷ ঊনকোটিপতি ৷

কালু কামার আজো সাব অল্টার্ণ একলব্যপ্রতিম ৷

Monday, May 22, 2017

রাই

ডাকব বলে এসেছিলাম ডাকতে পারি নি
মুখের ভাষা বুকেই রইল মনোহারিনী
হৃদয়ে কী আগল ছিল দরজায় ছিল খিল
যমুনার জল সেই শোকেই কী ধরেছে রঙ নীল
ও কিশোরী জানালে না তো কখন যাব আবার
কখন আবার সময় হবে তোমায় কাছে পাবার
হা-হুতাশ বুকের বাতাস লুকিয়ে রাখি তাই
তোমার বুকেই ঘর বানাব ঘর পালানো রাই

ভাষা

দূরের সাম্পান থেকে তোমার উঁকিঝুঁকি আমি তার নাগাল পাই না, কিংবা হদিশ

নৌকোর বুকে লাগা নদীর ছলাত্ছল ঢেউয়ের ইশারায় কী একই ভাষ্যপাঠ

চাঁদ

জোছনা যখন সাঁতার কাটে
অন্ধকারকে দুপাশে ঠেলে দেয়

চাঁদের ডিঙি এগিয়ে যাবার পথে
তারার দল খই ছিটিয়ে যায়

আঁধারমঞ্চের পরপারে লালভোর
সাজগোজ করে বসে থাকে
কখন পাখিরা একসঙ্গে ডেকে উঠবে

চাঁদ নীরবে এগোয় নির্ধারিত কক্ষপথে ৷

তাগিদ

সদ্য পাটভাঙা মৌসুমী মেঘ উড়ে এসে 
উঠোনের উত্তর কোনায় বাতাবি লেবুর
খইফোঁটা ফুলের গন্ধে গাঢ় নিঃশ্বাস নেয়

চরাচর নিঝুম হয়ে গেলে রহস্যে পরকিয়া
চিঠিতে শব্দ উঠে আসে হামাগুড়ি দিয়ে

নিদাঘের তাপমাত্রা কমে এলে তুমি নাকি
ভালোবাসার জন্যে ভাটিয়ালি বেছে নাও

ঘাট থেকে জল তুলে নেয়ার কালে কালিয়াভীতি
নতুন করে ব্রজবুলি লেখার তাগাদা শোনায়

ঘোমটা থাক বা না থাক
তোমার মুখের স্মিতভুবনই এখন
আমার গোপন চাবিকাঠি
সে কী তোমার জানা আছে?

Sunday, May 21, 2017

খোঁজ


অশোকানন্দ রায়বর্ধন
যে অচিন পাহাড় জুড়ে চর্যার হরিণ দৌড়ে বেড়ায়
সেখানে সূর্যোদয় আটকে গেছে যুথমেঘের আবরণে
কোথায় হরিণীর প্রিয়পুরুষ এই মেঘমাখা পাহাড়পুরে
আড়ালে আড়ালে থেকে ছলবার্তা ছড়িয়ে দেয় চারপাশ
আসঙ্গমাতাল মৃগীর হৃদয় তোলপাড় খোঁজে মাদকধ্বনি
আর তীব্রদৌড়ে তোলপাড় করে ফেলে স্থবির পাহাড়

Saturday, May 20, 2017

হিমঘর


অঘ্রাণবিধূর কুয়াশাপিয়ানো, তোমার করুণ মূর্ছনায় আমাকে কাঁদিও ৷
কোমল ঝরনার স্বচ্ছ গভীরের নুড়ির চলন যেন দিকভুল
করে থমকে যায়
নোঙর
-------------------------------------------
সামনে খ্রিস্টমাস ৷
দিঘল ছায়ার গীর্জা মূক হয়ে আছে
ঝাউবনের পাশে ৷
বাতাস হিমস্নান মিশিয়ে পথ খুলে রেখেছে
কুমারী মেরির জন্যে ৷
ভালোবাসাভর্তি একটা নৌকো
সহসাই নোঙর করার কথা
দুখি মানুষ সব, পারে এসে দাঁড়াও

সংক্রান্তি

তোমার হাত কী মোহনীয় হয়ে উঠবে এই সংক্রান্তির সন্ধ্যায়
নিকোনো উঠোন আলপনায় রাঙানো হয়ে গেলে ক্লান্ত হাত
পড়শির পরশ চাইবে নিভৃতে অন্তত প্রশংসামুখর দুচোখ
যেমন মাহেন্দ্রসূর্য কুসুমশোভন হাসিতে স্বচ্ছ উঠোনে বুলোবে চোখ
পিটুলিগোলার রঙ ভেসে উঠতেই
তোমাকেও মনে হয় সেজে উঠেছ
মাঘসকালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে
বুড়ির ঘরের সামনে যেন আগুন উত্তাপের একমাত্র পরিষেবাপুষ্ট
রক্তিম আঁচের আভায় একমাত্র তুমি যেন সুন্দরী হয়ে ওঠো কুয়াশাভোরে
পৌষের শেষ সকাল এভাবেই প্রাতঃভ্রমণ সারে তোমাকে নিয়ে ৷

ঠিকানা


ভাবের বাসরঘর থেকে জমকালো বাসনকোসনের
আওয়াজ ওঠে ৷ শিকের ঝুলন্ত হাঁড়িতে প্রেমের রসমালাই ঝোলে আর দোলে
উসখুস ঠোঁট খুঁজে ফেরে গাঢ় চোখ
যে চোখে এক ধূপছায়া ইসারার ঝিলিক
ভাব না জানলে লেনাদেনা বন্ধ করার
কোনো হেতু নেই ৷ পদ্মরেণু গায়ে মেখে
ভ্রমর উড়ে যায় প্রজন্মকুঠুরির দিকে ৷
তার প্রলুব্ধ পিরিতের স্থায়ী মোহর যেন
থেকে যায় অনন্তপাথার জুড়ে ৷
সব পিরিতই ঠিকানা খুঁজে গৃহবাসী হয় ৷

ব্যর্থ বার্তা


পরিযায়ী গাছের বিশাল ডানা আঁধার বাড়িয়ে তোলে
তাকে ছাড়াবার কোনো মিতকাম প্রয়াস নেই
চারপাশে মৃত্যুর ঘ্রাণ ঘিরে ধরে ম্লান করে দেয়
ব্যবহারিক বিকেল ৷ বাস্তবের শকুনেরা হারায় যদিও
বাসা বেঁধে ফেলে মানুষের বসতিতে ৷ শুধুই ছোরা বন্দুক
পরস্পরের দিকে তাক করে চাঁদমারি চর্চা চলে দিনরাত
দক্ষিণের যে হাওয়ার গুণগ্রাহী ছিলেন আমাদের পূর্বজরা
সে বাতাস এখন আগুনের আঁচ নিয়ে ঢোকে জনপদে
সমুদ্রের গর্জনের নিহিত ছন্দ ভেঙে যায়, বাড়ে ক্ষোভ
এসময় বিমর্ষ বেলাভূমি ধরে তুমি আর আমি
হাতে হাত ধরে কোথায় যাবো? কুড়িয়ে নেবার মতো
রঙিন নুড়িও যে পড়ে নেই বিধ্বস্ত তটের বুকে
প্রত্নচাঁদের আলোয় তোমাকে জীবনের কোমল প্রতিবিম্ব
দেখাবো বলে এনেছিলাম নির্জনে, ব্যর্থ হলো সে অভিসার