Monday, August 26, 2024
ধরগো তোরা, হাতে হাতে ধরো...
Thursday, November 17, 2022
সংকীর্তন
Tuesday, November 8, 2022
অভিরামের দ্বীপচালান
Thursday, October 6, 2022
এবারের পুজো
Tuesday, August 16, 2022
কয়েকজন চিত্রশিল্পী, আমি ও মৈত্রীসেতু
Friday, August 12, 2022
আমার ননীমামু
Tuesday, May 17, 2022
মিলন হবে কত দিনে...
Sunday, May 8, 2022
রাঙিয়ে দিয়ে যাও
Tuesday, October 19, 2021
ঘরে ঘরে ডাক পাঠাল
Tuesday, September 24, 2019
ভেঙে মোর ঘরের চাবি
গতকাল সন্ধ্যায় আগরতলা চেকপোস্টের সর্বশেষ বাধা অতিক্রম করে যখন বাইরে এসে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের সম্মাননীয় অতিথিবর্গ তখন আপনমনেই বলে উঠলেন এই সময়ের শক্তিমান কথাকার, জলজীবনের নিবিড় উন্মোচক শ্রদ্ধেয় হরিশংকর জলদাস , 'ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে' ৷ ভাবছিলাম, হঠাৎ করেই কী এই রবীন্দ্রসূক্ত উচ্চারিত হল তাঁর ওষ্ঠদ্বয়ে ? স্বীয় ভূখন্ড পেরিয়ে এসে আর এক ভূমিতে চরণচিহ্ন দিয়েই তিনি যেন অনুভব করলেন বৃহতের আহ্বান ৷ আবহমানকাল ধরে প্রবাহিত যে রক্তধারা, যে সংস্কৃতির স্রোতস্বী পুরুষানুক্রমে তিনি বহন করে চলেছেন তারই প্রতিফলন যেন এই অমোঘগোধূলির মায়াঅন্ধকারে এই ভূমিভাগেও চিরবিচ্ছুরণ ঘটছে ৷ এখানেই নিজেকে হৃদয় উজাড় করে মেলে ধরা যায় ৷ এখানে তাঁর অন্তর্গত ভদ্রাসন থেকে বেরিয়ে এসে বৃহদালয়ে প্রবেশের কাঙ্ক্ষার তীব্র আর্তি উৎসারিত ৷ মানুষের জীবনের প্রতিমুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে, প্রতিপলের সুখ আহ্লাদের সঙ্গে ও তার বিপরীতে মানবিতার চরম অসম্মানের দগ্ধক্ষণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিশাল ভুবনের মকরন্দের আস্বাদটি যাঁরা নেন তাঁদের কাছে আপননিলয়টি অনেক পেছনে পড়ে থাকে ৷ এক তীব্র যন্ত্রণা থাকে অসীমের মহালয়ের সঙ্গে মিলনের ৷ আরো আরো বড়ো জগৎটার সঙ্গে মিলিত হবার ৷ একজন জীবনসন্ধানী নিজেকে ভেঙে আসার আকুতি আজীবন বয়ে চলেন ৷ একজীবনভর খুঁজে ফেরেন সেই সত্যপিরকে যিনি ক্ষুদ্রকায় প্রায়ান্ধকার অলিন্দ থেকে তাঁকে বিশ্বপ্রাসাদের বিরাট আঙিনায় পোঁছে দিতে পারেন ৷ আর সেই মধুঅঙ্গনের সঙ্গে বহুপরিচিত 'মোর ঘরের' সাথে কোনো মিল থাকেনা ৷ সেখানেই তো জীবনের আসল আনন্দযজ্ঞ ৷ অকৃত্রিম প্রতিবেশ ৷ জীবনসন্ধানী সে পথ দিয়েই পায়ে পায়ে এগিয়ে যান ৷ তার জন্যে কম্পাস সেই অন্তর্পুরুষ ৷ যিনি পারেন ঘরছাড়া করাতে প্রতিটি সৃজনকর্মীকে ৷
সেপ্টেম্বর একুশ, দুহাজার আঠারো
Wednesday, August 1, 2018
নিজের কথা
