চাকলা রোশনাবাদ ও পরগনা বামুটিয়ার অতীত ইতিহাস : ক্ষীণ অবলোকন
অশোকানন্দ রায়বর্ধন
আমরা বর্তমানে যে ত্রিপুরারাজ্যকে দেখি, একসময় এর বিস্তৃতি আরও বিশাল ছিল । বর্তমান ত্রিপুরারাজ্যের (পূর্বতন পার্বত্য ত্রিপুরা বা স্বাধীন ত্রিপুরা) পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অভ্যন্তরে প্রায় ৬০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে এ অঞ্চল ছিল 'চাকলা রোশনাবাদ' নামে পরিচিত । প্রাচীনকালের এই বিস্তীর্ণ সমভূমি ত্রিপুরার রাজাদের জমিদারির অধীনে ছিল । 'সমতল ত্রিপুরা' বা 'জিলা ত্রিপুরা' ছিল এই অঞ্চলের তখনকার নাম । মুঘল সম্রাট মোহাম্মদ শাহর আমলে ১১৪২ ত্রিপুরাব্দে (১৭৩২ খ্রি.) মহারাজা ছত্রমানিক্যের (১৬৬১-১৬৬৬) প্রপৌত্র জগতরাম ঠাকুর বলদাখালের জমিদার আকা সাদেকের সহায়তায় ঢাকা নেজারত এর সুবিখ্যাত দেওয়ান মীর হাবিবের সাথে মিলিত হন । মীর হাবিব এই সময়টার গুরুত্ব বিবেচনা করে সুযোগ গ্রহণের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রভু বাংলার নবাব সুজাউদ্দিনের (১৭২৭-১৭৩৯ খ্রি.) অনুমতি নিয়ে বিরাটসংখ্যক সৈন্যসহ জগতরাম ঠাকুরের সাহায্যের জন্য ত্রিপুরায় এসে হাজির হন । কুমিল্লার সন্নিকটস্থ স্থানে ত্রিপুরা সৈন্যদলের সাথে তাদের যুদ্ধ হয় । যুদ্ধে দ্বিতীয় ধর্মমানিক্য পরাজিত হন । আর মীর হাবিব জগতরামকে 'জগতমানিক্য' আখ্যা দিয়ে ত্রিপুরার রাজা বলে ঘোষণা করেন । এসময় নবাব সুজাউদ্দিন ত্রিপুরার এই সমতলভূমিকে 'চাকলা রোশনাবাদ' নাম দেন । রোশনাবাদ মানে 'আলোর ভূমি' । মুঘলদের অধিকৃত পূর্বপ্রান্তের ভূমি যেখানে প্রথম সূর্যের আলো এসে পড়ে । কৈলাস চন্দ্র সিংহের মতে বার্ষিক ৯২ হাজার ৯৯৩ টাকা নির্দিষ্ট করের বিনিময়ে জগতরাম এই সমতল ক্ষেত্রে ইজারা নেন । কিন্তু আর একটি গ্রন্থে অন্য তথ্য পাই, 'The Manikya kings of Tippera held the Chakla Roshnabad as zamindar under the Mughals paying an annual revenue of rupees 40,000 to the imperial treasury'.¹ এই অঞ্চলে মুঘলদের ফৌজদার নিযুক্ত হন আকা সাদেক । এভাবেই সমতট অর্থাৎ সিলেট, কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালির কিয়দংশ নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি 'চাকলা রোশনাবাদ' বা 'রোশনাবাদ' নামে মোগলদের হস্তগত হয় এবং ত্রিপুরার রাজারা এই অঞ্চলের জমিদারি পান । এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চাকলা রোশনাবাদ প্রথমে ২৪টিপরগনায় বিভক্ত ছিল । দাউদপুর পরগনা তার মধ্যে অন্যতম । কিছুদিন পরে দাউদপুরের মুসলমান জমিদারগণ তাদের রোশনাবাদ থেকে খারিজ করে নেন । সুতরাং মীর হাবিবের ত্রিপুরা বিজয়ের পর ত্রিপুরেশ্বর ২৩টি পরগনা মাত্র জমিদারী স্বরূপ পেয়েছিলেন । ক্রমে রোশনাবাদ ৫৩ টি পরগনায় বিভক্ত হয় । প্রধানত রাজপরিবারের 'জুলাই' দ্বারা এবং ত্রিপুরেশ্বরের প্রাচীন কর্মচারীগণ কর্তৃক ( স্ব স্ব নাম চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য ) এক একটি বৃহৎ পরগনার কিয়দংশ (স্বয়ং তালুকস্বরূপ নিয়ে স্ব স্ব নামে ) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এক একটি পরগনা সৃষ্টি করেছিলেন । যুবরাজ চম্পক রায় মহারাজ রত্নমানিক্যের সময় নুরনগরের শাসনকর্তা নিযুক্ত ছিলেন । তিনি নূরনগরের কিয়দংশ দ্বারা চম্পকনগর সৃষ্টি করেন । মহারাজ কৃষ্ণমানিকের উজির জয়দেব নুরনগরের কিয়দংশ দ্বারা জয়দেবনগর নামক পরগনার সৃষ্টি করেছিলেন । প্রকৃতপক্ষে রোশনবাদের মধ্যে নুরনগর, মেহেরকুল, বগাসাইর, তিষ্ণা ও খন্ডল এই পাঁচটি মৌল বৃহৎ পরগনা ছিল । এই পাঁচটিসহ মীর হাবিবের সময় ২৪টি পরগনা গণনা করা হয় । এই চব্বিশটি থেকে দাউদপুর খারিজ হয়ে ২৩টি ছিল । ১৮৬১ থেকে ৬৪ খ্রিস্টাব্দের রেভিনিউ সার্ভেকালে রোশনাবাদের মধ্যে ৫৩টি পরগনা পাওয়া গেছে । সেগুলি ত্রিপুরার রাজাদের নিয়োজিত ব্যক্তিরা তাদের জমিদারিতে সহায়তা করতেন । Tripura Gazetteer থেকে জানা যায় যে,
