যথার্থ শিক্ষকের পাওয়ার কিছুই থাকে না যদি সমাজ না দেয় ৷ আর সমাজেরও এমন কোন জাবেদা খাতা নেই যেখানে যথার্থ শিক্ষকের প্রতিদিনের ক্ষরণ লিপিবদ্ধ থাকে ৷আজীবন দহনতৃপ্ত শিক্ষক দিনান্তে কিছুই চান না ৷ কামনাহীন প্রস্থানপ্রস্তুতি নেন ৷ আশা করেন শেষশিখায়ও যেন সন্ততিপ্রতিম শিক্ষার্থীর জন্যে উৎসর্গায়ন হয় ৷ আর শেষগমন হয় যেন আজন্ম শিক্ষার্থীর মতো স্বীয় শিক্ষকগণের পদাঙ্কধূলিতে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম ও প্রাণায়ামের মুগ্ধমুদ্রায় ৷
Friday, May 19, 2017
শিক্ষক সমাচার
Wednesday, May 10, 2017
অন্য অশোক
গত পরশুদিন সাব্রুম বইমেলায় আয়োজন করা হয়েছিল কবি সম্মেলনের ৷ অনুষ্ঠান শুরুর আগে কবিদের নিয়ে বসেছিলাম আমাদের প্রিয় দাদা অশোক বসাকের দোকানে ৷ ইংরেজীতে ভাষান্তর করে তাঁর দোকানের নামে একটা মুন্ডমাল শব্দ সবাই মজা করে ব্যবহার করে ৷ ABCD অর্থাৎ অশোক বসাকের চায়ের দোকান ৷ আবার তাঁর দোকানের ল্যান্ড ফোন নম্বরও মজাদার সংখ্যার ৷ আমার বড়ো ছেলে রুশো এবং তার কিছু বিটকেল বন্ধু মিলে স্কুলে পড়ার সময় আমাদের ল্যান্ড ফোন থেকে অশোক জ্যেঠুর চারশো বিশ নম্বরে ফোন করে তাঁকে জ্বালাত ৷ আমাদের অশোকদাও বিষয়টা স্পোর্টিংলিই নিতেন ৷ জেনেছিলাম এরকম অনেক দুষ্টু ছেলেই এই মজাটা নিত ৷ তাঁকে খেপাতে না পারায় একসময় তারা রণে ভঙ্গ দেয় ৷ যাই হোক এই ছোট্টো মহকুমা শহরের ধমনীতে এই দোকানটা অক্সিজেন জুগিয়ে চলেছে ৷ ABCDকে সাব্রুমের কফি হাউস বা মিনি প্রেসক্লাবও বলা যেতে পারে ৷ আমরা টুকটাক লেখালেখি করি, অনেকেই লেখার রসদ এখান থেকেই পেয়ে যাই ৷ আড্ডা দিতে বসে হঠাৎ একটা সংবাদের ক্লু পেয়ে কোনো তরুণ সাংবাদিক বাইক নিয়ে ধাঁই কিরি কিরি বেরিয়ে গেলেন সংবাদশিকারে ৷ তাছাড়া তাঁর দোকানের রসগোল্লা বিখ্যাত ৷ যাঁরা একবার এর স্বাদ একবার পেয়েছেন তাঁকে বার বার টানবে এই রসগোল্লা ৷ কোথায় লাগে বাগবাজার! বাইরে থেকে যাঁরা কার্যকারণে সাব্রুমে এসে এ দোকানের রসগোল্লার স্বাদ নিয়েছেন তিনিই এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ৷ অনেক বিখ্যাত লোক অশোকদার রসগোল্লার প্রেমে মজেছেন ৷ তার রেকর্ড অশোকদার কাছে আছে ৷ ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডায়ও অশোকদা বিরক্ত হন না ৷ সামনের বারান্দায় একটা টেবিল আর চারটে চেয়ার বরাদ্দ রয়েছে আড্ডারুদের জন্যে ৷ দোকানের সামনে কদিন আগেও মাঝারি সাইজের একটা আমগাছ ছিল ৷ জাতীয় সড়কের কলেবর বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় গাছটা