অনেকদিন পরে যেন ঘরে ফিরলাম বিধ্বস্ত সৈনিকের মতো । আসলে কী ফিরলাম ঘরে ? দু হাজার আটে পদোন্নতির ফলে সাব্রুম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের উঁচু ক্লাসে পড়ানোর পাঠ চুকিয়ে গিয়েছিলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্দারি করতে । ভাগ্যের প্রথমটা আশাহত হয়েছিলাম । পরে জেদ চেপে বসে , কিছু করে দেখাতে হবে। প্রত্যন্ত মিশ্র জনবসতি এলাকায় জয়কুমার রোয়াজা পাড়া স্কুলে ঢুকেই হাত দিলাম কাজে ।সকল সহকর্মীর মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা আনা দরকার । নিজেকে দিয়েই শুরু হোক । দুর্গম এলাকায় সময়মতো গাড়ির অভাবে স্কুলে পৌঁছাতে কষ্ট হতো । উপায়ান্তর না দেখে জিপিএফ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা তুলে একটা লাল বাইক কিনলাম । এই লালুকে নিয়ে স্কুলসহ হাজারো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লাম । পর পর আই এস হিসেবে যাঁদের পেয়েছি রণজিত মজুমদার , অর্জুন শর্মা , সমরেন্দ্রনাথ দাস এবং বর্তমানের সঞ্জিত মালাকার সবাই আমার অনুজপ্রতিম । স্কুলের উন্নয়নে যখন যা দরকার আবদার করেছি কেউ ফেরান নি আমাকে । যার ফলে স্কুলটাকে রাজ্যের মধ্যে একটা জায়গায় দাঁড় করাতে পেরেছি । অনুজ ও সন্তানপ্রতিম কজন তরুণ শিক্ষককে পেয়েছি যাঁরা আমাকে সর্বক্ষণ সাহচর্য দিয়ে গেছেন । টিমওয়ার্ক যে কীভাবে গঠনমূলক চিন্তাকে ফলপ্রসূ করতে পারে তার উদাহরণ ৷ ( 2. 8. 2014. তে লেখা আমার দিনলিপি)
Wednesday, July 11, 2018
মোটেই গল্পও না ৷ বানিয়েও বলা না ৷ এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আমিও হয়েছি বার কয়েক ৷ একদিন দুপুরে মিড ডে মিল খাওয়ার একটি মেয়ে এসে বলল, ছার বাই খাইছেনা ৷ আমি যতোটা বুঝতে পারি ওর কথা ৷ বলি, তোমার ভাই না খাইলে খাওয়াইয়া লও ৷ কি হইসে ৷ ভাত দিছে না তারে? না ছার, হেতে ত' গরে আছে? আমি রেগে গিয়ে বলেও ফেললাম, তারে কী বাড়িত গিয়া ভাত খাওয়াইয়া আইতে অইবো নি? স্কুলে আইছেনা কেরে? ছোটো মেয়েটি যতটুকু পারে বুঝিয়ে বলল, ভাত খাইছেনা ছার ৷ এলাইগা স্কুলে আইত পারেনা ৷ আমি সম্বিত ফিরে পেলাম ৷ বুঝলাম ব্যাপারটা ৷ একটা পলিপ্যাক যোগাড় করে রান্নার মহিলাদের বলে ওর ভাইয়ের জন্যে ভাত তরকারির ব্যবস্থা করে পাঠালাম ৷ শিক্ষকতার জীবনে এমন বহু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় ৷ অনুভবের হৃদয় লাগে ৷ শুধুমাত্র চাকরি করতে গেলে এইসব যন্ত্রণা চোখে পড়েনা ৷
Saturday, May 20, 2017
বার্তা
আগামীকল্য গোলোকস্থ বাণিজ্যদপ্তরের প্রধানা অধিশ্বরী শ্রীমতী লক্ষ্মীদেবী কমলা তাঁর ধনভান্ডারের সুবর্ণকলস লইয়া সিন্ধুজল ( মর্ত্যের ফেনবতী নদী) হইতে উত্থিত হইবার দিনক্ষণ পূর্বাহ্নেই পঞ্জীকৃত হইয়া আছে ৷ এতোদ্দেশে দেবীর অনুগত ও টঙ্কাপ্রসাদার্থী বণিকগণ পূর্বাহ্নেই নদীতীরবর্তী ভূতপূর্ব চরভূমিতে সাতিশয় আগ্রহে শিবির স্থাপন করিয়া বিগত তৃতীয় দিবসাধিক