Monday, July 1, 2019

ঝ ড়

ঝড়

মার কাছে জবাবদিহি করতে করতে জেরবার ৷ একটা ভয়ংকর অপরাধ বোধহয় সে করে ফেলেছে ৷ সংসারটা শুরু না করতেই যেন বজ্রাঘাত ৷ আত্মজনও এতো পাষন্ড হয়?  তার আশ্রয়ের জায়গাটা কোথায়?  নিরাপত্তা কী আছে?
বল বল কে করেছে তোর এ দশা?  আজ তার উপর মারধরও করা হয়েছে ৷ মানসিক আর শারীরিক নির্যাতনে মনোবল ভেঙে গেছে ৷ বলা যায় কী এ পাপের কথা!
কদিন ধরেই ক্রমশ বিষন্নতা গ্রাস করছিল তাকে ৷ ঘরের থেকে বের হতনা বিশেষ একটা ৷ হলেই সবার চোখ পড়ত তার দিকে ৷ আর কটু কথার বান ডাকত ৷ আর মা সময় করে অনবরত জেরা করত ৷ সে নিরুত্তর থাকত ৷
আর সহ্য হয়না ৷ নিজের চারদিকে একটা ঘোর অন্ধকারের বলয় তৈরি ৷ হাত-পা ছুঁড়ে সে চায় বলয়টা ভাঙতে ৷ পারেনা ৷ পেট মোচড় দিয়ে বমির দলা উঠে আসে ৷ বমির শব্দ হলে মার খিস্তি বেড়ে যায় ৷
ঘরের এমাথা থেকে সেমাথা একগাছা নাইলন দড়ি টানা বাঁধা ৷ টুকটাক কাপড়চোপড় ঝুলিয়ে রাখার জন্য ৷ ধীরে ধীরে উঠে দড়িটা খুলে একমাথা আবার সিলিং ফ্যানের ফাঁস দিয়ে লাগাল ৷ পড়ার টুলটাকে এনে ঝোলানো দড়ির নিচে  রাখল ৷ তারপর উঠে দাঁডাল টুলটার উপর ৷ দড়িটাকে টেনে গলা সমান মেপে একটা মালার মতো করে একটা গিঁট দিয়ে গলায় পরে নিল ৷ বাড়িতে ঠাকুরের ফটোটাতে প্রায়ই মালা পরাত ৷ নিজে কখনো গলায় মালা পরেনি ৷ মালার মতো দড়ির বৃত্তে একটা নিষ্পাপ শিশুর মুখ ভেসে ওঠে ৷ অনেকটা ফটোর নাড়ুগোপালের মতো ৷ কিন্তু ভীষণ সন্ত্রস্ত সে মুখ ৷ তার পেছনে জল্লাদের মতো খাঁড়া নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে এক ভয়ংকর মূর্তি ৷  যেন এক্ষণই শিশুটার গায়ে কোপ বসাবে ৷ মুখটা হুবহু তার বাবার মতো ৷
শিশুটিকে রক্ষা করার জন্যে সে হুঙ্কার দিয়ে সামনে ঝাঁপ দিল ৷ পায়ের ধাক্কা লেগে টুলটা কাত হয়ে পড়ে গেল ৷ তার সামনে একটা প্রচন্ড ঝড়ের রাতের দৃশ্য জেগে উঠছে ৷ ঝড় তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে কোথাও ৷

No comments:

Post a Comment