Monday, February 16, 2026

শিক্ষাক্ষেত্রে ও সাংবাদিকতায় গণমাধ্যম সাক্ষরতা

শিক্ষাক্ষেত্রে ও সাংবাদিকতায় গণমাধ্যম সাক্ষরতা 

অশোকানন্দ রায়বর্ধন 

বাংলা মাধ্যম শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ মিডিয়াম (medium) । গণমাধ্যম শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ মাস মিডিয়া (mass media) ।  অধিকাংশ ক্ষেত্রে বর্তমানে  গণমাধ্যম বোঝাতে মাস মিডিয়ার (mass media) পরিবর্তে মিডিয়া (media) শব্দটি ব্যবহার করা হয় । গণমাধ্যমের আধুনিক ক্রমোন্নয়নের ফলে এখন তথ্য আমাদের মুঠোবন্দী । বিশেষ করে প্রযুক্তিক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্তির ফলে শিল্পক্ষেত্রে চতুর্থ বিপ্লব ঘটে গেছে । এখন প্রযুক্তি যার সংবাদমাধ্যম তার ।  ইন্টারনেট প্রযুক্তি তথ্যের ক্ষেত্রে মানুষের প্রবেশযোগ্যতা (access) অনেক গুণ বেড়ে গেছে । তথ্যে প্রবেশযোগ্যতার সঙ্গে সঙ্গে বার্তা তৈরির ক্ষেত্রেও মানুষ নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে । ফলে নির্ভরযোগ্য বার তার পাশাপাশি অনির্ভর বা ভুয়া বার্তাও ছড়িয়ে পড়ছে । এছাড়া গণমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তথ্যের সম্প্রচারে প্রভাব বিস্তার করছে । যার কারনে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে । প্রতিদিন গণমাধ্যমের কারিগরি কুশলতা বেড়েই চলেছে ।  তার সাথে পাল্লা দিতে গেলে গণমাধ্যম কর্মীকেও কুশলতা অর্জন করতে হবে । এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং জনসাধারণকে সক্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে গণমাধ্যম স্বাক্ষরতার প্রয়োজন ।

গণমাধ্যম সাক্ষরতা (Media Literacy) হল বিভিন্ন গণমাধ্যমের বার্তা প্রবেশগম্যতা (access), বিশ্লেষণ (analysis), মূল্যায়ন (evauation) ও সৃজন (creation) এর মাধ্যমে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার একটি দক্ষতা, যা কেবল পঠন-পাঠনের বাইরে গিয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়ার প্রভাব, উদ্দেশ্য ও কাঠামো বোঝার মাধ্যমে ডিজিটাল সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে সাহায্য করে । এর মূল লক্ষ্য হল ভুল তথ্য সনাক্তকরণ এবং দায়িত্বশীলভাবে মিডিয়া ব্যবহার ও তৈরি করতে পারা । এটি প্রচলিত সাক্ষরতার ধারণাকে প্রসারিত করে, যেখানে কেবল পাঠ ও লেখার ক্ষমতা নয় বরং বিভিন্ন ফরমেট এর (টেক্সট, অডিও ভিস্যুয়াল) বার্তা বোঝা ও তৈরি করার ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত । গণমাধ্যম কিভাবে কাজ করে এর অন্তর্নিহিত বার্তা কি এবং কিভাবে পক্ষপাতগ্রস্থ ও ভুল তথ্য প্রচার করা হয় তা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা তৈরি করা এর অন্যতম প্রধান দিক । এটি কেবল দর্শক হিসেবে মিডিয়া গ্রহণ নয় বরং একটি সক্রিয় অবস্থানে থেকে মিডিয়া ব্যবহার ও নিজস্ব বার্তা তৈরি করার প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে । এটি সংবাদপত্র, চলচ্চিত্র, সোশ্যাল মিডিয়া, স্ট্রিমিং সার্ভিসসহ সকল ধরনের মিডিয়ার (প্রিন্ট, ডিজিটাল, তারবিহীন) জ্ঞান প্রদান করে । ডিজিটাল পরিবেশে নিজেকে রক্ষা করতে এবং সুস্থভাবে যুক্ত থাকতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সচেতনতা প্রদান করে । গণমাধ্যম সাক্ষরতার মূল উপাদান হল বিভিন্ন গণমাধ্যম ও তার আধেয়(content) খুঁজে বের করার ক্ষমতা অর্জন এবং সেখানে প্রবেশগম্যতা (access), বার্তা গঠন, উদ্দেশ্য ও প্রভাব বিশ্লেষণ (analysis) করা সেইসঙ্গে বার্তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভুলতা যাচাই করা পক্ষপাত সনাক্ত করা ও মূল্যায়ন (evaluation) এবং কার্যকর ভাবে বার্তা তৈরি ও প্রকাশ করা(creation) । গণমাধ্যম স্বাক্ষরতা হল ডিজিটাল বিশ্বের একজন সচেতন, সমালোচনামূলক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার একটি অপরিহার্য দক্ষতা ।