কাল যাবত তথায় অবস্থান করিতেছেন ৷ অপরদিকে ফেনবতী নদীর দুই তীরবর্তী জনপদের শ্রীশ্রী ব্রহ্মানন্দ গিরি মহারাজের আশীর্বাদধন্য মনুর সন্তানবর্গ এতদিন যে ' ওই পারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস ' এইরূপ বিলাপ করিয়া আক্ষেপ করিতেছিলেন তাহা প্রশমনের সুবর্ণ সুযোগ প্রাপ্তির আশায় পরস্পর বিপরীত তীরবর্তী জনপদে পদার্পন করিয়া চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন করিবার প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছেন ৷এবম্বিধ বার্তা গত সায়াহ্ণে দেবরাজ ইন্দ্রের দপ্তরে পৌঁছাইবামাত্র ইন্দ্রপ্রস্থে সাজ সাজ রব পড়িয়া গিয়াছে ৷ মহারাজ ইন্দ্রদেবের নির্দেশ ইতিমধ্যে অস্ত্রাগার হইতে কয়েক শকট বজ্র নামক মিসাইল রওনা হইয়া গিয়াছে ৷ স্বর্গভূমির জলসম্পদ দপ্তরের প্রধানাধিপতি বরুণদেবকে তলব করিয়া প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়াছেন ইন্দ্রদেব ৷ স্বর্গের গোলোকধাম ও নন্দনকাননকে সমুহ আক্রমন হইতে রক্ষা করার লক্ষে বিদ্যুৎসকলকে ইতিমধ্যে মর্ত্যলোকের কাজকর্ম গুটাইয়া তথায় ব্যুহরচনার কাজে নিয়োজিত করা হইয়াছে ৷ সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদে জানা গিয়াছে ফেনবতী নদীর উজানে ও উত্তরাংশে বজ্র নিক্ষেপসহিত আগামীদিবসে তাঁহার পার্বন হইলেও রাজাদেশ শিরোধার্য মনে করিয়া বরুণদেব নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁহার কর্মতৎপরতা শুরু করিয়া দিয়াছেন ৷ ফলে আগামী দিবসে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ যারপর নাই ক্ষতির সম্মুখীন হইবেন বলিয়া আশঙ্কা করিতেছেন ৷
Friday, May 19, 2017
শিক্ষক সমাচার
যথার্থ শিক্ষকের পাওয়ার কিছুই থাকে না যদি সমাজ না দেয় ৷ আর সমাজেরও এমন কোন জাবেদা খাতা নেই যেখানে যথার্থ শিক্ষকের প্রতিদিনের ক্ষরণ লিপিবদ্ধ থাকে ৷আজীবন দহনতৃপ্ত শিক্ষক দিনান্তে কিছুই চান না ৷ কামনাহীন প্রস্থানপ্রস্তুতি নেন ৷ আশা করেন শেষশিখায়ও যেন সন্ততিপ্রতিম শিক্ষার্থীর জন্যে উৎসর্গায়ন হয় ৷ আর শেষগমন হয় যেন আজন্ম শিক্ষার্থীর মতো স্বীয় শিক্ষকগণের পদাঙ্কধূলিতে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম ও প্রাণায়ামের মুগ্ধমুদ্রায় ৷
Wednesday, May 10, 2017
অন্য অশোক
গত পরশুদিন সাব্রুম বইমেলায় আয়োজন করা হয়েছিল কবি সম্মেলনের ৷ অনুষ্ঠান শুরুর আগে কবিদের নিয়ে বসেছিলাম আমাদের প্রিয় দাদা অশোক বসাকের দোকানে ৷ ইংরেজীতে ভাষান্তর করে তাঁর দোকানের নামে একটা মুন্ডমাল শব্দ সবাই মজা করে ব্যবহার করে ৷ ABCD অর্থাৎ অশোক বসাকের চায়ের দোকান ৷ আবার তাঁর দোকানের ল্যান্ড ফোন নম্বরও মজাদার সংখ্যার ৷ আমার বড়ো ছেলে রুশো এবং তার কিছু বিটকেল বন্ধু মিলে স্কুলে পড়ার