'The economic background of the Tippera state was the Roshnabad estate, the revenue of which sustained the administrative and cultural reforms of Manikya rulers.'
'Chakla Roshnabad continued to be the richest state in the possession of the Manikya kings. Its revenues maintain the Tripura state administration till the merger with the Indian union.² অর্থাৎ চাকলা রোশনাবাদ পরগণার আয়ই তদানিন্তন ত্রিপুরার রাজাদের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে শক্ত করে রাখত এবং এর আয় থেকে মানিক্যরাজসরকারের প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনে সহায়তা করত ।
চাকলা রোশনাবাদ পররগনার মধ্যে বামুটিয়া বিশেষ পরিচিত । ১৮৬১-৬৪ সালে সার্ভেকৃত পরগনার তালিকায় বামুটিয়া পরগনার নাম পাওয়া যায় ।১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণমানিক্য (১৭৬০-১৭৮৩) উদয়পুর থেকে রাজধানী স্থানান্তর করেন আগরতলায় অর্থাৎ বর্তমান পুরাতন আগরতলায় । সম্ভবত সেই সময়ই উজির জয়দেব মানিক্যের মতো অন্য কোন উজির এই বামুটিয়া পরগনার সৃষ্টি করেন ।
বামুটিয়ার পূর্ব নাম ছিল লক্ষ্মীপুর । এই সমতল শস্যক্ষেত্র প্রতিবছর লোহর নদীর সঙ্গে আসা পলি মাটিতে পুষ্ট । ফলে যুগ যুগ ধরে এখানকার নদীতীরবর্তী অঞ্চল বেশ উর্বর । প্রাচীন জনশ্রুতি, এই ভূমি স্বয়ং মা লক্ষ্মীর বরদান প্রাপ্ত । সংবৎসর ভরপুর ফসলের কারণে এই স্থানের নাম হয়েছে লক্ষ্মীপুর । "বামুটিয়া নামের সৃষ্টির সঙ্গে একটি লোকশ্রুতি জড়িত রয়েছে । মহারাজা কৃষ্ণ মানিক্য একদিন এই অঞ্চলে লোহর নদীর তীরের অবস্থিত আমলকীবনে হরিণ শিকার করতে এসে স্থানীয় জনসাধারণের সাক্ষাৎ প্রার্থনা করলেন । রাজার আমন্ত্রণে আগ্রহান্বিত হয়ে সকল গ্রামবাসী রাজার সঙ্গে দেখা করতে এলেন । তখন রাজা কথাপ্রসঙ্গে তাদের পেশার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেন । তারা নিজেদের চাষাভুষো বা 'মুইট্যা' শ্রেণির বলে পরিচয় দেন । রাজা আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলে উঠেন, 'বা, মুইট্যা' । রাজার শব্দটি খুব পছন্দ হয় এবং তিনি তখনই এই অঞ্চলটির নাম দেন বামুইট্যা>বামুটিয়া । সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলটিকে একটি পরগনায় পরিণত করে গড়ে তোলার জন্য তাঁর কর্মচারীদের নির্দেশ দেন । তাঁর নির্দেশে গড়ে ওঠে তহশীল কাছারি, নায়েবের আদালত, ডাকঘর, হাটবাজার, স্কুল, বনদপ্তরের অফিস ইত্যাদি । সিমনা থেকে খোয়াই সীমান্ত হয়ে বড়কাঁঠাল, অভিরাম, গামছাকোবরা, দেবেন্দ্রনগর, জমিরঘাট, গজলঘাট, ছেচুুরিয়া, হরিনাখলা, তারানগর, সিধাই, কালাছড়া, কলকলিয়া, তালতলা, বেড়িমুড়া, ভোগজুড়, তেবাড়িয়া, জলিলপুর, মুকুন্দপুর ইত্যাদি বিশাল এলাকার গ্রামসমূহ নিয়ে সৃষ্টি হয় বামুটিয়া পরগনার । প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী বামুটিয়া বাজারে এখনো দুর্গা/কালী মন্ডপ রয়েছে । কথিত আছে ১৯০২ সালে মহারাজা রাধাকিশোর মানিক্যের আমলে এখানে প্রথম ঘটস্থাপন করে দুর্গাপূজা শুরু হয় । কারণ সেসময় রাজার তালুকে প্রতিমা দিয়ে দুর্গাপূজায় নিষেধাজ্ঞা ছিল । পরে রাজা বীরবিক্রমকিশোর মানিক্যের অনুমতিক্রমে ১৯৩২ সাল থেকে ঘটপূজার পরিবর্তে মূর্তিপূজার প্রচলন ঘটে ।" (উদ্ধৃত অংশটি তথ্যস্বরূপ সরবরাহ করে প্রাবন্ধিককে সমৃদ্ধ করেছেন ও কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন দীর্ঘদিনের বামুটিয়াবাসী ও এলাকার শুভাকাঙ্ক্ষী বিশিষ্ট লেখক অশোককুমার দেব) ।