উদ্দেশ্যমূলক, পক্ষপাতমূলক, ভ্রান্ত তথ্য সাধারণের আচরণ পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয় অথবা প্রচার করা হয় । রাজনৈতিক নেতা, ধর্মপ্রচারক, নিম্নমানের বাভেজাল প্রোডাক্ট বিক্রেতা কিংবা ভিন্ন আদর্শের প্রচারক বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণা (Propaganda) করে থাকে । এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণাকে সাধারণ মানুষ গভীরভাবে ভেবে দেখেন না । ডিজিটাল বিশ্বের ভুয়া খবর ও ভুল তথ্য সনাক্ত করা অপরিহার্য । কারণ ভুয়া খবরও ভুল তথ্যের প্রভাব সুদূরপ্রসারী, যা সমাজে বিভ্রান্তি,  অবিশ্বাস, মেরুকরণ এমনকি সহিংসতার সৃষ্টি করে । এটি গণতন্ত্রের ক্ষতি করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে ভোটারকে বিভ্রান্ত করে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ায় যা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আস্থা হীনতা তৈরি করে । ভুল তথ্য সমাজে বিভেদ সন্দেহ ও শত্রুতা বাড়াতে পারে যা দাঙ্গা বা সংঘাতের ইন্ধন যোগায় । ভুল তথ্যের প্রভাবে বিরক্ত মানুষ মূলধারার সংবাদমাধ্যমকেও অবিশ্বাস করতে শুরু করে কারণ ভুয়া খবর প্রায়শই যাচাই না করে প্রচার করা হয় । ভুয়া খবর ও ভুল তথ্য মানুষের স্মৃতিকে বিকৃত করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে ভুলপথে চালিত করে । শিশু ও তরুণদের মধ্যে ভুল তথ্য উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং বিভ্রান্তি তৈরি করে মানসিক বিকাশ ও তাদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে যা তাদের মধ্যে উদ্যোগ ও ভুল বিশ্বাস তৈরি করতে পারে । এর ফলে মানুষের বিদ্যমান বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং তাদের (biases) বা পক্ষপাতিত্বকে উসকে দেয় যা সমাজকেও বিভ্রান্ত করে তোলে । ভুল তথ্যের কারণে মানুষ স্ক্যামের শিকার হতে পারে । যার ফলে আর্থিক ক্ষতি বা ডেটা চুরির মত ঘটনা ঘটে । ভুল স্বাস্থ্যতথ্য বা 'লাইফ হ্যাকস' অনুসরণ করে বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ বা ভুল চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে ।

গণমাধ্যম সাক্ষরতা সাংবাদিকদের সঠিক, নিরপেক্ষ ও নৈতিক সাংবাদিকতা করতে এবং সাধারণ মানুষকে ভুল তথ্য থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে । সাংবাদিকতা গণমাধ্যম সাক্ষরতার ভিত্তি স্থাপন করে, জনগণকে তথ্য সরবরাহ করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করে । তাই এই দুটিকে একে অপরের পরিপূরক এবং একটি সচেতন সমাজ গঠনে দুটি অপরিহার্য । সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে জনগণের মধ্যে সঠিক জনমত গঠনের সাহায্য করেন, যা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য । সরকার ও তার ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করে সাংবাদিকরা জবাবদিহিতা নিশ্চিন্ত করেন এবং সমাজের সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন । গণমাধ্যম সাক্ষরতা বাড়াতে সাংবাদিকরা নিজেরাই সহায়ক ভূমিকা পালন করেন । তারা তথ্যের উৎস যাচাই করার কৌশল দেখান এবং ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করেন । সংকটকালে সাংবাদিকতা জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করে এবং জনগণের সম্মিলিত কন্ঠস্বর তুলে ধরে । গণমাধ্যম সাক্ষরতা যেমন সাংবাদিকদের উন্নত ও দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করে তেমনি সাংবাদিকরাও সাক্ষরতা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন । গণমাধ্যম সাক্ষরতা ও সাংবাদিকতা উভয়ে একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য । কারণ এটি একটি সুস্থ ও সচেতন নাগরিক সমাজ তৈরি করে । 

