Saturday, May 20, 2017

আঁধারবিনাশিনী হে


আজ সন্ধ্যেটা তোমার জন্যেই রেখে দেবো, রাই !
সূর্যাস্তের পেরিয়ে যাওয়া পশ্চিম সরোবর থেকে
লোককাব্যের ঘরোয়া বউটি সেজে তুমি যখন
চাটাবাতি হাতে উঠোনের এমাথা থেকে সেমাথা
দ্রুত হাত চালিয়ে যাবে এক একটি তেলসিক্ত
সলতের প্রাণ প্রতিষ্ঠার জন্যে,চক্ষুদানের জন্যে৷
আমি বুক ভরে দেখবো তোমার দীপদানের উচ্ছ্বাস
হাতের প্রদীপের মৃদু আলোয় তোমার আরক্ত মুখ
হাওয়ার ঝাপটায় বুক কাঁপা বাতিটা আলোছায়ার
সিল্যুএট তৈরি করবে তোমার মসৃণ মুখমন্ডলে
আধফোটা তোমার চোখের পাতা, তোমার নাকের
তিলফুল, কপালের ওপর দু একটা দলছুট চুল
কানের দু পাশে ঝুলে পড়া উজ্জ্বল ঝুমকো দুল
মৃত্যুঞ্জয়ী সিঁদুরে ঠোঁটের রঙে নেয়ে উঠে পবিত্র
প্রশান্তিতে বিরল বার্তা বইবে সুখময় গার্হস্থ্য দিনের
আলো জ্বালাতে জ্বালাতে তোমার যে চলনমূর্ছনা
তোমার যে প্রাঙ্গনপরিক্রমা, তা ওই কৃষ্ণকায়া নগ্নিকা
শবারোহীনীর লুকানো বীররসের ছটার মতো ছিটকে
উঠবে আজ এই মায়াসন্ধ্যার আঁধারবিনাশী বন্যায়
আমি সেই বানডাকা জোয়ারে ডুবে যেতে চাই আজ
তোমার ঘোমটার লালপাড়ে ডুবে যাওয়া আবছা মুখে
কোনো বরাভয় মুদ্রা কী লুকিয়ে রেখেছো, সহেলি রাই !
আমি তাও দেখবো এ সন্ধ্যায় তুমুল তোলপাড় করে হে

No comments:

Post a Comment