উন্নয়নের যূপকাষ্ঠে নিবেদিত হয়েছে ৷ ফলে বিকেলের দিকে দোকানটায় পশ্চিমের রোদের আক্রমণ ঘটে ৷ আড্ডাশিল্পীদের গায়ে যাতে রোদ না লাগে তার জন্যে ঢাউস এক সামিয়ানা কাম পর্দা তৈরি করেছেন ৷ বিকেলের দিকে সেটা ছাদের কোণ থেকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দেন ৷ বোঝা যায় তিনি অন্তর থেকে সংস্কৃতিকে লালন করেন ৷ শুনেছি ছাত্রাবস্থায় তিনি ছিলেন স্কুলের এন সি সির ডাকসাইটে ট্রুপ কমান্ডার ৷ তখন এ মহকুমায় একমাত্র হাইস্কুলটি ছিল সাব্রুমেই ৷ কাজেই সে সময়ে তরুণদের লিডার ছিলেন তিনিই ৷
যে কথাটা বলছিলাম ৷ এদিন বিকেলবেলা আকাশটা গোমড়ামুখো থাকায় অনুষ্ঠানটা শুরু হতে দেরি হচ্ছিল ৷ মেলার মাঠে খোলা আকাশের নিচে বসাও যাচ্ছিল না ৷ অন্য মহকুমার কবিরা এসেছেন ৷ কোথায় নিয়ে বসাই ৷ এতোজনকে নিয়ে দাদার দোকানে বেশিক্ষণ বসে থাকাও ঠিক হবে না ৷ তাঁর ব্যবসার ক্ষতি হবে ৷ আমাদের ফিসফিস আলোচনা হলেও তাঁর কানে গেল ৷ এগিয়ে এসে বললেন, ছাদে চলে যাও ৷ উঠতে একটু কষ্ট হবে ৷ বলে তিনি নিজেই সবাইকে ছাদে পৌঁছে দিয়ে বসার চেয়ার পেতে দিয়ে তবে নিচে নামলেন ৷ এই হলেন আমাদের অশোকদা ৷ তাঁর দোকানের ছাদে প্রথমবার উঠে সাব্রুম শহরের মেঘমাখা আকাশটা দেখে ভাবছিলাম ব্যবসায়ী দাদা অশোক বসাকের হৃদয়টাও কী এমনই আর্দ্র!
Tuesday, May 2, 2017
উত্তরপূর্বের বিশিষ্ট প্রকাশন সংস্থা ' স্রোত' আয়োজিত কথাসাহিত্য উৎসব - 2017
আগরতলা সংবাদ:২৮:০৪:২০১৭:
প্রথম বারের মতো স্রোত আয়োজিত উত্তর পূর্ব কথা সাহিত্যউৎসব:২০১৭ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন আগরতলায় আগামী ১১জুন ২০১৭।তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর,ত্রিপুরা সরকার , আসামের ঈশানের পুঞ্জমেঘ ব্লগ ও বাংলাদেশের চট্টগ্রামের অভ্যুদয় সংগীত অঙ্গন এবং বাচিক শিল্পী প্রবীর পালের সহযোগিতায় এই আয়োজনে বাংলাদেশের কথা সাহিত্যিক ড.সেলিনা হোসেন,মেঘালয়ের কথা সাহিত্যিক স্ট্রীমলেট ডখার,ফাল্গুনী চক্রবর্তী,আসামের তপন কুমার মোহন্ত , দেবীপ্রসাদ সিংহ, কান্তারভূষণ নন্দী, মেঘমালা দে এবং বাংলাদেশের আনোয়ারা সৈয়দ হক, জাহাঙ্গীর আলম,কবি আসলাম সানী,জয়দুল হোসেন,মনিরুল মনির সহ প্রায় ৪০জন কবি সাহিত্যিক সাংস্কৃতিক গুণীজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে কথা দিয়েছেন।ত্রিপুরার কবি রামেশ্বর ভট্টাচার্য, প্রাবন্ধিক অশোকানন্দ রায়বর্ধন, কবি আকবর আহমেদ,কবি অপাংশু দেবনাথসহ কবি সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক গুণীজনদের সহযোগিতায় এই আয়োজনে ইতিমধ্যেই আগরতলায় বিপুল সাড়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।