গণমাধ্যম সাক্ষরতাকে বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে তার সামনে অনেকগুলি চ্যালেঞ্জও এসে দাঁড়ায় । তার মধ্যে হল ভুল তথ্যের বিস্তার অর্থাৎ ভুয়া খবর, প্রোপাগান্ডা এবং ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়াএকটি বড় সমস্যা যা সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে । সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম কিভাবে তথ্য ফিল্টার করে এবং ব্যবহারকারীর কাছে উপস্থাপন করে তা বোঝা কঠিন । ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি (cyber harassment), ডিজিটাল সহিংসতা(cyber bulling), অনলাইনে ভয়ভীতি প্রদর্শন (cyber intimidation), অনলাইন ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ সংগঠিত করা (cyber terrorism), অনলাইন ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ (cyber stalking) ইত্যাদির শিকার হওয়া এবং এর প্রতিরোধে অক্ষমতা, প্রযুক্তি ও তথ্যে সবার সমান প্রবেশাধিকার না থাকা যা সাক্ষরতার সুযোগকে সীমিত করে, নতুন নতুন অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল টুলস এর সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ক্রমাগত শেখার সীমিত সুযোগ, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন পরিচিতি (Digital Identity) রক্ষা করা বিষয়ে জ্ঞানের অভাব, শিক্ষক গণমাধ্যম কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যম স্বাক্ষরতা বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রমের অভাব, তথ্যের ভিড়ে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য তা বেছে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, অতিরিক্ত মিডিয়ার ব্যবহার এবং এর নেতিবাচক মানসিক প্রভাব আসক্তি ও ভুল ধারণার সৃষ্টি করে ।

শিক্ষাক্ষেত্রে গণমাধ্যম স্বাক্ষরতা অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গণমাধ্যম ব্যবহার সম্বন্ধে সচেতন ও অভিজ্ঞ করে তোলা যায় । স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে গণমাধ্যম সাক্ষরতা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যেখানে বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন এবং বার্তা তৈরির দক্ষতা শেখানো হবে । শিক্ষকদের গণমাধ্যম স্বাক্ষরতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাতে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কার্যকর ভাবে শেখাতে পারেন । শেখানোর পদ্ধতি ক্ষেত্রেও বিভিন্ন শিক্ষাদান পদ্ধতি (যেমন দলগত কাজ আলোচনা ইত্যাদি) গ্রহণ করা যেতে পারে । শিক্ষার্থীদের যদি গণমাধ্যম সাক্ষরতা জ্ঞান দেওয়া হয় তাহলে তারা গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদের তথ্যসমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজে অংশগ্রহণ করতে সমৃদ্ধ করে এবং নিজস্ব সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করে সচেতন ও সক্রিয় পাঠক ও নির্মাতা (creator) হিসেবে গড়ে তোলে । শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের গণমাধ্যম বার্তা সংবাদ বিজ্ঞাপন সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে শেখাবেন বার্তার উদ্দেশ্য পক্ষপাতিত্ব এবং বার্তা কিভাবে তৈরি হয়েছে তা বুঝতে সাহায্য করবেন এবং স্বয়ংক্রিয় ফিল্টারিং সিস্টেমের ব্যবহারে উৎসাহিত করবেন । নিজের মিডিয়া পছন্দ নিয়ে চিন্তা করতে এবং স্পন্সর করা বিষয়বস্তু (sponsored content) চিহ্নিত করতে শেখাবেন । গণমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো স্বচ্ছ করার দাবি জানানো যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে সে বিষয়ে শিক্ষা দান করবেন । শিক্ষার্থীদের কেবল ভোক্তা নয় বরং দায়িত্বশীল নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলা যাতে তারা নিজেরাই মানসম্মত মিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি করতে পারে । গণমাধ্যম বার্তা থেকে নিজস্ব অর্থ বের করে আনার এবং দায়িত্বশীলভাবে অংশগ্রহণের দক্ষতা বৃদ্ধি করা শেখানোও শিক্ষকের দায়িত্ব ।