বামুটিয়া কেবল অর্থনৈতিক কেন্দ্র নয় বরং সামাজিক মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের স্থান । সমকালীন গ্রন্থের মধ্যে হান্টারের Statistical Accounts of Bengal গ্রন্থে তিনি লিখেছেন 'Bamutia is one of the noted markets in the porganas of Roshnabad. It is chiefly resorted to buy the cultivators for the sale of paddy, salt, fish and molasses. The crowd is large and the fair becomes in occasion of much social gathering.'³ বামুটিয়া পরগনা সম্বন্ধে দীনেশচন্দ্র সেনের Collected Notes on the Ballads of Mymensingh এ পাই, 'Among the Marts of Roshnabad, the fair of Bamutia is renowned. It is not only a Mart but a festival ground, where songs are sung, plays are acted and disputes are settled.'⁴ অর্থাৎ তদানীন্তন চাকলা রোশনাবাদের বামুটিয়া পরগনা বাজারটি ছিল খুবই বিখ্যাত । এটা শুধু বাজার নয় তখনকার সময়ে একটি উৎসবের স্থান ছিল । এখানে সংগীত ও নাট্যাঅভিনয় এমনকি, সামাজিক ঝগড়াঝাঁটির মীমাংসাও হত । কৈলাসচন্দ্র সিংহ তাঁর Tripura Rajmala গ্রন্থে লিখেছেন, 'Bamutiya pargana... has always been a fertile tract. The markets here are frequented by both the local cultivators and traders from the hilly tract of Tripura'.
'The trade route connecting Tripura hill to the Plains past through Bamutia, making it an essential market town for exchange of hill produce and plain grains'.⁵ বামুটিয়া পরগনার প্রধান উৎপন্ন ফসল ছিল ধান আর পাট সরিষার তিল,গুড় ইত্যাদি । লোহর নদীপথ ধরে পণ্য আদান-প্রদান চলত । বামুটিয়ায় লোহর নদীর তীরে একসময় বিড়ির পাতার সমৃদ্ধ বাজার ছিল । ত্রিপুরার পার্বত্য অঞ্চল থেকে বিড়ির পাতা সংগ্রহ করে এই বাজারে নিয়ে আসা হত । ভাটি অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এখানে এসে বিড়ির পাতা সংগ্রহ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যেতেন । এখন আর সেই ব্যবসা নেই । শুধু এখানকার জঙ্গলমহলে পাতাবাজার নামে একটি স্থান তার সাক্ষ্য বহন করছে । সেকালের লোহর নদী অত্যন্ত খরস্রোতা ছিল । বর্ষাকালে নদীতে উত্তাল তরঙ্গস্রোত প্রবাহিত হত । সম্ভবত 'লহর' অর্থাৎ ঢেউ শব্দটি থেকেই লোহর শব্দের উৎপত্তি । একটি তথ্যে জানা যায়, সেকালে বামুটিয়া পরগনার বার্ষিক রাজস্ব আয় ছিল নব্বই হাজার টাকা থেকে এক লাখ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত । রাজস্বের দিক থেকে এটি দ্বিতীয়স্থানে ছিল । রাজস্ব আয়ের প্রথমস্থানে ছিল ফেনী । ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকেও অধিক । বামুটিয়ার সাপ্তাহিক হাট জমজমাট থাকত । হাটে কৃষক, বণিক, শিল্পী ও জাতি-জনজাতির মিলন মেলা বসে যেত । জনজাতি অংশের মানুষেরা পাহাড় থেকে বাঁশ, বেত ও ফলমূল নিয়ে আসতেন । বাইরের ব্যবসায়ীরা লবণ ও শুকনো মাছ আনতেন । স্থানীয় তাঁতিরা বাজারে তুলতেন তাঁতের কাপড় ।রাজস্ব ও হাট উভয়দিকেই বামুটিয়া প্রসিদ্ধ ছিল ।