সময় আমাদের ল্যান্ড ফোন থেকে অশোক জ্যেঠুর চারশো বিশ নম্বরে ফোন করে তাঁকে জ্বালাত ৷ আমাদের অশোকদাও বিষয়টা স্পোর্টিংলিই নিতেন ৷ জেনেছিলাম এরকম অনেক দুষ্টু ছেলেই এই মজাটা নিত ৷ তাঁকে খেপাতে না পারায় একসময় তারা রণে ভঙ্গ দেয় ৷ যাই হোক এই ছোট্টো মহকুমা শহরের ধমনীতে এই দোকানটা অক্সিজেন জুগিয়ে চলেছে ৷ ABCDকে সাব্রুমের কফি হাউস বা মিনি প্রেসক্লাবও বলা যেতে পারে ৷ আমরা টুকটাক লেখালেখি করি, অনেকেই লেখার রসদ এখান থেকেই পেয়ে যাই ৷ আড্ডা দিতে বসে হঠাৎ একটা সংবাদের ক্লু পেয়ে কোনো তরুণ সাংবাদিক বাইক নিয়ে ধাঁই কিরি কিরি বেরিয়ে গেলেন সংবাদশিকারে ৷ তাছাড়া তাঁর দোকানের রসগোল্লা বিখ্যাত ৷ যাঁরা একবার এর স্বাদ একবার পেয়েছেন তাঁকে বার বার টানবে এই রসগোল্লা ৷ কোথায় লাগে বাগবাজার! বাইরে থেকে যাঁরা কার্যকারণে সাব্রুমে এসে এ দোকানের রসগোল্লার স্বাদ নিয়েছেন তিনিই এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ৷ অনেক বিখ্যাত লোক অশোকদার রসগোল্লার প্রেমে মজেছেন ৷ তার রেকর্ড অশোকদার কাছে আছে ৷ ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডায়ও অশোকদা বিরক্ত হন না ৷ সামনের বারান্দায় একটা টেবিল আর চারটে চেয়ার বরাদ্দ রয়েছে আড্ডারুদের জন্যে ৷ দোকানের সামনে কদিন আগেও মাঝারি সাইজের একটা আমগাছ ছিল ৷ জাতীয় সড়কের কলেবর বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় গাছটা উন্নয়নের যূপকাষ্ঠে নিবেদিত হয়েছে ৷ ফলে বিকেলের দিকে দোকানটায় পশ্চিমের রোদের আক্রমণ ঘটে ৷ আড্ডাশিল্পীদের গায়ে যাতে রোদ না লাগে তার জন্যে ঢাউস এক সামিয়ানা কাম পর্দা তৈরি করেছেন ৷ বিকেলের দিকে সেটা ছাদের কোণ থেকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দেন ৷ বোঝা যায় তিনি অন্তর থেকে সংস্কৃতিকে লালন করেন ৷ শুনেছি ছাত্রাবস্থায় তিনি ছিলেন স্কুলের এন সি সির ডাকসাইটে ট্রুপ কমান্ডার ৷ তখন এ মহকুমায় একমাত্র হাইস্কুলটি ছিল সাব্রুমেই ৷ কাজেই সে সময়ে তরুণদের লিডার ছিলেন তিনিই ৷
যে কথাটা বলছিলাম ৷ এদিন বিকেলবেলা আকাশটা গোমড়ামুখো থাকায় অনুষ্ঠানটা শুরু হতে দেরি হচ্ছিল ৷ মেলার মাঠে খোলা আকাশের নিচে বসাও যাচ্ছিল না ৷ অন্য মহকুমার কবিরা এসেছেন ৷ কোথায় নিয়ে বসাই ৷ এতোজনকে নিয়ে দাদার দোকানে বেশিক্ষণ বসে থাকাও ঠিক হবে না ৷ তাঁর ব্যবসার ক্ষতি হবে ৷ আমাদের ফিসফিস আলোচনা হলেও তাঁর কানে গেল ৷ এগিয়ে এসে বললেন, ছাদে চলে যাও ৷ উঠতে একটু কষ্ট হবে ৷ বলে তিনি নিজেই সবাইকে ছাদে পৌঁছে দিয়ে বসার চেয়ার পেতে দিয়ে তবে নিচে নামলেন ৷ এই হলেন আমাদের অশোকদা ৷ তাঁর দোকানের ছাদে প্রথমবার উঠে সাব্রুম শহরের মেঘমাখা আকাশটা দেখে ভাবছিলাম ব্যবসায়ী দাদা অশোক বসাকের হৃদয়টাও কী এমনই আর্দ্র!