Wednesday, December 12, 2018

সাপকথা


সাপ অথবা সাপিনী  সকলেই গহ্বরগামী
সকলেই রোদে পিঠ দিয়ে রামধনু রঙ ঠিকরে দেয়
মনে হয় ওদের ঈর্ষা আর ক্রোধ ক্রমাগত
থেমে আসে শীতের হিমকাতর ঋতুচুমুতে

আগাম হিমের সংকেত বোঝে এইসব সরীসৃপ
তাই কন্দরের সন্ধানে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে
যেহেতু ছলম পাল্টাবার পর শরীর নাবাল হয়
অস্ফুট বাগদান সেরে নেয় উষ্ণ ভূতাপে

আগামী বসন্তে যুগনদ্ধ হবার সাধ লালন করে পরস্পর

Thursday, December 6, 2018

আমার একটা অভিজ্ঞতা আছে ৷ বিলোনিয়াতে ট্রেনে চড়ার ৷ উনিশ শো তিয়াত্তর সাল ৷ আমি তখন বিলোনিয়া কলেজে পড়ি ৷ মাত্র কদিন আগে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৷ একদিন আমরা কলেজের প্রায় ত্রিশ জন ছাত্র কলেজ ফাঁকি দিয়ে এপারের বিলোনিয়া সীমান্ত পেরিয়ে ওপারের বিলোনিয়া স্টেশনে পৌঁছাই ৷ সেখানে একটা বড়ো কুলগাছ ছিল ৷ সবাই মিলে গাছের কুল ধ্বংস করার পর  রেললাইন ধরে হেঁটে হেঁটে ফুলগাজি বাজারে গিয়ে উঠি ৷ আমাদের দলের নেতৃত্বে ছিলেন মানিকদা, মানিক মুহুরী ( চৌধুরী) ৷ তাঁর তখন খুব জনপ্রিয়তা ৷ বাংলাদেশ মুক্তি যুদ্ধের সময় তিনি এপারের যুবশক্তির আইকন  ৷ মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছিলেন নানাভাবে ৷ ফলে ওপারের লিডারদের তিনি শ্রদ্ধা ও স্নেহের পাত্র ছিলেন ৷ আমরা যখন দল বেঁধে মানিকদার সঙ্গে পরশুরাম বাজারে পৌঁছাই তখন সেখানকার আওয়ামি লিগের নেতারা মানিকদা ও আমাদের দারুণভাবে আপ্যায়ণ করেন ৷ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পর আমরা ট্রেনে চড়ে আমাদের সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশের বিলোনিয়া স্টেশনে এসে নামি ৷ তখন ট্রেনের ইঞ্জিনটা সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড ঘেঁষে থামত ৷ আমরা এপারের বাঁধের উপর থেকে এ দৃশ্য দেখতাম ৷ তার পরেও অনেকদিন পর্যন্ত ট্রেন এখানে আসত ৷

Wednesday, November 28, 2018

স্বপ্ন

এটিএমের কিউমুখী কবিতা
হাঁপিয়ে উঠলে হাওয়ামিঠাই
রঙচঙে ও লোভনীয় হয়ে ওঠে

যেমন ব্রেক আপ মিটমাট হলে
জলদাপাড়া কিংবা কাজিরাঙা
যেখানেই যাই ঝালাই মিস্ত্রিরা
বখশিসের হাত বাড়িয়েই রাখে ৷

Tuesday, November 6, 2018

বিলোপ

এভাবেই মুছে যাই, মুছে যেতে হয়
যারা ভালোবাসে আর কাছে টেনে নেয়
তাদেরই কেউ কেউ মুছে ফেলে আমাকে
আর অন্য যারা ভাসমান দোনামনায় আছে
তারাও অবসরবিনোদনের কালে পাঁজিপুথি দেখে
খুঁজছে মাহেন্দ্র কিংবা অমৃতযোগ
কখন ছেঁটে ফেলা যায় আমাকে

এইসব মোছামুছি আর ঘষাঘষির ফলে
আমার শরীরে এখন চুম্বনচিহ্নের মতো
শুধু ফ্যাকাশে ইরেজারের ঘষটানো দাগ

Saturday, October 27, 2018

নদীকথা

বহুদিন দেখিনা এই দৃশ্য ৷ একসময় ত্রিপুরার প্রতিটি নদীপথে এ ছিল নিত্য দিনচিত্র ৷ সাবেক উত্তর ত্রিপুরায় এই পদ্ধতিতে বাঁধা বাঁশের সারিকে বলা হত 'ছুরুঙ্গা' ৷ আগরতলা- উদয়পুর সন্নিহিত অঞ্চলে একে বলা হত 'চালি' ৷ আর দক্ষিণ ত্রিপুরায় বাঁশ পরিবহনের এই পদ্ধতিকে বলা হত 'খাতুনি' ৷

Friday, October 26, 2018

গান

বেদনাআসমান থেকে বিষন্ন তারারা আঁধাররাতের শিউলি হয়ে গেল ৷ ঝরাবেলার গান সন্ধ্যাসিঁদুরের স্বপ্নওমের জন্যে ডুকরে ওঠে ৷ ফুরন্ত সূর্যাস্তচরাচর দীর্ঘশ্বাস ছুঁড়ে দেয় ব্যর্থচুমুর শেষদাগের আদলে ৷

যেখানে রেখেছ হৃদয় সে যেন প্রশ্রয়ে থাকে
চিরপদাবলি পুরাণপ্রত্যাশায় একা জেগে থাকে ৷

Friday, October 19, 2018

স্বীকার্য

উত্তরের কথা যদি বলো তুমি আমি যাবো দক্ষিণে 
জল যদি সামান্য গড়ায় আমি বসতে পারি না
জল যদি উঠোনে গড়ায় আমি দাঁড়াতে পারি না
জল যদি পথে গড়ায় পারি না আমি এগোতে
আর জল যদি ভূখন্ড ভাসায় আর
হৃদয়ে যদি নতুন বাঁক আনে গড়ানো জল
তখন কোথায় যাবো, বলো ফুলসই?

উত্তরের কথা বলো যদি তুমি আমি যাবো রাই দক্ষিণে ৷