গণমাধ্যম সাক্ষরতা শিক্ষার্থীদের শেখায় কিভাবে সংবাদ বিজ্ঞাপন বা সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তাগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়, তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে হয় এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হয়, যা তাদের ভুল তথ্য থেকে রক্ষা করে । গণমাধ্যম স্বাক্ষরতা শিক্ষার্থীদের গণমাধ্যম বার্তাগুলোর অন্তর্নিহিত পক্ষপাতিত্ব ও এজেন্ডা বুঝতে সাহায্য করে । তাদের প্রশ্ন করতে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে উৎসাহিত করে । সাক্ষরতা শুধু নয় এই শিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে বার্তা তৈরির দক্ষতাও শেখায় । যার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তাভাবনা ও ধারণাগুলো কার্যকর ভাবে প্রকাশ করতে পারে এবং নিজস্ব মিডিয়া সামগ্রী তৈরি করতে পারে (যেমন ভিডিও ব্লগ বডকাস্ট পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি) । আজকের ডিজিটাল যুগে তথ্য অনুসন্ধান, সৃষ্টি, যোগাযোগ এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে । সংবাদপত্র, টেলিভিশন ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি গণমাধ্যম শিক্ষার পরিধি বাড়িয়ে শিক্ষার প্রসারে সহায়তা করতে পারে । বিশেষ করে দূরবর্তী ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দিতে এই মাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । গণমাধ্যম সাক্ষরতা শিক্ষার্থীদের সমাজের বিভিন্ন সমস্যা  ও অসংগতি সম্পর্কে সচেতন করে তোলে এবং তাদের ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করে । গণমাধ্যম সাক্ষরতা শিক্ষার্থীদের কেবল তথ্যের ভোক্তা নয় বরং তথ্য যাচাইকারী, সমালোচনাকারী এবং সৃজনশীল উৎপাদক হিসেবে প্রস্তুত করে তোলে যা তাদের আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অপরিহার্য ।

শিক্ষাক্ষেত্রে ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে গণমাধ্যম স্বাক্ষরতার বিস্তার ঘটালে দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে মানুষ প্রযুক্তি ও প্লাটফর্মের সঙ্গে তাল মেলাতে, নানারকম ডিজিটাল প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত  রাখতে পারবে । পাশাপাশি গণমাধ্যম সম্বন্ধে কৌতুহলের ও নিবৃত্তি ঘটবে । সেইহঙ্গে গণমাধ্যমে কাজ করার দক্ষতা দ্রুত আয়ত্বে আসবে ও বিভিন্ন বিষয়কে অত্যাধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করতে পারবে । ফলে ডিজিটাল সমাজে আরও সচেতন, সমালোচনামূলক এবং সক্রিয় নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবে ।

সহায়ক গ্রন্থ :

১. জার্নালিজমের সহজ পাঠ–কৌশিক ভট্টাচার্য, পারুল প্রকাশনী, আগরতলা ।
২. সংবাদ সাংবাদিক সাংবাদিকতা–সুজিত রায়, দে পাবলিকেশন, কলকাতা 
৩. সংবাদ ও সাংবাদিকতা–অনুপম অধিকারী, পাত্র বুক হাউজ, কলকাতা 
৪. সাংবাদিকতা ও সংবাদ পাঠ–সন্তোষ দেবনাথ, দীপ প্রকাশন, কলকাতা 
৫. গণমাধ্যম স্বাক্ষরতা সহজপাঠ–শুভ কর্মকার, পিআইবি, বাংলাদেশ 
     ৬.  ইন্টারনেট থেকে নেওয়া তথ্য

No comments:

Post a Comment