প্রায় তিরিশজনের প্রস্তুতি কমিটি সহ আলোচনা ক্রমে আগামী ১১জুন ২০১৭ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কথাসাহিত্য উৎসব উদযাপিত হবে বলে প্রাথমিক আলোচনায় তারিখ স্থির হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন বাচিক শিল্পী শাঁওলী রায়,সিদ্ধার্থ হালদার, সুমিতা ধর বসু ঠাকুর এবং অধ্যাপিকা মৌসুমি বাসফোর
আয়োজক স্রোতের পক্ষে কবি গোবিন্দ ধর একথা জানিয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
Friday, April 28, 2017
ঘরের মেঝে ঘামছে কেন
দুদিন যাবত ফেসবুক জুড়ে হিতাকাঙ্ক্ষীদের সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে, ঘরের মেঝে ঘামছে ৷ তাই ভূমিকম্প, সুনামি অবশ্যম্ভাবী ৷ আসলে ঘরের মেঝে ঘামার সঙ্গে ভূমিকম্পের কোনো সম্পর্ক নেই ৷ কদিন যাবত অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে বাতাসে আর্দ্রতার বেড়ে যাওয়ায় এমনটা হচ্ছে ৷ বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকার দরুণ বাতাস ঘরের জলীয় বাতাস শোষণ করতে পারছে না ৷ ফলে বাতাসে মিশ্রিত জলীয় বাষ্প অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা মেঝের সংস্পর্শে এসে জলবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে ৷ ছোটোবেলার বিজ্ঞান ক্লাসের একটা পরীক্ষার কথা মনে পড়ছে প্রসঙ্গত ৷ বিজ্ঞানস্যার একটা কাঁচের গ্লাসে একটা বরফের টুকরো ফেলে দেখাতেন ৷ কিছুক্ষণ পরে গ্লাসের বাইরের দিকের দেওয়ালে জলবিন্দু জমছে ৷ স্যার ব্যাখ্যা করার আগে আমরা ভাবতাম, গ্লাসে ফুটো নেই অথচ কী করে গ্লাসের জল বাইরে বেরিয়ে এল ৷ স্যারের ব্যাখ্যায় জানতে পারি গ্লাসে বরফ রাখায় গ্লাসের দেওয়াল স্বাভাবিক তাপমাত্রার নিচে নেমে যায় ৷ ফলে বাইরের বাতাসের সঙ্গে মিশ্রিত জলীয় বাষ্প গ্লাসের শীতল দেওয়ালের সংস্পর্শে এসে জলবিন্দুতে পরিণত হয় ৷ আকাশ থেকে যে বৃষ্টিপতন হয় তার সৃষ্টতত্ত্বটা এরকমই ৷ আর একটা বিষয় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ভেজা কাপড়ও দেরিতে শুকোবে ৷ সেকারণেই আজ দুদিন ঘরে বারান্দায় ভেজা কাপড়ের ছড়াছড়ি ৷ পিচ্চিগুলোর ন্যাপি পাল্টাতে পাল্টাতে মায়েরা জেরবার ৷
Wednesday, April 26, 2017
সন্ধিসুধা