কৈলাস চন্দ্র সিংহের রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস গ্রন্থে বামুটিয়া পরগনার বর্ণনা রয়েছে নিম্নরূপ:
পরগণা : বামুটিয়া
ভূমির পরিমান :
একর-৭৮০ রুড-২ পোল-১৩
স্মার্ট লিখিত পরিমান :
একর-৭৮০ ডিসিমেল-৩৩
বামুটিয়া জনপদ এখন মিশ্র বসতিপূর্ণ এলাকা । বাঙালি, মনিপুরি ও সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষ এখানে পাশাপাশি বাস করছেন । বাঙালিরা বহু প্রাচীনকাল থেকে এখানে আছেন । মনিপুরিরা রাজআমলে পুনর্বাসন পেয়ে এখানে আছেন । সাঁওতালরা চাবাগানে কর্মী হিসাবে গত শতাব্দীর শুরুর দিকে এখানে এসে বংশপরম্পরাক্রমে বসবাস করছেন । বাংলাদেশের মেঘনা তিতাস নদীবিধৌত সমৃদ্ধ জনপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাচীন নূরনগর ও বলদাখাল পরগনার পূর্বদিকে এই বামুটিয়া পরগনা । যেহেতু ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতি প্রাচীনকাল থেকেই শিল্পসাহিত্যসংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ ছিল । আজ থেকে একশো তেত্রিশ বছর আগে ১৩০০ বঙ্গাব্দের ফাল্গুনমাসে (১৮৯৩ খ্রি.) ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রকাশিত হয়েছিল 'ঊষা' নামে একটি সাময়িকপত্র । সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করে একসময় এই জনপদেও তার ছোঁয়া লেগেছিল । একসময় নানা দিক দিয়ে যে উন্নত ছিল এই জনপদ । তার ধারা বর্তমানেও বহমান । আজও বামুটিয়ার সাহিত্যসংস্কৃতিপ্রাণ মানুষেরা নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিবছর পুজোর সময় সাহিত্য উৎসবের আয়োজন করেন জঙ্গলমহলে । বেশ কটি সাহিত্যপত্র ও বের হয় এখান থেকে । ১৯৪৯ সালের ত্রিপুরা রাজ্যের ভারতভুক্তির পর এই বামুটিয়াও ত্রিপুরার অন্তর্ভুক্ত হয় । ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে বামুটিয়া সীমান্তে যুদ্ধ হয় । এই যুদ্ধটি 'লক্ষ্মীপুর যুদ্ধ' নামে পরিচিত । সেসময় প্রাচীন বামুটিয়া গ্রামের বিরাট অংশ পাকিস্তান দখল করে নেয়, যা আজও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি । সেই থেকেই বামুটিয়াবাসীর কপালে দুঃখ শুরু হয় । এই জনপদ একসময় উপহার দিয়েছে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহ ও প্রথম জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল দাসকে । কিন্তু পরবর্তীকালে প্রশাসনের অনীহা ও যথাযথ দৃষ্টিদানের সদিচ্ছার অভাবে আজ বামুটিয়া তার পুরনো গৌরব হারিয়ে কেরোসিন কুপির আলোর মত টিমটিম করে জ্বলছে । একে একে অধিকাংশ সরকারি কার্যালয় এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । এক সময় 'বামুটিয়া বাঁচাও কমিটি' তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলেও ব্যর্থকাম হয়েছে । অতীতের বর্ধিষ্ণু পরগনা বামুটিয়া আজ শুধু ইতিহাসের বিষন্নবাহক ।
সহায়ক তথ্য :
1. J. W. Edgar : Bengal District Gazetteer : Sylhet 1872
2. S N Guha, Economic History of Tripura p. 62
3. Hunter, W W : A Statistical Accounts of Bengal
4. Dinesh Chandra Sen : Collected Notes on Ballads of Mymensingh p. 45, C U Press 1923
5. Kailash Chandra Shingh : Tripura Rajmala, Bamutiya reference, Tripurar Itihas pp 102-103
6. কৈলাসচন্দ্র সিংহ, রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস
No comments:
Post a Comment