স্কুলপাঠ্য বইয়ে সন্ধিবিচ্ছেদ অধ্যায়ে 'গো' বিষয়ক দুটো শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ করতে প্রায়ই ভুল করতাম ৷ গো + অক্ষ = গবাক্ষ এবং গো + এষণা = গবেষণা ৷ গবাক্ষ মানে জানলা ৷ গবেষণা মানে কোনো বিষয়ে নিবিড় অনুসন্ধান ৷ অর্থ যাই দাঁড়াক আমার সমস্যা ছিল সন্ধি বিচ্ছেদ নিয়ে ৷ তবে এই অর্থসূত্র ধরেই বাবা আমাকে এই দুটো শব্দের ব্যাপারে আমার সন্ধিবাতের বেদনার উপশমের উপায় বাৎলে দিয়েছিলেন ৷ গবাক্ষ শব্দের উৎস 'গো' 'অক্ষ' মানে গোরুর চোখ থেকে ৷ আর 'গো' 'এষণা' অর্থাৎ গবেষণাকর্ম এতোই কষ্টকর যেটা ঠাডা দুপুরে গোরু খোঁজার মতো কষ্টকর ৷ প্রসঙ্গক্রমে একটা গল্পও শুনিয়েছিলেন ৷ গল্পটা এরকম - এক গৃহস্থ তার দুধেল গাভিটি হারিয়ে ভাদ্রমাসের রোদের মধ্যে বনবাদাড়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে এলেন ৷ দাওয়ায় বসে কাতরস্বরে বউকে ফরমায়েশ দিলেন, এক ঘটি খাওয়ার জল দাও না গো, মা! রান্নাঘর থেকে গিন্নি গজগজিয়ে উঠলেন - মিনসের কী মাথাটাথা খারাপ হইছে নি কী? কর্তা উত্তর দিলেন, ভাদোমাইয়া দুফরে গোরু হারাইলে কথার আগামাথা থাকে না রে বইন ৷ বলাবাহুল্য এর পরে আমার আর এ দুটো শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদে ভুল হয় নি ৷
গোরুর আধার প্রযুক্ত হওয়ার প্রস্তাবে মনে হচ্ছে সন্ধিবিচ্ছেদের অধ্যায়ে আর একটা শব্দ যুক্ত হতে চলেছে ৷ শব্দটি হবে 'গো' + আধার = গবাধার ৷ গোরুর আধারকার্ডের এই নামকরণ যদি হয় না জানি কী পেরেসানিতেই পড়বে নতুন প্রজন্মের পড়ুয়ারা ৷
Thursday, April 20, 2017
চুক্তিপত্র
নস্টালজিক বাঁধের উপর দিয়ে বিষবন্ত সাপ পেরিয়ে গেলে ঠিকানা ভুল হয় ৷
ক্যাকটাসের কাঁটার সোহাগে প্রণয়ের লেশমাত্র নেই ৷শুধু ঝুলবারন্দা তার সোহাগী হয় ৷
চুক্তিপত্রে কতো কথাই লেখা থাকে পান্ডবের রতিশৃঙ্খলার মতো ৷ ভোগের জন্যে টাইমটেবল প্রদর্শন বাধ্যতামূলক ৷
জরাজীর্ণ দলিলপত্র তো অনেক কথাই বলে ৷ বন্টকনামার জন্যে ভাষাশহিদ নিষ্প্রয়োজন ৷
সমস্ত বস্তুবাদী সংগঠন সমস্বরে বিদ্রোহী হয় আর অপেক্ষা করে কখন বিরতির পরও সাথে থাকতে বলবে ৷
Friday, April 14, 2017
চৈত্রশেষের প্রার্থনা
কান্না ভুলে, শোক ভুলে বছরের শেষ দিনে
সবাইকে জড়িয়ে নেবো ভালোবাসার ঋণে ।
বড়ো জনে প্রণাম নিও, ছোটো জনে স্নেহ
অতীত দিনের স্মৃতিটারে মুছে দিও না কেহ ।
পুরোনোকে ঝোলায় ভরে চলব আবার পথে
নতুন বছর বরণ করি সবাইকে নিয়ে সাথে ।
নতুন বছর,নতুন স্বপ্ন,নতুন করে সব নেব
কান্নাটুকু মুছে ফেলে হাসি বিলিয়ে দেব ।
শপথ হোক না নতুন বছরে হাতে হাতে ধরে
হিংসা দ্বেষ ভুলে গিয়ে প্রীতি উঠুক ভরে ।
ধর্ম,বর্ণ,জাত্যাভিমান থাক না এক পাশে
সবার প্রাণে প্রাণে যেন পবিত্রতা ভাসে ।